বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০ ২০
মৌলভীবাজার ডেস্ক
১৭ অক্টোবর ২০ ২০
১:৫৭ অপরাহ্ণ
কুলাউড়ায় বৃদ্ধা মাতাকে বেধড়ক পিটিয়েছে পাষন্ড ছেলে, থানায় জিডি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় (৬৫) বছর বয়সী সাহারা বেগম নামে এক বৃদ্ধা বৃদ্ধা মাতাকে বেধড়ক পিটিয়েছে পাষন্ড ছেলে বখাটে সাইদুল হাসান ওরফে শিপন। এ সময়  সহজ সরল স্বভাবের অধিকারিনী এই বৃদ্ধা মা গুরুতর আহত হন। যে ছেলেকে জন্ম দিলেন লালনপালন করে বড় করলেন ওই ছেলের হাতে মার খেয়ে গুরুতর আহত হয়ে বিচার পেতে কান্না জড়িত অবস্থায় স্থানীয় কুলাউড়া থানায় হাজির হয়ে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইয়ারদৌস হাসানের স্বরনাপন্ন হয়ে বিচার প্রার্থী হন। একপর্যায়ে ছেলের বেধড়ক পিটা খেয়ে যেভাবে আহত হন পুরো ঘটনার বিবরণ বলে ছেলের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে থানায় একটি জিডি (নং ৮২৮/ তারিখ-১৯/০৯/২০২০) করেন। পরে থানায় এই বৃদ্ধা মা অজ্ঞান হয়ে পড়লে ওসির সহযোগিতায় থানার নারী পুলিশ দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। ছেলে মাকে পিটিয়েছে এমন ঘটনার খবরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বেশ আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

থানার জিডি সূত্রে জানা যায়, ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুরের দিকে পৌর শহরের মাগুরাস্থ বাসায় আলমিরার ড্রয়ার খোলা দেখে অকথ্য ভাষায় শিপন তার মাকে গালিগালাজ করতে থাকে। এসময়  গালিগালাজ করতে বাধা দিলে শিপন উত্তেজিত হয়ে তার মায়ের শরীরে কিল,গুষি,লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম করে।ঘটনার সময় মায়ের চিৎকার শুনে পাশ্ববর্তী প্রতিবেশী লোকজন দ্রুত এসে সাহারা বেগমকে উদ্ধার করে।ঘটনাস্থলে পাশ^বর্তী লোকজন গেলে শিপন প্রকাশ্যে হুমকী দিয়ে বলে এঘটনার বিষয় থানায় কোন অভিযোগ দিলে মাকে খুন করে লাশ গুম করার হুশিয়ারী দেয়।

সাহারা বেগম অভিযোগে বলেন, শিপন অত্যান্ত খারাপ ও উগ্র প্রকৃতির লোক। সবসময় আমার অবাধ্য থাকে। যেকোন বিষয়ে আমার সাথে ঝগড়া শুরু করে দেয়। এঘটনার পর থেকে আমি চরম আতংকের মধ্যে ও নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি। আহত হয়ে আমি কুলাউড়া হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি। এবং তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েছি। 

অভিযোক্ত সাইদুল হাসান সিপনের কাছে জানতে চাইলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলে বন্ধ পাওয়া যায়।    

কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ ইয়ারদৌস হাসান শিপন তার মাকে পেটানোর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

উল্লেখ্য, বখাটে সিপনের বাড়ি রাজনগর উপজেলায়। সে বশির উদ্দিন নামে এক ট্রাক চালকের পুত্র। বাবা নাকি অন্যত্রে আরেক বিয়ে করে ফেলে চলে গেছে। এই পাষন্ড কোন দিন তার বাবার পরিচয় মানুষকে দেয়নি। বরমচালের মানুষও কোন দিন দেখেনি এমনকি চিনেও না।  বরং সে মামার পরিচয়ে ধাপিয়ে বেড়ায়, পাষন্ড সিপন পড়ালেখায় মাধ্যমিকের গন্ডি পের হতে পারেনি। এছাড়াও মামার সাথেও খারাপ আচরণ করে সম্পর্ক নষ্ট। পাষন্ড সিপন নানার বাড়িতে চলে আসে বরমচাল। ওই সূত্রে সে বরমচালের বাসিন্দা  হিসেবে পরিচয় দিতে থাকে। আর এখন মাকে পিটিয়ে কুলাউড়ার বদনাম রটাচ্ছে বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছে। সে নাকি বরমচাল  নানার বাড়ি থাকে। নানার বাড়ি থেকেও তার মামা বের করে দিয়েছে বিভিন্ন অনিয়ম ও খারাপ আচরনের জন্য। বের করে দেয়ার পর কুলাউড়া শহরের মাগুরা বাড়া নিয়ে থাকে। কিন্তু  বাসার মালিকের সাথে খারাপ অচরনের কারনে এ পর্যন্ত এক বছরে ৫টি বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়েছে তাদের।  ঘটনার দিন ওই মাকে কুলাউড়া থানার নারী পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা না দিলে মৃত্যু হত ওই দিন পাষন্ড পুত্র মায়ের ধারে কাছেও যায়নি! 
 

সম্পর্কিত খবর

পুরানো খবর দেখার জন্য