শনিবার, এপ্রিল ৪, ২০ ২০
এজহার ডেস্ক
২৫ মার্চ ২০ ২০
৯:১৭ অপরাহ্ণ
সিলেটে ক্রাইম জগতে নারীদের  শক্তিশালী “সিন্ডিকেট”

এ টি এম তুরাব:: সিলেটে অপরাধ জগতে দিন দিন নারীদের আনাগোনা বেড়েই চলছে। নারীকেন্দ্রিক অপরাধ নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। রয়েছে তাদের ‘শক্তিশালী সিন্ডিকেট’। মাদক সেবন, বিক্রি, চুরি-ছিনতাই, দেহ ব্যবসা প্রতারণা ইত্যাদি অপরাধে সক্রিয় নারী। তারা নতুন করে জাড়াচ্ছে ইয়াবা পাচার ও ব্যবসায়। সে দৃশ্যপটের অনেকখানি পরিবর্তন এসেছে। সম্প্রতি সিলেটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে অপরাধে জড়িত এরকম বেশ কয়েকজন নারীর তথ্য এসেছে। রাজনীতির আড়ালে সব অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করেন গ্রুপ প্রধানরা। আর একেক সিন্ডিকেটের একেক নারী নিজেরাও সিন্ডিকেট প্রধানের দায়িত্ব পালন করছে। 
নগরীতে এমন অনেক নারী রয়েছে যারা বিভিন্ন অপরাধচক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছে। আলোচিত যুব মহিলা লীগ থেকে বহিষ্কৃত শামীমা নূর পাপিয়াকে নিয়ে যখন সারা দেশে তোলপাড় ঠিকই তখনই সিলেটে পাপিয়ার মতো না হলেও এমন অনেক নারী অপরাধীরা আছে। অভিজাত আবাসিক এলাকায় বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ভাড়া নিয়ে কয়েকজন নারী নিরাপদে অপরাধ কর্ম পরিচালিত করছে। কখনো কখনো কেউ সামাজিক কর্মকা-ের আড়ালেও চালাচ্ছেন এসব ব্যবসা। গার্ডেন টাওয়ারও বারবার আলোচনায় এসেছে। সিলেটের নারী অপরাধীরা কেউ কেউ আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত। মাঝে মধ্যে ওই এদের অনেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়লেও বেশিদিন কারাবাস করতে হয়নি। গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিলেটের অপরাধী নারীদের ভয়ঙ্কর রূপ ইতোমধ্যে পরিষ্কার হয়েছে। পুলিশ অপরাধ ঠেকাতে অনেক নারীদের নজরদারীর মধ্যে রেখেছে। দৈনিক জালালাবাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে সিলেটের নারী অপরাধীদের লোকচোখের অন্তরালের নানা অজানা তথ্য। 
নারী নেত্রী মিনারা ও হেনা :
মিনারা বেগম। বাড়ি সিলেটের জৈন্তাপুরে বনপাড়া দক্ষিণ গ্রামে। স্বামী নাম আজিজুর রহমান। আরেকজন হেনা বেগম। স্বামীর নাম মোহাম্মদ হোসেন। বাড়ি সদর উপজেলার টুকেরবাজার হলেও বর্তমানে নগরীর মীরবক্সটুলায় বাসা। মিনারা সিলেট জেলা যুব মহিলা লীগের অর্থ সম্পাদিকা ও হেনা সিলেট জেলা মহিলা পার্টির সাধারণ সম্পাদিকা। দু’জনই নানা ঘটনায় একাধিকবার আলোচিত হয়েছেন। তাদের নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় রয়েছে অসংখ্য স্ক্যান্ডাল। সর্বশেষ গেল বছরের ২৬ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিনারা ও হেনার অসামাজিক কার্যকলাপ ফাঁস হয়। তাদের অপরাধ আস্তানায় হানা দিয়ে ৩ নারীসহ ১৬ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এঘটনায় পরদিন সোমবার জৈন্তাপুর থানা পুলিশ ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করে।   
