বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: একটি সাধারণ প্রত্যাশা…মোহাম্মদ জাফরুল হাসান



ক’দিন পর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। গেল সংসদ নির্বাচনের ক দিন পর থেকেই এর আমেজ শুরু হয়েছে। উপজেলার অভিভাবকত্ব কে নিবে তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই।
সাধারণত আমাদের দেশে নির্বাচনের কথা আসলেই মনে হয় মিছিল-মিটিং, জ্বালাও-পোড়াও, দাঙ্গা-হাঙ্গামা। সাধারণ মানুষের মনে ভয় আর দুঃশ্চিন্তার ভাঁজ আসে এ নির্বাচন থেকেই।

নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন দায়বদ্ধ। তবে আমি মনে করি, অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা, তার স্বচ্ছতা, গ্রহণযোগ্যতা, শুধু নির্বাচন কমিশনের একক কর্মপ্রচেষ্টার উপর নির্ভর করে না। যদিও নির্বাচনের সফলতা ব্যর্থতার দায়-দায়িত্বের সিংহভাগ নির্বাচন কমিশনকেই বহন করতে হয়।

যে কারণে নির্বাচনের জন্য কমিশনকে মুখ্য ভূমিকায় রেখে ক্ষমতাসীন দল-জোট, ক্ষমতাপ্রত্যাশী প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল-জোটসহ অংশগ্রহণকারী ও প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী দলসমূহ, বিচার ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী, সিভিল প্রশাসন, দুর্নীতিদমন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহের একযোগে সমন্বিত উদ্যোগে ক্রিয়াশীল হয়েই কেবলমাত্র সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব।

কিন্তু সার্বিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির অভাব ও প্রতিষ্ঠানসমূহের দলীয়করণকৃত কিংবা ভঙ্গুর দশা এবং ক্ষমতার মালিক যে জনগণ তাদের আস্থা, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ব্যাপক গণউদ্যোগের ঘাটতিতে সব আয়োজন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্য থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনকে কঠোর এবং যথাযথ ভূমিকা রাখার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। এছাড়া নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী মোতায়েন, নির্বাচনী আয় নিরীক্ষায় স্বাধীন আইন তৈরি করা, ভোটারদের মধ্যে ভয়ের সংস্কৃতির দূর করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত। এছাড়াও নির্বাচনী প্রচারে ধর্মের ব্যবহার রোধ, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কোন রাজনৈতিক দল বা সংগঠনকে নিবন্ধন না দেয়ারও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বভূক্ত।

লেখকঃ সাংবাদিক