বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৩, ২০ ২০
সিলেট ডেস্ক
৪ নভেম্বর ২০ ২০
৭:০ ০ অপরাহ্ণ
 মুহাম্মদ (সা:) অবমাননার প্রতিবাদে সিলেট তৌহিদী জনতার জনজোয়ার

স্টাফ রিপোর্ট::  নবী মুহাম্মদ (সা:)কে অবমাননার প্রতিবাদে দিনভর উত্তাল ছিল সিলেটের রাজপথ। প্রতিবাদী ধর্মপ্রাণ মানুষের বিশাল বহরে স্থবির হয়ে পড়ে রাজপথ। যানজট লাগবে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় রাস্তার মোড়ে মোড়ে। ক্ষনিক পর পর মিছিলের পর মিছিলে জনসমুদ্রে পরিণত হয় নগরীর ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্ট এলাকা। সুরমা টাওয়ার থেকে রংমহল টাওয়ার অপরদিকে জিন্দাবাজারমুখী সোনালী ব্যংক পর্যন্ত হয়ে উঠে লোকে লোকারণ্য। তিল ধারণের ঠাই হয়নি ওই এলাকায়, এ সমাবেশের মধ্যে দিয়ে দীর্ঘদিন পর ভিন্ন এক পরিবেশ দেখতে পায় সিলেট নগরবাসী। তবে নির্ধারিত প্রতিবাদ সমাবেশের মঞ্চ তৈরীতে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাধা প্রদান করে পুলিশ। এরপর বাদ জোহর তাৎক্ষণিকভাবে কামরান চত্বরের ছোট পরিসরে এক মঞ্চ তৈরী করে, সমাবেশের কার্যক্রম শুরু করেন উলামা পরিষদ কর্তৃপক্ষ। 

জামেয়া কাসিমুুল উলুম দরগাহে হযরত শাহ্জালাল (র.) এর মুহতামিম শায়খুল হাদীস ও উলামা পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি মুফতি মুহিব্বুল হক গাছবাড়ীর ডাকে নগরীর কোর্ট পয়েন্টে এ বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় গতকাল (বুধবার)। 
স্মরণকালের তৌহিদী জনতার এ ঐতিহাসিক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শায়খুল হাদীস মুফতি মুহিব্বুল হক গাছবাড়ী।   
 মাওলানা আবুল হাসান ফয়সল, মাওলানা জুনায়েদ আহমদ কিয়ামপুরী, মুফতি রশীদ আহমদ, মাওলানা আহমদ সগীর আমকুনী ও মাওলানা নিয়ামত উল্লাহ খাসদবীরির যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে বক্তারা বলেন, ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মহানবী (সা.) কে অবমাননায় বিশ্ব-মুসলিম আজ চরমভাবে ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ। প্রকৃতপক্ষে রাসুলের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ বৈশ্বিক জঙ্গিবাদ সৃষ্টির পাঁয়তারা ছাড়া আর কিছু নয়।’ বিক্ষুব্ধ মুসলমানদের হৃদয়ের ক্ষত মুছতে হলে ফ্রান্সকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। ইতোমধ্যেই ফ্রান্সের পণ্য বয়কট শুরু হয়েছে, এ বর্জন আরও তীব্র করতে হবে। ফ্রান্সকে ভবিষ্যতে এমন কর্মকান্ড না করার ব্যাপারে অঙ্গীকার করতে হবে। বক্তারা বাংলাদেশ সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন বিশ্বেও অন্যতম মুসলিম রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ সরকারকে ন্যাক্কারজন্ক এই ঘটনায় ফ্রান্সের প্রতি রাষ্ট্রীয় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতে হবে এবং সে দেশের সাথে সকল কুটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে তাদের সব পণ্য এদেশে বয়কট ও আমদানী বন্ধের ঘোষনা দিতে হবে। শায়খুল হাদীস মুফতি মুহিব্বুল হক গাছবাড়ী প্রস্তাবনা পাঠ করেন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্রান্সের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। তাদের সকল পণ্য রাষ্ট্রীয়ভাবে আমদানী বন্ধ ঘোষণা করতে হবে। ফ্রান্সের এ ধরনের ন্যাক্কাজনক ঘটনার জন্য জাতীয় সংসদে নিন্দা প্রস্তাব পাশ করতে হবে। দেশেও যে সকল ব্যক্তি মহানবী (সাঃ) এর সম্পর্কে কটুক্তি করে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-ের আইন সংসদে পাশ করতে হবে। সমাবেশে বক্তব্য প্রদান করেন, মাওলানা আলীম উদ্দিন দুর্লবপুরী, মাওলানা নরুল ইসলাম খান সুনামগঞ্জি, নাজিমে এদারা মাওলানা আব্দুল বছির সুনামগঞ্জি, সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, মাওলানা শেখ মহসিন আহমদ কৌড়িয়া, মাওলানা শায়েখ আব্দুল গফফার রায়পুরী, মাওলানা শামসুদ্দিন দুর্লবপুরী, মাওলানা মুফতি ওলিউর রহমান দারুস সালাম, মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, মাওলানা মুছলেহ উদ্দিন রাজু, মাওলানা মোস্তাক আহমদ খান, মাওলানা হেলাল আহমদ হরিপুরী, মাওলানা ইউসুফ শামপুরী, মাওলানা আব্দুস সোবহান কাজিরবাজার,মাওলানা মুফতি রশীদ আহমদ মকবুল, মাওলানা মুফতি আবুল হাসান লামারগ্রাম, মাওলানা আব্দুল জব্বার লামনিগ্রাম, মাওলানা আব্দুস সালাম বাগরখালী, মাওলানা সৈয়দ শামীম আহমদ, মাওলানা আব্দুল মালিক মোবারকপুরী, মাওলানা মাসুক আহমদ সালামী, মাওলানা মুহিবুর রহমান, মাওলানা নুরুল হক বিশ্বনাথী, মাওলানা আব্দুল মুছব্বির জকিগঞ্জি, মাওলানা হারুনুর রশীদ আল আজাদ, মাওলানা মুহিব্বুর রহমান মিঠিপুরী, মাওলানা সাইফুল্লাহ নয়াসড়ক, মাওলানা ফারুক আহমদ শাহবাগী, মাওলানা শরীফ আহমদ শাহান, মাওলানা ইমদাদুল্লাহ কাতিয়া, মাওলানা আবুল হোসাইন চতুলী, মাওলানা গাজী রহমত উল্লাহ, মাওলানা ইকবাল হোসাইন, মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা জাহিদ উদ্দিন চৌধুরী, মাওলানা বুরহান উদ্দিন, মাওলানা শেখ নাসির উদ্দিন, এডভোকেট মোহাম্মদ আলী, মাওলানা নজরুল ইসলাম তোয়াকুলী, মাওলানা হারুনুর রশীদ চতুলী প্রমুখ।   


 

সম্পর্কিত খবর

পুরানো খবর দেখার জন্য