রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কিডনি রোগে আক্রান্ত কাকলীকে বাঁচাতে কাজ করছেন তরুণেরা



এন.এ নাহিদ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ:: “কাকলী বাঁচতে চায়, কাকলীকে বাঁচাতে সাহায্যে হাত বাড়ান। পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী কাকলী আক্তার আপনাদের একটু সহায়তা পেলে হয়তো সুস্থ্য হয়ে উঠবে। দুইটি কিডনীই নষ্ট হয়ে যাওয়া কাকলী এখন হাসপাতালের বিছানায় বাঁচার আঁকুতি নিয়ে কাতরাচ্ছে। আপনাদের সহযোগিতা একান্ত কাম্য। যে যত টাকা পারেন কাকলীর সাহায্যের জন্য তৈরি করা সাহায্য বক্সে দান করুন।

” এভাবেই বাস, লাইটেস, প্রাইভেটকার কিংবা দোকানী-পথচারীদের কাছে কাকলীর জীবন বাঁচাতে সহযোগিতা চাইছেন পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের ২১ সদস্য বিশিষ্ট্য একদল উদ্যোমী তরুণ। শুধু পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের তরুণরাই নয়, ‘আর্ত মানবতার সেবায় এগিয়ে আসুন’ শ্লোগানকে সামনে রেখে ‘ক্যাম্পেইন ফর কাকলী’তে অংশগ্রহণ করেছেন পার্শ্ববর্তী ছাতক থানার জাউয়া বাজার ইউনিয়নের একাধিক তরুণও। তাদের সকলের ইচ্ছা কিডনী রোগে আক্রান্ত শিক্ষার্থী কাকলী যেনো মাত্র দশ লক্ষ টাকা চিকিৎসা ব্যায়ের অভাবে অকালে ঝড়ে না যায়। তাই তারা স্বেচ্ছাশ্রমে বাক্স ও গলায় অসুস্থ্য কাকলীর ছবি ঝুলিয়ে নেমে পড়েছেন রাস্তায়।

নীল টি-শার্ট পড়ে ক্যাম্পেইনে কাজ করছেন পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক মো. শের জাহান, সমাজকর্মী রাজীব আহমদ, আব্দুল আলীম, জাবেদ আহমদ খোকন, জায়েদ আহমদ, মমিন আহমদ, মিজানুর রহমান, জাকারিয়া আহমদ, মিশুক ভট্টাচার্য্য, অনিমেষ চন্দ্র অমিত, তাহাজ্জুদ আলী, হাফিজুর রহমান কালা, দ্বিজু সূত্রধর, অঞ্জন পাল, পাপন দাস, শাহ আলম, জয় চন্দ, জুয়েল আহমদ, ইমরান হোসেন, সোহান হাসান ও ফয়সল আহমদ।

তারা প্রত্যেকেই প্রত্যাশা করেন যে, মানবতার ডাকে মানুষ সাড়া দেবেন। কাকলী বাঁচবেই। সুস্থ্য হয়ে আবার বান্ধবিদের সাথে কলেজে যাবে কাকলী। এর আগে তারা একই রোগে আক্রান্ত বীরগাঁওয়ের ক্যাম্পেইন ফর সাখাওয়াতের জন্যও কাজ করেছেন। গিয়েছিলেন মানুষের দরজায় দরজায়। প্রায় ২৫ হাজার টাকা মানুষের কাছ থেকে উঠিয়েছিলেন তারা। পরে নেমে পড়েন কাকলীর জন্য সাহায্য কামনায়।

ক্যাম্পেইন পরিচালনাকারী সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পাগলা বাজার, জাউয়া বাজার, নোয়াখালী বাজার ও গনিগঞ্জ বাজারে ৪দিন ব্যাপী ক্যাম্পেইন ফর কাকলী পরিচালনা করেন তারা। বাস, ট্রাক, লাইটেস, মাইক্রোকার, লেগুনার যাত্রী, দোকানী ও পথচারীদের কাছে গিয়ে কাকলীর হয়ে সাহায্য প্রার্থনা করেন তারা।

সাধারণ মানুষকে বুঝিয়ে বলেন। মানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে সহযোগিতাও করছেন অনেক। ৪ দিনের ক্যাম্পেইনে ৪৩ হাজার ১শত ৮৩ টাকা সংগ্রহ করেছেন তারা। আগামী রবিবারে কাকলীর পূবালী ব্যাংক, পাগলা বাজার শাখার ব্যক্তিগত হিসাব নম্বর (কাকলী আক্তার, হিসাব নং- ২৩১৬১০১০৯৪৬৮০)-এ জমা দিবেন তারা। এ কাজ করতে গিয়ে অনেক প্রতিবন্ধকতার স্বীকারও হতে হয় মাঝে মাঝে। কখনো কখনো সন্দেহ করে বসেন অনেকেই। আবার সন্দেহ মিটাতে স্থানীয় ইউপি কিংবা উপজেলা চেয়ারম্যানদেরকেও ফোন দিয়ে নিশ্চিত হচ্ছেন অনেকেই।

তারা জানান, জাউয়া বাজার এলাকায় ক্যাম্পেইন পরিচালনার সময় এ রকম সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন তারা। বাজার থেকে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদকে ফোন ক্যাম্পেইনের বিষয়ে নিশ্চিত হোন একজন। পরে তিনিও সহযোগিতা করেন। তবুও থেমে যেতে চাননা পাগলার উদ্যোমী এই তরুণ দল। তারা কাকলীর জন্য কাজ করতে চান। সুস্থ্য করে তোলার স্বপ্নে বিভোর তারা।

ক্যাম্পেইন পরিচালনাকারী সদস্য পাপন দাস বলেন, ‘আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ১০ লক্ষ টাকা লাগে চিকিৎসা ব্যায়। অনেক সাড়া পাচ্ছি আমরা। আশা করছি সকলের সহযোগিতা পেলে সব টাকাই সংগ্রহ করতে পারবো। সমাজের ভিত্তবানদের সহযোগিতা ছাড়া কখনো আমরা সফল হতে পারবো না। সকলকে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করার জন্য অনুরোধ করছি।

ক্যাম্পেইন পরিচালনার সিনিয়র সদস্য আব্দুল আলীম বলেন, ‘আমরা অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে কাজ করছি। মাঝে মাঝে মানুষ বিশ্বাস করতে চান না। তবুও আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা কাকলীর জন্য আরো কাজ করে যাবো। প্রবাসী ভাইদের প্রতি আমাদের বিশেষ অনুরোধ থাকবে তারা যেনো সহযোগিতার হাদ বাড়ান। আমাদের আশা কাকলী সুস্থ্য হবে, আবার কলেজে যাবে। তার জন্য সকলের সহযোগিতা চাইছি। কেউ বিকাশে সহযোগিতা পাঠাতে চাইলে +8801732618550 নাম্বার টাকা পাঠাতে পারেন।’

অসুস্থ্য কাকলী ক্যাম্পেইন পরিচালনাকারী সকল সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি বাঁচতে চাই, সুস্থ্য হয়ে আবার কলেজে যেতে চাই। আমাকে সাহায্য করুন।’

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ বলেন, ‘আমি খবর পেয়েছি। সমাজের প্রবাসী, ভিত্তবান ও সকলকে কাকলীর পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করবো।’