বুধবার, মে ২৭, ২০ ২০
সিলেট ডেস্ক
২২ মে ২০ ২০
১১:০ ৭ অপরাহ্ণ
ওসমানীনগরে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, তবুও নেই সচেতনতা

শাহীন চৌধুরী,ওসমানীনগর :: সিলেটের ওসমানীনগরে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবুও সচেতন হচ্ছেন না স্থানীয় লোকজন। হাটবাজারগুলোতে মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। এমন অবস্থায় সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা। শুক্রবার (২২মে) পর্যন্ত উপজেলায় সাত জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ বছরের এক শিশু ও করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া এক রিকশা চালক রয়েছেন।

শুক্রবার দেখা গেছে, উপজেলার সর্বত্র দোকানপাট খোলা হয়েছে। ক্রেতাদেরও ভিড় বেড়েছে। কাপড়ের দোকানগুলোকে কয়েকশ লোক কেনাকাটা করছেন। সামাজিক দূরত্ব মেনে কাউকে কেনাকাটা করতে দেখা যায়নি। তাছাড়া অনেকে মুখে মাস্ক ছাড়াই বাজার করছেন। গত ১০ মে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় করোনাভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে উপজেলার বানিজ্যিক প্রান কেন্দ্র গোয়ালাবাজারের সব দোকানপাট, শোরুম, ব্র্যান্ডশপ, মার্কেট ও বিপণি বিতান বন্ধ রাখা হবে। কিন্তু সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন গোয়ালাবাজারের ব্যবসায়ীরা। তারা গোয়ালাবাজারে কাপড়সহ সব ধরণের দোকান খোলা রেখেছেন। এতে অবাক হয়েছেন ওসমানীনগরের আপামর মানুষ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৫ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসি আর ল্যাব থেকে ই-মেইলের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে জানানো হয় পল্লী বিদ্যুতের লাইন টেকনিশিয়ান তাজপুর বাজারের মশ্রব আলী কমপ্লেক্সের ভাড়াটি করোনা পজেটিভ। ১৬ মে দুপুরে উপজেলা প্রশাসন মশ্রব আলীকে কমপ্লেক্সকে লকডাউন করে এবং ঐ দিনই আক্রান্ত টেকনিশিয়ানের স্ত্রী ও ১১ বছরের ছেলের নমুনা সংগ্রহ করে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টিম। ঐ দিন তাজপুর কলেজ গেইটের পাশে দুলিয়ারবন্দে করোনা উপসর্গ নিয়ে গাজীপুর ফেতর ৫০ বছর বয়সী মারা যাওয়া এক রিকশা চালকেরও নমুনা সংগ্রহ করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। বুধবার দিবাগত রাতে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসি আর ল্যাব থেকে এই দুই করোনা শনাক্তের রিপোর্ট ই-মেইলের মাধ্যমে আসে।

এদিকে বৃহস্পতিবার ভোরে ও রাতে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাব থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নিকট পাঠানো ই-মেইল বার্তায় নতুন করে ওসমানীনগরের আরও দুইজন করোনা আক্রান্ত বলে জানানো হয়েছে। একজন উপজেলার সাদিপুর ইউপির ইব্রাহিমপুর গ্রামের কিন্তু তিনি জগন্নাথপুরের রাণীগঞ্জে ব্যবসা করার সুবাধে সেখানেই বসবাস করে আসছিলেন। গত ৩দিন আগে জ্বর নিয়ে তাঁকে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখান থেকে তার নমুনা সংগ্রহ করে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে পিসিআর ল্যাবে প্রেরন করা হলে বৃহস্পতিবার ভোরে তাঁর করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে সিলেটের শামসুদ্দিন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং অন্যজন পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান। আক্রান্ত লাইনম্যান উপজেলার খাশিকাপনে পল্লী বিদ্যুত অফিসের নিকটবর্তী একটি বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকেন। তিনি অবিবাহিত তার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায়।

এর পূর্বে গত ৩০ এপ্রিল প্রথম উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের রাইকদাড়া (নোয়াগাঁও) গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির করোনা সনাক্ত হয়। এর পর গত ৫ই মে ওসমানীনগরে ২য় করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়। আক্রান্ত ঢাকা ফেরত ২৪ বছর বয়সী তরুণ গোয়ালাবাজার ইউপির পূর্ব ব্রাহ্মণ গ্রামে বাসিন্দা। সর্বশেষ বুধবার রাতে ২জন ও বৃহস্পতিবার ২জন করোনা আক্রান্ত নিয়ে ওসমানীনগরে মোট ৭জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন।

সম্পর্কিত খবর

পুরানো খবর দেখার জন্য