বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

২৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ: সিলেট ছাত্রলীগ নেতার ৭ বছরের দন্ড,কারাগারে প্রেরণ



স্টাফ রিপোর্টার:: ২৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণা মামলায় ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি ইমরান চৌধুরীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর সিলেটের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক মো. মোস্তাইন বিল্লার আদালতে তাকে হাজির করা হয়।

আদালতে তার নিয়োজিত আইনজীবী জামিনের আবেদন রেন। শুনানী শেষে আদালতের বিচারক তা না-মঞ্জকর করে ইমরানকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন আদালতের বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) আইয়ুব আলী।

তিনি আরো জানান, ২৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ ও চেক প্রদান করে প্রতারণা করার অপরাধে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি (কোতয়ালি সি আর ১২৪/১৮ ইং ) মামলায় সিলেটের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক ইমরানের বিরুদ্ধে ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরো এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ প্রদান করেন। সেই মামলায় পলাতক ছিলেন ইমরান। সোমবার (১১ মার্চ) পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেন।

আদালত সূত্রে জানায়, ২৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে ভূয়া চেক প্রদান করে প্রতারণা করার অপরাধে ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার রানপিং ফাজিলপুর গ্রাম ও বর্তমান নগরের চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকার এ-ব্লকের তিন নম্বর বাসার বাসিন্দা মো. শরফ উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে ইমরান চৌধুরীর বিরুদ্ধে সিলেটের চীফ মেট্রোপলিটন আদালতে (সিআর ১২৪/১৮ ইং) মামলা দাখিল করেন এসএমপির কোতয়ালি থানার জিন্দাবাজার কাজী ইলিয়াছ পলাশি ১৮ নম্বর বাসার বাসিন্দা মৃত এ্যাডভোকেট রফিক আহমদের ছেলে তারেক আহমদ।

তিনি তার মামলায় উল্লেখ করেন, তিনি একজন ব্যবসায়ি। তার সাথে পূর্ব পরিচয় ছিল ইমরানের। তখন ইমরান তাকে বলে সে সড়ক ও জনপথ বিভাগের তালিকাভূক্ত ঠিকাদার। সে কাজ করতে হলে তার প্রচুর টাকা দরকার। তাই তাকে কিছু টাকা ঋণ দেয়ার কথা বলেন। তারেক তাতে রাজি হয়ে ৬৫ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করেন। তখন ইমরান বলেন ২ মাসের মধ্যে কন্সট্রাকশনের বিল পাওয়ামাত্রই তা পরিশোধ করবেন। কিন্তু পরবর্তিতে দীর্ঘ দিন পাড়ি দিলেও টাকা পরিশোধ করেননি।

টাকার জন্য চাপ দিলে ২৫ লক্ষ টাকার আলফালাহ ব্যাংকের একটি চেক প্রদান করেন ইমরান। কিন্তু ব্যাংকে কোন টাকা ছিলনা। যার ফলে চেকটি ডিজওনার হয়। সে সময় টাকা প্রদানের জন্য ইমরান পুনরায় একটি তারিখ নেন। সেই তারিখে টাকা দেননি তিনি। পরবর্তিতে সেই চেকের ডিজওনারের মেয়াদও শেষ হয়ে যায়। যার ফলে বিশ্বাস ভঙ্গ করে প্রতারণা মূলক টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগে আদালতে মামলা দাখিল করা হয়। এই মামলায় আদালত ৭ বছরের দন্ড ও অর্থদন্ডের আদেশ প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, ছাত্রলীগ নেতা ইমরানের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতি ও টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগে সিলেটের বিভিন্ন আদালতে ৮ টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আর গত বছরের (১৫ এপ্রিল) চেক ডিজওনার ও টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগের দুটি মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেফতারও করেছিল।