মঙ্গলবার, জুন ২, ২০ ২০
লেখালেখি ডেস্ক
৪ এপ্রিল ২০ ২০
১২:০ ২ পূর্বাহ্ণ
মহাবিপদে সমালোচনা বন্ধ করি, মানুষের পাশে দাঁড়াই: আলী ফজল মোহাম্মদ কাওছার 

নোভেল করোনাভাইরাস সমগ্র পৃথিবীর এক আতঙ্কের নাম।  সমগ্র পৃথিবী যেন অসহায় এই ভাইরাসের কাছে।  সব চিকিৎসাবিদ্যা যেখানে শেষ। ইতিমধ্যে বিশ্বের সকল শক্তিশালী দেশগুলোর অসহায়ত্ব স্বীকার করে নিয়েছে  যে ভাইরাসের কাছে।  এটা এমন একটি কঠিন ভাইরাস যার কারণে পৃথিবীর প্রায় সব শহর লকডাউন হয়ে গেছে। সব দোকানপাট অফিস-আদালত স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে।  মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। যাদের আর্থিক অবস্থা কিছু ভালো তারা ঘর থেকে বের না হলেও খেতে পারতেছেন। এই সময় সবচেয়ে বেশি কঠিন সমস্যার মধ্যে পড়ছেন মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত, ও নিম্নবিত্তরা।  যারা দিনে আনেন দিনে খান তারা খুব কষ্টে দিন কাঠাচ্ছেন।   তাদের পাশে দাড়িয়েছেন কিছু মানুষ যারা নিজেদের সামর্থ অনুযায়ী সাহায্য  করতেছেন।  অসহায় মানুষদের  বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী নিয়ে টাকা-পয়সা দিচ্ছেন। অনেকে নিরবে দিচ্ছেন  অনেকে আবার সেগুলো ফেসবুক বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ করতেছেন।  সেই ছবি তুলা কিংবা ফেইসবুকে দেওয়া নিয়ে অনেকে সমালোচনা করতেছেন। অনেকে বলতেছেন  হাদীস শরীফে আছে ডান হাত দিলে বাম হাত বুঝবেনা এরকম দান করতে হবে।  কথাটা যেরকম সত্য তেমনি বর্তমান সমাজে কিছু মানুষ দান করে  প্রচারণা চায়।  আবার বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী বিতরণের ছবি ফেসবুকে কিংবা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ করার ফলে অনেক মানুষ উৎসাহিত হচ্ছে। এর ফলে দাতা প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তির  সংখ্যা  বাড়তেছে। মনে করেন একটা ক্লাব যদি  ১০০০০ টাকার খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে এটি ফেসবুকে প্রচার করে এর ফলে  আর অনেক  ক্লাব উৎসাহিত হচ্ছে তারা দান করতেছে এতে অসহায় মানুষের উপকার হচ্ছে।  এতে কি  মন্দ কিছু হচ্ছে? অবশ্যই না। আবার অনেকে  দান করতেছেন আবার বিভিন্ন মাধ্যমে অন্যদের খোচা দিতেছেন।  বলতেছেন অমুক দান করতেছেন না অমুক রাজনীতিবিদ এমপি, মন্ত্রী দান করতেছেন না।  কিন্তু কেন? দান করে অন্য  মানুষকে খোচাতে থাকলে দান কি দান থাকলো। তবে সব জনপ্রতিনিধি সহ সমাজের সামর্থবান মানুষদের অসহায় মানুষের  পাশে দাড়ানো একান্ত প্রয়োজন। বাংলাদেশ সহ সমগ্র বিশ্বের মানুষ আমরা এখন মহাবিপদে আছি। তাই এখন একে অন্যের সমালোচনা বন্ধ করে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাড়াই। যারা বিভিন্ন সময় অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন কিংবা দাড়াবেন আপনারা সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে আপনাদের কার্যক্রম পরিচালিত করুন এবং যাদেরকে দিচ্ছেন তাদের ছবি প্রকাশ করবেন না, কারণ অনেকে আছেন যারা অসহায় হয়ে আপনাদের বিতিরণকৃত ত্রাণ নিতেছেন, তারা কিন্তু   শত কষ্টের মাঝে জীবন অতিবাহিত করলেও কারো কাছে হাত পাতেননা।  আমরা নিজেদের পাপের জন্য এই গজব অর্জন করেছি তাই আসুন আল্লাহ দরবারে তওবা করি। আর একে অন্যের পাশে দাড়িয়ে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করে করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির চেষ্টা করি। 

লেখকঃ কলামিস্ট, সিলেট।

সম্পর্কিত খবর

পুরানো খবর দেখার জন্য