সুত্র জানায়, মিনারা ও হেনা, যৌবন পেরিয়ে এখন মধ্য বয়সী। পাপ রাজ্যে দু’জনের অনেক আগে থেকে বিচরণ। হয়েছেন অনেকবার পত্রিকার শিরোনাম। তাদেরকে নিয়ে নিজ নিজ দলে ক্ষোভের অন্ত নেই। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন থেকে নগরী ও শহরতলীতে তারা অপরাধ কর্মকা-ে জড়িত। সর্বশেষ দু’জনের রঙ্গশালা ছিলো শহরতলীর ঘাটের ছটিতে। সেখানে ফ্ল্যাট বাসা নিয়ে নিজের আস্তানা গড়ে তুলে দাপুটের সঙ্গে করেন অসামাজিক কাজ। শহর থেকে মোটরসাইকেল করে যুবকরা এ বাসায় আসতো। চলতো ইয়াবা সেবন, বিক্রি ও অসামাজিক কার্যকলাপ। সেখানে রাতবিরাত নেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটিয়ে ওই যুবকরা ভোরে চলে যেতো। এলাকাবাসী এর প্রতিবাদ করলে মিনারা’র বাহিনীর সদস্যরা তাকে হুমকি-ধমকি প্রদান করতো। 
অভিযোগ আছে, মহিলা যুবলীগ নেত্রী মিনারা ও মহিলা পার্টির নেত্রী হেনা বাড়িতে কাজের কথা বলে জৈন্তাপুরের বনপাড়া দক্ষিণ গ্রামের আবদুর রশিদের মেয়ে লিমা বেগমকে নিয়ে আসেন। এরপর লিমাকে জোরপূর্বক দেহ ব্যবসায় বাধ্য করে খদ্দেরের কাছে দিতেন। সে এর প্রতিবাদ করলে কেড়ে নেয়া হয় লিমার মোবাইল ফোন। এরপর থেকে লিমার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সম্প্রতি গভীর রাতে সেই আস্তানায় হানা দেয় পুলিশ। এসময় ১৬ খদ্দেরসহ যুব মহিলা লীগ নেত্রী মিনারা, মহিলা পার্টির নেত্রী হেনা ও লিমা নামের এক তরুণীকে গ্রেফতার করে। উদ্ধার করা হয় মাদকসহ বিভিন্ন  জিনিসপত্র। এঘটনায় ৫৪ ধারায় তাদেরকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হলে বিচারক আসামীদের কারাগারে পাঠান। 
এর আগে ২০১৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী দুপুর ২টায় নগরীর জিন্দাবাজার এলাকার ওয়ানওয়ে রাস্তা দিয়ে রিকশা নিয়ে যেতে চাইলে মিনারাকে বাধা দেন ট্রাফিক কনস্টেবল দেলোয়ার। তখন নিজেকে জেলা যুব মহিলা লীগের অর্থ সম্পাদিকা পরিচয় দিয়ে ওই ট্রাফিক পুলিশের ওই সদস্যের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এক পর্যায়ে মিনারা কনস্টেবল দেলোয়ারকে চড় মারেন। পরে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তবে এ কৃতকর্মের জন্য মিনারা ক্ষমা চাইলে পুলিশ তাকে রাতে ছেড়ে দেয়। 
জাপা নেত্রী শিউলী আক্তার :
দিলশানারা বেগম তার ছদ্মনাম। এরকম আরো অনেক নাম তার আছে। বেশির ভাগ এই নামটি তিনি ব্যবহার করেন প্রতারণার ক্ষেত্রে। তার আসল নাম শিউলি আক্তার। তিনি জাতীয় মহিলা পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক। বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার কুনারই গ্রামের মৃত তৌহিদ উল্লাহর মেয়ে তিনি। বর্তমানে শিউলি নগরীর মেন্দিবাগস্থ গার্ডেন টাউয়ারের ৮ তলার ৪০৮৬ নং ফ্লাটে বসবাস করেন। 
