রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সিলেটের সাথে তিনটি রাজ্যের ভাষার সুনিবিড় সম্পর্ক রয়েছে: ভারতীয় হাই কমিশনার



আসহাবুর ইসলাম শাওন, কমলগঞ্জ:: বাংলাদেশের মাধ্যে সিলেট বিভাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এই সিলেটের সাথে ভারতের আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরার সীমান্ত রয়েছে। এই তিন রাজ্যের সাথে সিলেটের ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিকতায় সুনিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। ফলে প্রয়োজনীতা উপলব্দি করেই সিলেটে একটি ভারতীয় ভিসা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের এখন সোনালী অধ্যায় চলছে। দুই দেশ আরও কাছাকাছি এসে দুই দেশের সামাজিকতা, সংস্কৃতি ও ব্যবসা বাণিজ্যের আরও উন্নয়ন সম্ভব। সিলেট বিভাগে বহু ভাষাভাষী মানুষজনের বসবাস। তাদের রয়েছে নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি। এ সংস্কৃতির সুষ্ঠু বিকাশে ভারত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে আসছে।

তার ফলশ্রুতিতে ভারতীয় হাই কমিশন কমলগঞ্জে কয়েকটি কমপ্লেক্স নির্মাণ করে দিয়েছে। শুক্রবার (৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় কমলগঞ্জের আলীনগর ইউনিয়নের তিলকপুর সরকারী সার্বজনিন পূজা মন্ডপের নব নির্মিত দ্বিতল ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার শ্রীমতি রিভা গাঙ্গুলী দাস এ কথাগুলো বরেন।

ভারতীয় হাই কমিশনের সহায়তায় ২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে তিলকপুর সরকারী সার্বজনিন পূজা মন্ডপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মণিপুরী সমাজ কল্যাণ সংস্থার প্রাক্তন সভাপতি সালিয়া সিংহের সভাপতিত্বে ও মনা সিনহার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাস।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় ডেপুটি হাই কমিশনার ডি কে কৃষ্ণমূর্তি, আনন্দ মোহন সিংহ, ফজলুল হক, কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান। এছাড়াও ঢাকা ও সিলেটস্থ ভারতীয় হাই কমিশনের কর্মকর্তাবৃন্দ।

সকাল সাড়ে ১১টায় ভারতীয় হাই কমিশনার তিলকপুর সরকারী সার্বজনিন পূজা মন্ডপ প্রাঙ্গনে আসলে পুষ্প বৃষ্টি দিয়ে ও ফুলের তোড়া দিয়ে তাকে বরণ করেন মণিপুরী নারী ও মেয়েরা। এররপর ভারতীয় হাই কমিশনার ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে ভবনের উদ্বোধন করেন। পবিত্র গীতা পাঠের পর স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বপন কুমার সিংহ।

ভারতীয় হাই কমিশনার আরও বলেন, ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় কয়েকটি রাজ্যের সিলেটের সাথে ব্যবসা বাণিজ্যের সু- সম্পর্ক রয়েছে। এ ব্যবসা বানিজ্য আরও তরান্বিত করতে দুই দেশ একযোগে কাজ করছে। প্রয়োজনীয় স্থানে সীমান্ত হাট হচ্ছে। সিলেট বিভাগ ছাড়াও বাংলাদেশের যে কোন স্থানে সার্বিক উন্নয়ন ভারত সহায়তা দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও দিয়ে যাবে।

এর আগে সকাল ১১টায় আদমপুর ইউনিয়নের ঘোড়ামারা গ্রামে ৫৬ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে ভারতীয় সহায়তায় মণিপুরী থিয়েটারের নির্মাণাধীন স্টোডিও নটমন্ডপ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শণ করেন ভারতীয় হাই কমিশনার শ্রীমতি রিভা গাঙ্গুলী দাস। সবশেষে মণিপুরী ঐতিহ্যবাহী মৃদঙ্গ বাজন, হলি কীর্তন লীলা, রাধা কৃষ্ণের লীলা রাখাল নৃত্য পরিবেশ করা হয়। ভারতীয় হাই কমিশনার শ্রীমতি রিভা গাঙ্গুলী দাস বলেনে তিনি ও তার সফল সঙ্গীরা এই পরিবেশনা দেখে মুগ্ধ।