শনিবার, ২৫ মে ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সদর সাব-রেজিষ্টারী অফিসের ১৯৭নং বলিয়ম নিখোঁজে (!) সুকেশ-দুলালের সংশ্লিষ্টতায় চাঞ্চল্য



ডেস্ক রিপোর্ট:: দীর্ঘদিন থেকে হদিস পাওয়া যাচ্ছে না কুমারগাও মৌজার ১৯৭/৭৫ নং বলিয়ম। এনিয়ে অসন্তোষ সংশ্লিষ্ট এলাকার জমিজমার মালিকদের মধ্যে। হদিস উদ্ঘাটনে চেষ্টার কমতিও করেনি কর্তৃপক্ষ।

আন্তরিক বা নাটকীয় যেভাবেই তারা খুঁজেছেন বলিয়মটি। কিন্তু এ নিয়ে রহস্যের দানা সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার একটি উল্লেখিত মৌজার একটি নকল উত্তোলনের অপচেষ্টায় সেই নিখোঁজ রহস্যের ক্ল কিছুটা হলেও আলোর মুখ দেখছে। এখন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা গ্রহনের উপর নির্ভর করছে বলিয়ম বের ও নিখোঁজের সাথে অফিসের কোন সিন্ডিকেটের সংশ্লিষ্টতা। সোমবার ৩নং খাদিমনগর ইউনিয়নের কুমারগাঁও মৌজার একটি দলিলের নকলের জন্য আবেদন করেন মুহুরী ইব্রাহিম আলী । প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের ৭১ শতক এ জমির খরিদাসূত্রে নং দলিলমূলে (৭০৬৩/৭৫) মালিক ডালিয়ার মিছিরা বিবি। ওই দলিলে মুহুরী ইব্রাহীম আবেদন করলেও নৈপথ্যে কলকাটি নাড়েন নকলনবীস দুলাল দত্ত।

কে সেই দুলাল দত্ত ?

দীর্ঘদিন ধরে নগরীর বাগবাড়িতে বসবাস করেছেন নকল নবিশ দুলাল দত্ত। তার গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের বানিয়াচং। মঙ্গলবার তার হাতেই নকলের ফি জমা দেন তিনি। তারপর নকল ইস্যু করতে আবেদনটি পাঠিয়ে দেন উসলদার রুম্মান আহমদের হাতে। সৃৃজনকৃত জাবেদা নকলে নকলকারক হিসেবে নকলনবিস শান্তা রানী দাসের নাম থাকলেও উসলের (আবেদনের কপি নং ১৪৫৬৩) খাতায় শান্তা রাণীর দাসের স্বাক্ষর নেই। কিন্তু সেখানেই ঘটে বিপত্তি।

রুম্মানের চোখে ধরা পড়ে দুলালের জালিয়াতি রহস্য। মুর্হুতেই বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে সাব-রেজিষ্টারী অফিস সংশ্লিষ্টদের মাঝে। এক পর্যায়ে দুলালকে ডেকে নকলের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে সে স্বীকার করে জাবেদা নকলের আবেদনটি সে দাখিল করেছে। এরপর শান্তা রানী দাসকে নকলে তার স্বাক্ষরের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে, সেই অস্বীকার করে এই নকলটি তার হাতের নয়, স্বাক্ষরও তার নয়। এই পর্যায়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তৎপর হয়ে উঠে দুলাল দত্তের একান্ত সহযোগী উমেদার সুকেশ। নকলনবিস শান্তা রাণী দাস বলেন, জাবেদা নকলের স্বাক্ষর তার নহে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনে এ বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিকার চাইবেন তিনি।

কিভাবে বলিয়মের হদিস পেল উমেদার সুকেশ !

দীর্ঘদিন থেকে নিখোঁজ ১৯৭/৭৫ নং বলিয়ম। সেকারনে ্ওই এলাকার দলিলের নকল তুলতে বিমুখ হয়ে ফিরে যান সংশ্লিষ্ট জমিজমার মালিক। কিন্তু সেই বলিয়মের রেজিষ্টারী দলিলের নকল তুলতে আবেদন করেন মুহুরী ইব্রাহিম আলী। যে বলিয়মের হদিস নেই, সেই বলিয়মের নকল কিভাবে উত্তোলন সম্ভব তা নিয়ে রহস্য দানা বাঁধে। কিন্তু তা সম্ভব হয়েছে উমেদার সুকেশের কারনে। দুলাল দত্ত ও সুকেশ দত্ত মিলেই নিখোঁজ বলিয়মের জাবেদ নকল তুলতে জোট বাঁধেন।

বড় অংকে টাকা বিনিময়ে সেই অসম্ভবকে সম্ভব করতে যেয়ে ধরা পড়েন উসলদার রুম্মানের হাতে। এতে করে ফাঁস হয়ে যায় কৌশলে বলিয়ম লুকিয়ে মানুষকে জিম্মি করে একান্তভাবে বড় অংকের অর্থ আদায়ের ঘটনা। এই সুকেশ-ই দামী জমিজমার বলিয়ম কৌশলে লুকিয়ে রাখেন বলে অনেকে সন্দেহ করেন দীর্ঘদিন থেকে। কিন্তু ব্যাটে বলে মিলে না বলেই, চাপা থাকে তার লুকানো রহস্য। ইতিপূর্বে বিভিন্ন অপকর্মের জন্য সে সাজা ভোগ করে অর্থের বিনিময়ে স্বপদে বহাল হয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠে।

রেকর্ড কিপার কামরান আহমদ চৌধুরী বলেন, এই বলিয়মের ব্যাপারে তার নিকট কোন অতীত তথ্য নেই। তবে মঙ্গলবার নকল জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ায় জানতে পারেন বলিয়মটির হদিস মিলছেনা। যদি হদিস না থাকে তাহলে জাবেদা নকল কিভাবে উত্তোলনে উমেদার সুকেশ ভূমিকা রাখলো তা তদন্তের বিষয় বলে জানান তিনি। কারন উমেদার বা পিয়ন সুকেশ এই বলিয়ম বের না করলে নকল লেখা হলো কিভাবে। সুকেশ ও দুলাল দত্তের ষড়যন্ত্রে জাবেদা নকল নিয়ে জালিয়াতর ঘটনা ব্যাপারে জেলা রেজিষ্ট্রার জসিম উদ্দিন ভূঁইয়ার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। সদর সাবরেজিষ্ট্রারী অফিসে ওয়েব পোর্টালেও রহস্যজনকভাবে অফিস সংশ্লিষ্টদের পরিচয় যোগাযোগ আপডেট রাখা হয়নি।