সোমবার, এপ্রিল ৬, ২০ ২০
জাতীয় ডেস্ক
২৫ মার্চ ২০ ২০
১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
আজই মুক্তি পাচ্ছেন খালেদা জিয়া ?

দীর্ঘ কারাজীবন শেষে মুক্তি পাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে আজ বুধবারই তার মুক্তি হতে পারে– এমন আভাস পাওয়া গেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে।

খালেদা জিয়ার কারামুক্তি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, তাকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলো শেষ করতে না পারায় মঙ্গলবার তাকে মুক্তি দেয়া সম্ভব হয়নি। তিনি আভাস দেন, এ প্রক্রিয়া আজ শেষ হতে পারে।

এর আগে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খালেদা জিয়াকে যত দ্রুত সম্ভব মুক্তি দেয়ার জন্য প্রক্রিয়া চলছে এবং এটি যে কোনো সময় ঘটতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এর আগে বলেছিলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতটি তারা পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করে তারা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দণ্ডাদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে মুক্তি দেয়ার এ সিদ্ধান্ত হয়।

প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজই মুক্তি পেতে পারেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তবে মুক্তি পাওয়ার পর বিদেশে যেতে পারবেন না। পাশাপাশি বাসায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে পারবেন।

মঙ্গলবার বিকালে হঠাৎ করেই ডাকা এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, মানবিক দিক বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুই শর্তে তাকে মুক্তি দেয়ার এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। খালেদা জিয়া বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন এবং বিদেশ যেতে পারবেন না- এমন শর্তে তাকে মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এদিন বিকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল  বলেন, আইনমন্ত্রীর সুপারিশ আমরা পেয়েছি। এটি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। তার সিদ্ধান্ত পাওয়ার পরই আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।

এদিকে রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব শহীদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তির ফাইল হাতে পেয়েছি। এ বিষয়ে একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করব। মন্ত্রীর অনুমোদনের পর সেই ফাইল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদনের পর তাকে মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। এর পরই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন।

খালেদা জিয়ার মুক্তির সিদ্ধান্ত হওয়ার পর পরই দফায় দফায় বৈঠক করেন দলের সিনিয়র নেতা ও পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের সদস্য ও দলের নেতাদের সঙ্গে লন্ডনে অবস্থানরত খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান কথা বলেন।

মুক্তি পাচ্ছেন- এমন খবর পাওয়ার পর গুলশানে অবস্থিত খালেদা জিয়ার বাসা (ফিরোজা) পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করা হয়।

সন্ধ্যায় গুলশান কার্যালয়ে বসে স্থায়ী কমিটির বৈঠক। বৈঠক শেষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির খবরে নেতাকর্মীরা সাময়িক স্বস্তি পেয়েছেন। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি বিবেচনা করে নেতাকর্মীদের হাসপাতালে ভিড় না করার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে খালেদা জিয়ার মুক্তির সিদ্ধান্তের খবর পাওয়ার পর করোনাভাইরাস আতঙ্ক উপেক্ষা করে নেতাকর্মীদের অনেকে ছুটে যান হাসপাতালে। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, হাবিব-উন নবী খান সোহেলসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা সেখানে ভিড় করেন।

হাসপাতাল প্রাঙ্গণে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে। এতে নেতাকর্মীরা সাময়িক স্বস্তি পেয়েছেন। তবে করোনাভাইরাসের কারণে হাসপাতালের সামনে নেতাকর্মীদের ভিড় না করার অনুরোধ জানান তিনি। জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া।

আইনমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন: মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টায় গুলশানের নিজ বাসায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমার কাছে একটা দরখাস্ত করেছিলেন, খালেদা জিয়াকে নির্বাহী আদেশে মুক্তি দেয়ার জন্য। সেখানে অবশ্য উনি বলেছিলেন লন্ডনে উন্নত চিকিৎসার জন্য আবেদনটি করা হয়েছে। এর পরে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার, তার বোন সেলিমা ইসলাম এবং তার বোনের স্বামী রফিকুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একই বিষয়ে সাক্ষাৎ করেছিলেন। সেখানেও এই আবেদনের বিষয়ে কথা বলেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলেছিলেন নির্বাহী আদেশে তাকে মুক্তি দেয়ার জন্য।’

তিনি বলেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার উপধারা (১) অনুযায়ী খালেদা জিয়ার যে সাজা, সেটা ছয় মাসের জন্য স্থগিত রেখে মুক্তি দেয়ার জন্য আমি মতামত দিয়েছি। এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে আমার মতামত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি এবং আমি আপনাদের এখানে উল্লেখ করেছি যে, প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন এবং তার নির্দেশ হচ্ছে আইনি প্রক্রিয়ায় দুই শর্তসাপেক্ষে তার দণ্ডাদেশ স্থগিত রেখে তাকে মুক্তি দেয়ার জন্য।

Related Posts