রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শত্রুমর্দন(বাগেরকোনা) গ্রামের পাকা সড়কের অবস্থা বেহাল



এন.এ নাহিদ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ:: দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের শত্রুমর্দন (বাগেরকোনা) গ্রামের পাকা সড়কের অবস্থা বেহাল ও জনজীবনে দুর্ভোগ। বেশির ভাগ সড়ক ভাঙাচুরা আর সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে । বর্তমানে সড়কের অনেক স্থানে রড বেড়িয়ে গেছে ।

এছাড়াও এ সড়কের একটিমাত্র কালভার্ট খুব ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ও দিন দিন এটি ব্যাবহারের অনুপযোগী হচ্ছে। এতে যানবাহন চলাচল খুব ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় পথচারীদের মাঝে ভয়ভীতি কাজ করছে। এ অবস্থা চলছে দীর্ঘদিন ধরে। ফলে পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। রাস্তার বড় বড় গর্তের কারনে কখন চলাচলে যানবাহন উলটে যায় এ নিয়ে পথচারী ও যাত্রীদের মাঝে ভয়ভীতি কাজ করছে ।
মহাসড়ক থেকে শত্রুমর্দন (বাগেরকোনা) গ্রামের সুলতান মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত সড়কটির দূরত্ব প্রায় ৩০০ ফুট । পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের পূর্ব দিকের কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগ রক্ষার এটি একমাত্র সড়ক।

এসব গ্রামগুলোর প্রায় ৫ হাজার মানুষের চলাচলের রাস্তা এটি। এছাড়াও এখানে রয়েছে গনিপাড়া পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, গনিপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক, রামকৃষ্ণ জিউর আখরা।

এগুলো হওয়ায় স্কুলের ছাত্রছাত্রী, ক্লিনিকের রোগী ও জিউর আখড়ায় সাধু কবিরাজের কাছে আসা অনেক দূর থেকে ভক্তবৃন্দ বিভিন্ন স্থান থেকে যানবাহনের মাধ্যমে আসেন কিন্ত রাস্তার বেহাল দশার কারনে যানবাহন উলটে যাওয়ার উপক্রম সৃষ্টি হয়। এর কারনে পথচারীরা চলাচলে দুর্ঘটনার সংশয়ে থাকেন কখন কি হয়ে যায়। এই রাস্তা দিয়ে সিএনজি, রিকশা, অটোরিকশা ও মাইক্রোবাস সহ সড়কটিতে চলাচল করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- পশ্চিম পাগলা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল আলম নিক্কু’র আমলে ২০০৩ সালে সড়কটি প্রথমবার পাকাকরন হওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো সংস্কার হয়নি। বর্তমানে এটি যানবাহন ও চলাচলের জন্য দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। এলাকার লোকজনের অভিযোগ সড়কের কাজের জন্য ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যান সহ এ পাকা সড়ক সংস্কারের জন্য অনেকবার অবগত করা হয়েছে কিন্ত তাদের কোনো সাড়া নেই।

এ বিষয়ে এলাকার গোলাম মোস্তফা জানান- এ রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ। যদি এভাবে এই করুন অবস্থা চলতে থাকে তাহলে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা সাধারণ মানুষের চলাচল করা আরো কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে। তাই আমাদের দাবী এই রাস্তার দ্রুত সংস্কার করার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

হাশিম খাঁ জানান- রাস্তা ভাঙ্গার খারনে, দূর দুরান্ত থাকি আওয়া মানুষ গাড়ি লইয়া ডুকতে ফারইন না। মাঝে মাঝে রিশকা, হুন্ডার, উলটি যায়। কয়েকদিন আগেও এলাকার মতিন মিয়া টেলাগাড়ি দি ধান লইয়া যাওয়ার পথে এক্সিডেন্ট কইরা হাত ভাঙ্গিলিছোইন। এলাকাবাসীর দাবি অইলো ই সড়কের কাম যেন তাড়াতাড়ি করানি অয়।

জিউর আখরার সাধু রঞ্জিত কুমার পাল জানান-
বিগত দূর্গাপুজায় রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অনেক বার এ বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো আশানুরুপ ফল পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন দ্রুত যেনো এ রাস্তার সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হয় এবং পথচারী ও যানবাহন চলাচলে যেনো দুর্ভোগ লাঘব হয়।

পশ্চিম পাগলা ইউপি চেয়ারম্যান জানান- মন্ত্রী মহোদয়ের পক্ষ থেকে ডিঅ লেটার দেওয়া হয়েছে। শত্রুমর্দন সিএমবি সড়ক থেকে পিছলাকান্দি পর্যন্ত ২ কি.মি ডালাইয়ের কাজ করা হবে এবং এটি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আছে।আমি আশা করি এ বছর কাজ শুরু হবে ইনশাআল্লাহ ।