শিউলি বিশ্বনাথ থেকে একসময় চলে আসেন সিলেটে। পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন নগরীর বিভিন্ন এলাকায়। সেই সময়ে নেশার ঘোরে ঢুকে পড়েন শোবিজ অঙ্গনে। সিলেটী নাটক, মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেন অনেক দিন। পাশাপাশি শুরু করেন রাজনীতি। এতে রাতারাতি পরিচিতি পান। বার বার তাকে বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছে। গত কয়েক মাস আগে লন্ডনীকন্যা সেজে বিয়ের নামে প্রতারণার অভিযোগ ওঠে জাপা নেত্রী শিউলি আক্তারের বিরুদ্ধে। নিজেকে লন্ডনীকন্যা পরিচয় দিয়ে বিয়ের নামে এক যুবকের সাথে প্রতারণা করে নগদ কয়েক লক্ষ টাকা ও সোনাগহনা আত্মৎসাত করার অভিযোগ ওঠে। এনিয়ে জালালাবাদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশ হয়। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিউলি আক্তার। 
নারী পকেটমার পপি ও স্বপ্না : 
সীমা বেগম পপি। বয়স বেশী নয় ২৫ কিংবা ২৬ বছর। তার সহযোগী শামীমা বেগম স¦প্না। তার বয়স ৩৫ বছর। দুই জনেরই বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বামুরা গ্রামে। দু’জনই বিবাহিত। কিন্তু এখন স্বামীর ঘরে নেই। তারা দু’জনই দুধর্ষ নারী অপরাধী। তারা বসবাস করে নগরী উপশহর এইচ ব্লক বিলের পার এলাকায়। দু’জনের পেশা চুরি। নগরীর জিন্দাবাজার ও বন্দরবাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে পপি ও স্বপ্না পরিচিত মুখ।
দু’জন সকাল হলেই বোরকা পরে নগরীর অলিগলি পথের পাশাপাশি বিভিন্ন মার্কেটে দেয় ঢুঁ। ঘুরে বেড়ায় সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে। আর সুযোগ পেলেই ছিনিয়ে নেয় মোবাইল কিংবা ভ্যানিটি ব্যাগ। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। এরপর জেল থেকে বেরিয়ে ফের পুরো পেশায় যুক্ত হয়। বর্তমানে তারা দু’জনই বাহিরে রয়েছে। সর্বশেষ গত মাসের শেষ সপ্তাহে রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চুরি করতে গিয়ে জনতা আটক করে পুলিশে কাছে হস্তান্তর করে।  
পুলিশ জানায়, সীমা-স¦প্না’র বিরুদ্ধে সিলেটের বিভিন্ন থানায় প্রায় শতাধিক মামলা রয়েছে। তারা শুধু চোর কিংবা ছিনতাইকারী নয়। তারা অসামাজিক কাজ, মাদক বিকিকিনিসহ নানা ঘটনার সঙ্গে জড়িত। নগরীর দক্ষিণ সুরমায় রয়েছে মহিলা চোর দলের আরেকটি সিন্ডিকেট। ওই সিন্ডিকেটের সঙ্গে রয়েছে তাদের সম্পৃক্ততা।
সুত্র জানায়, গত বছরের ৩০ মে  নগরীর জিন্দাবাজার থেকে পপি ও স্বপ্নাকে আটক করে পুলিশ। তখন তারা পুলিশের কাছে নিজেদের পরিচয় দেয় সীমা ও কোহিনূর বলে। পরদিন পুলিশ প্রসিকিউশনের মাধ্যমে আদালতে প্রেরণ করে। 
একই বছর ৩০ জুন  নগরীর জিন্দাবাজার সিটি সেন্টারের সামনে থেকে স্বপ্না ও পপিকে আটক করেছিলো পুলিশ। থানা হাজতে তাদেরকে এক রাত আটকেও রাখা হয়। পরে রহস্যজনক কারণে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত কোন মামলা হয়নি। প্রসিকিউশনের মাধ্যমে তাদেরকে আদালতে হাজির করা হলে সেখান থেকে সহজেই বের হয়ে আসে পপি ও স্বপ্না।
সুত্র মতে, পপি ও স্বপ্ন পুলিশের হাতে আটকের পর তাদের সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যদের খবর দেয়া হয়। তখন তারা থানা এসে সংশ্লিষ্ট পুলিশকে ম্যানেজ করা চেষ্টা চলে। চলে মোটা অংকের টাকার রফাদফা। এরপর টাকার বিনিময়ে কখনও ছেড়ে দেয়া হয় আবার কখনও প্রসিকিউশনের মাধ্যমে আদালতে প্রেরণ করা হয় যাতে তারা সহজে বেরিয়ে আসতে পারে। 
