রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মেধাভিত্তিক-আত্মনির্ভরশীল যুবসমাজ গড়তে কাজ করছে যুবলীগ



রাজনীতি হলো সমঝোতার কৌশল, রাজনীতি কোন দলাদলি বা হানাহানির বিষয় নয়। যুবলীগ লাঠিতন্ত্র বা কুড়ালতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। আমরা জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী।দেশের যুবসমাজ সুসংগঠিত হলে রাষ্ট্র বিকশিত হয়। দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিতে যুবলীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।

রাজনীতিতে দৃষ্টান্ত রেখে যুবসমাজকে সকল ধরনের অপরাধ কর্মকান্ড থেকে বিরত রাখতে সক্ষম হয়েছে যুবলীগ। মেধাভিত্তিক ও মূল্যবোধ সম্পন্ন যুব সমাজ গড়তে কাজ করছে যুবলীগ, যারা হবে আত্মনির্ভরশীল। দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা উদ্যোগ নিয়েছেন। দক্ষ যুবশক্তি গড়তে প্রশিক্ষণ এবং তাদের কর্মসংস্থানের জন্য ঋন প্রদানসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। দেশকে এগিয়ে নিতে যুবসমাজের ভূমিকা অপরিসীম। যুবলীগ যুবসমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে একটি আদর্শিক ধারায়, সেই ধারা অব্যহত রয়েছে।

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহান স্থপতি, বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যুবলীগ প্রতিষ্ঠাতা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সাংবাদিক শেখ ফজলুল হক মনি, ১৫ আগস্ট, ২১ আগস্ট শাহাদৎ বরণকারী সকল শহীদ সহ যুবলীগের প্রয়াত নেতাকর্মীদের আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলী। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রতিবাদে সম্মুখ যুদ্ধে নিহত বগুড়ার রাজপথের সাহসী যুবনেতা আব্দুল খালেক খসরুর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ একটি মননশীল যুবশক্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে শেখ ফজলুল হক মনি স্বাধীনতার এক বছর পর যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। শেখ মনি ছিলেন চিন্তাশীল লেখক ও দার্শনিক। তিনি কখনও এমপি বা মন্ত্রী হতে চাননি। তাই বঙ্গবন্ধু শেখ মনিকে যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের পুনর্গঠনে যুব সমাজকে কাজে লাগাতে। কালের পরিক্রমায় সেই যুবলীগ এখন সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দর্শন ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ বাস্তবায়নে অগ্রনী ভূমিকা পালন করছে।

ঐতিহ্যবাহী যুব সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ। গৌরবময় পথচলার ৪৭তম বার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছে এ বছর। বিশ্বের মানচিত্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যূদ্বয়। সেই গৌরবময় সংগ্রামে অস্ত্র হাতে শত্রুর মোকাবেলা করেছিল এ দেশের অকুতোভয় যুব সমাজ।

শুধু মুক্তিযুদ্ধই নয়, মহান রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন থেকে আইয়ুব বিরোধী গণ-আন্দোলনেও দেশে যুব সমাজই ছিল রাজপথে অগ্রগামী। আর তাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন তৎকালীন তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। ক্রমান্বয়ে তিনি বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা-‘বঙ্গবন্ধু’ এবং জাতির পিতা হয়ে উঠেছিলেন। মূলত তিনিই বাঙালি জাতির জীবনে প্রথম তারুণ্যের প্রতীক। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ তাঁরই আদর্শে গড়া সংগঠন। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মনি যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।

যে কারণে যুবলীগের প্রতিটি কর্মী এক অনন্য গৌরবের উত্তরাধিকার বহন করে চলেন হৃদয়ের গভীরে। শেখ ফজলুল হক মনি, এডভোকেট সৈয়দ আহম্মদ, আমির হোসেন আমু, ফকির আব্দুর রাজ্জাক, মোস্তফা মহসিন মন্টু, ফুলু সরকার, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী ইকবাল হোসেন, এড. জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী ঐতিহ্যবাহী যুবসংগঠনের পতাকা হাতে যুবসমাজকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে যুবলীগ দেশের যুবসমাজকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ করেছে। দেশপ্রেমিক যুবসমাজ আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ দেশ গড়ার সংগ্রামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দেশ গড়ার কাজে এখন তরুণরা অগ্রনী ভূমিকা পালন করছে। কারণ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার বাংলাদেশ এখন তরুণদের। যুবকদের দেশ। তরুণ ও যুবকরাই এখন সম্পদ। উচ্চশিক্ষা শেষ করে কৃষিকাজে জড়িত হচ্ছে-এই তরুণ যুবকরা। আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন চিন্তা নিয়ে তরুণরা এগিয়ে আসছেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী সভা সমাবেশে তাঁর ভাষণে বলেন, ‘যুবলীগ হলো তারুণ্যোদ্দীপ্ত জয়গানের সংগঠন। যুব মেধা লালন, ধারণ ও এর বিকাশই হলো যুবলীগের অন্যতম লক্ষ্য; যাতে আমরা মেধাভিত্তিক যুক্তিবাদী বিজ্ঞানমনস্ক মূল্যবোধসম্পন্ন যুবসমাজ গড়তে পারি। মানুষের জীবনের যে চারটি স্তর থাকে তার মধ্যে যৌবনকাল হলো শ্রেষ্ঠ কাল। এ কালকে ঘিরেই মানুষ নিজেকে বিকশিত করে। যৌবনকালই হচ্ছে নিজেকে গড়ে তোলার শ্রেষ্ঠ সময়। সৃষ্টির কালই হল যৌবনকাল। যুবলীগ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরীর নেতৃত্বে যুবলীগ এ সময় ইতিহাস অন্বেষণ করেছে, গবেষণা করেছে, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা রয়েছে যুবলীগের। যুবলীগকে আমরা অগ্রসরমান, পথিকৃৎ এবং যুব সমাজের আলোকবর্তিকা হিসেবে দেখতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন সারা বিশ্বের কাছে এক রোল মডেল। যুবলীগ শেখ হাসিনার আদর্শের রাজনীতি বিকশিত করতে কাজ করে চলেছে। যুবলীগকে নতুন চিন্তায় তারুণ্যের উদ্দীপ্ত সংগঠন হিসেবে কাজ করছে। বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমিতে বই, পোস্টার, প্রদর্শনী ছাড়াও তারুণ্যকে মনোযোগী করছে শিল্পসংস্কৃতিতে। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার বিশ্বশান্তির দর্শন “জনগণের ক্ষমতায়ন” এ আমরা বিশ্বাসী। সেই লক্ষ্যে জনমত সৃষ্টি করা আমাদের কাজ। শেখ হাসিনা শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বে শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির মাধ্যমে নজিরবিহীনভাবে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংকট নিরসনের পথ দেখিয়েছেন বিশ্বকে। সবার মতামত পাওয়ার পর যুবলীগ জাতিসংঘে গিয়ে সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার ভাবনাগুলো উপস্থাপন করেছে। মেধা, মনন ও আর্দশিক চেতনায় উদ্বীপ্ত হয়ে এ দেশের যুবসমাজ যুবলীগের পতাকাতলে সমবেত হয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখকঃ মাহমুদুর রহমান
সাধারণ সম্পাদক
নিউইয়র্ক মহানগর যুবলীগ, যুক্তরাষ্ট্র।