মঙ্গলবার, জুলাই ৭, ২০ ২০
সম্পাদকীয় ডেস্ক
১২ জুন ২০ ২০
৬:২৩ অপরাহ্ণ
ভাষার উৎপত্তি অথবা উৎস: এস ডি সুব্রত

যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ ভাষা ও মননের ব্যবহার করে আসছে ।গবেষক সুকুমার সেনের মতে "মানুষের উচ্চারিত অর্থবহ বহুজনবোধ্য ধ্বনি সমষ্টি হচ্ছে ভাষা।"

স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন জাগে মানুষের মুখে ভাষা আসল কিভাবে?  ভাষার উৎপত্তি কিভাবে।

 প্রায় আশি লক্ষ বছর আগে আফ্রিকার জঙ্গলে এপ জাতীয় কিছু প্রাণী বাস করত বলে জানা যায়।এই এপ জাতীয় প্রাণীগুলোর মধ্যে শিম্পাঞ্জি ও মানুষের পূর্ব পুরুষও ছিল। এরা সম্ভবত গরিলাদের মতো ছিল।এর বাস করত বৃক্ষে ,চারপায়ে হাঁটত মাটিতে। বিভিন্ন ডাকের মাধ্যমে এরা একে অপরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করত।

আজ থেকে প্রায় বিশ লক্ষ বছর আগে মানুষের পূর্ব পুরুষ বলে যে প্রাণী ছিল তা শিম্পাঞ্জিদের পূর্ব পুরুষ থেকে আলাদা হয়ে যায়। বিজ্ঞানীদের ধারণা মতে ঐ প্রাণীগুলোর ভাষা ছিল বেশ উন্নত। 

 তবে মানুষের আদিপুরষ ঐ প্রাণীদের সম্পর্কে খুব কমই জানা গেছে। আধুনিক মানুষের ভাষার উৎস নিয়ে বিংশ শতাব্দীর বেশীরভাগ সময় ধরে খুব একটা গবেষণা হয়নি। অতি সম্প্রতি নৃবিজ্ঞানী ,জিন বিজ্ঞানী, স্নায়ু বিজ্ঞানীদের আহরিত তথ্যমতে কতিপয় ভাষা বিজ্ঞানী ভাষার উৎস অনুসন্ধান করেছেন।

বিশ্বের অনেক ধর্মেই  ভাষার উৎপত্তি বা উৎস সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। ইহুদি খ্রিস্টান মুসলমান ধর্মের ধারায় বলা হয় সৃষ্টিকর্তা প্রথম মানুষ আদম কে বিশ্বের সমস্ত পশুপাখির উপর 

কর্তৃত্ব দেন। আদম এইসব পশু পাখিদের একটি করে নাম দেন। এটা ছিল আদমের ভাষা জ্ঞানের প্রথম প্রয়োগ।

বর্তমান বিশ্বে ভাষায় প্রাচুর্যের কারন হিসেবে বাইবেলের মিনারের কাহিনীর উল্লেখ করা হয়।এই কাহিনী অনুসারে বর্তমান পৃথিবীতে ভাষা র প্রাচুর্য ও বৈচিত্র্যের কারন কারন হল মানুষের ঔদ্ধত্যের শাস্তি। তবে এই ধর্মীয় কাহিনী গুলো অতীতে মেনে নিলেও বিজ্ঞানের উৎকর্ষতা র সাথে সাথে ভাষার উৎপত্তির একটি প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

আঠারশো শতকে ইউরোপীয় দার্শনিক জা জ্যাক রুশো,কোদিয়াক,হার্ডার  প্রমুখ মনে করতেন ভাষাহীন মানুষ কিভাবে বসবাস করত তা গভীরভাবে কল্পনা করলে  ভাষার উৎপত্তি বিষয়ে জানা সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে এই অনুমানগুলির  ঐক্যমত নেই।

উনিশশো শতকে ভাষার উৎস নিয়ে উদ্ভট কল্পনা প্রসুত কিছু তত্ত্বের অবতারণা করা হয়েছিল।

  ১৯৬০  এর দশকে নোম চমিস্কর প্রবর্তিত ধারনাগুলো ব্যাকরণের তত্ত্ব কে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।চমিস্কর মতে ভাষা বিজ্ঞানের কেন্দ্রীয় একটা প্রশ্ন হল মস্তিষ্ক অন্তর্নিহিত যে ক্ষমতাবলে মানুষ তার জীবনের প্রথম বছরগুলিতে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে দক্ষভাবে কোন ভাষায় কথা বলার ক্ষমতা অর্জন করে , সে জৈবিক ক্ষমতা র প্রকৃতি কি? এই দৃষ্টি কোন থেকে ভাষার উৎসের গবেষণা  বিবর্তনবাদী  জীববিজ্ঞানের একটি অংশ বলেই মনে হয়।

সম্পর্কিত খবর

পুরানো খবর দেখার জন্য