নারী পকেটমার কমলা :
সিলেটের অপরাধ সা¤্রাজ্যের রাণী কমলা। চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে সব অপরাধে তার বিচরণ। নগরীতে সে নারীদের নিয়ে গড়ে তুলেছে ছিনতাইকারীদের একটি চক্র। আর এ চক্রের সদস্যরা ছিনতাই, চুরিসহ দেহ ব্যবসায় জড়িত। সম্প্রতি কমলা বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ ঢাকার নিউ মার্কেট থানা পুলিশের হাতে আটক হয়। বর্তমানে কমলা জেল রয়েছে। তার বিরোধে মাদক, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সর্বশেষ 
কমলা’র বাড়ি সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রাণীগঞ্জের নাসির উদ্দিনের স্ত্রী ও বর্তমানে শহরতলীর কানিশাইলে তার নিজস্ব বাসায় বসবাস করে।  
পারুল বেগম : 
নগরীর চৌখিদিঘীতে স্বামী বেলালের চা-স্টলে সে নিজেও ব্যবসা করছেন। আর এই চা-স্টল ঘিরেই গড়ে ওঠেছে অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানা। চা-স্টলের পেছনে থাকা একটি ঘরে বিভিন্ন সময় সংরক্ষণ করা হয় চোরাই ও চোরাচালানের মালামাল। শুধু চা-স্টলই নয়, বেলাল-পারুলের একটি কসমেটিক্স’র দোকানও রয়েছে চৌকিদিঘি এলাকায়। এই দোকান ঘিরেও আছে চোরাই পণ্য বিকিকিনির গুঞ্জণ।
এদিকে সিলেটে দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ভয়ংকর নারী অপরাধীদের তালিকা। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন নারীকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণও করেছে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। এছাড়াও গত ২৩ ফেব্রুয়ারী রাতে কুমিল্লা আলেখারচর এলাকায় ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই নারীকে আটক করে পুলিশ। তারা হলো সিলেটের বিশ্বনাথের উপজেলার দোলন মিয়ার স্ত্রী সুমী আক্তার (২৩) ও ওসমানীনগর উপজেলার পুরানসতপুর গ্রামের সুরুজ আলীর স্ত্রী লিপি বেগম (২৪)। 
গত ৭ ফেব্রুয়ারী হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে ৬১ হাজার পিছ ইয়াবাসহ এক নারীকে পুলিশ আটক করে। আটককৃত ইয়াবা রাণী সাবিনা আক্তার (২৪) সিলেটের বিশ্বনাথের মাদক স¤্রাট তবারক আলীর স্ত্রী। জব্দকৃত ইয়াবার মূল্য ১ কোটি ৮১ লাখ টাকা বলে জানায় পুলিশ। 
গত ২০ জুলাই সিলেটের রেলওয়ে স্টেশনের টিকেট কাউন্টারের সামনে থেকে ৩ হাজার ৮০৫ পিস ইয়াবাসহ দুইজন নারীকে আটক করে র‌্যাব-৯। আটককৃতরা হলো জকিগঞ্জ উপজেলার উত্তরকুলের আব্দুল জাব্বারের মেয়ে নাজমিন বেগম তামান্না (২১) ও একই উপজেলার গণিপুরের আব্দুর রশিদের মেয়ে ও আলমগীরের স্ত্রী শহিনুর আক্তার (২৮)।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনা (মিডিয়া ও কমিউনিটি সার্ভিস) মো. জেদান আল মুসা বলেন, নগরীতে অপরাধ-অপরাধীদের ধরতে পুলিশের অভিযান প্রতিদিন চলছে এবং গ্রেফতারও করা হচ্ছে। এসএমপি মাদক, জুয়া, অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে রয়েছে। 

Related Posts