শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কমলগঞ্জে বাল্যবিয়ে থেকে মুক্ত হতে পারলোনা ৯ম শ্রেণীর চা শ্রমিক কন্যা



আসহাবুর ইসলাম শাওন, কমলগঞ্জ থেকে:: বাল্যবিয়ে নামীয় সামাজিক সমস্যার নেতিবাচক প্রভাব মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার মধ্যে অবস্থিত বিভিন্ন চা বাগান ও শব্দকর পল্লীগুলোতে পরিলক্ষিত হচ্ছে। যা এই জেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা দাড়িয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের সুবিধা সৃষ্টি করে ও বাল্যবিবাহের মত সামাজিক সমস্যাকে প্রতিরোধে বাল্যবিয়ে মুক্ত উপজেলা করার লক্ষ্যে গত দু’বছর আগে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের বিশাল আয়োজনে ১টি পৌরসভা ও ৯ টি ইউনিয়নের ৯০ টি ওয়ার্ডের সর্বসাধারণ, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের শতর্স্ফুতভাবে উপস্থিতির মাধ্যমে শপথবাক্য পাঠ করানো হলেও এ শপথ মানছেনা এ উপজেলার চা বাগান অধ্যুষিত চা শ্রমিক ও শব্দকর পরিবারের লোকজনরা ।

তাদের মধ্যেই এই বাল্যবিয়ের প্রবণতা সব চেয়ে বেশী।
সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে সবাই যখন কাজ করছে, তখন বাল্যবিয়ের মতো সামাজিক সমস্যার ডিজিটাল সমাধান পাওয়া সম্ভব। বিবাহ নিবন্ধণ প্রক্রিয়ায় তথ্যপ্রযুক্তির সংযোজন ঘটিয়ে স্বচ্ছতা আনয়ন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ ও প্রতিরোধ গড়া সম্ভব হচ্ছেনা একমাত্র চা বাগান ও শব্দকর পল্লীগুলোতে। ফাল্গুন মাস আসলেই পরিলক্ষিত হয় চা বাগান ও শব্দকর পল্লীগুলোতে বাল্যবিয়ের হিড়িকের দৃশ্য।

এবারও তার ব্যতয় ঘটলো না, কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগানের চা শ্রমিক পল্লীতে । বাল্যবিয়ের সামাজিক ব্যধিতে বুধবার রাতে বলি হতে চলেছে মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গত ২০১৮ সালের জিএসসি পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এক স্কুল শিক্ষার্থীর জীবন। ৮ম শ্রেণী পাশ হওয়া চা শ্রমিক কন্যা জ্যোৎতি পাশীর বিয়ে দেয়া হচ্ছে, একই ইউনিয়নের ধলই চা বাগানের দাদু পাশী নামের ২৮ উর্ধ্ব এক ব্যক্তির সাথে।

মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সোবহান জানান, জ্যোৎতি পাশী (১৬) গবীন্দপুর চা বাগান এলাকার গবীন্দ পাশীর মেয়ে। সে গত জিএসসি পরিক্ষায় মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অংশ গ্রহণ করে জি.পি.এ- ১.৫৭ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। ভর্তি অনুসারে তার বয়স ২২/০২/২০০৩ ইং।

স্কুল সার্টিফিকেট অনুযায়ী জ্যোৎতির বয়স ১৬ বছর হলেও ইউনিয়ন কর্তৃক দেয়া জন্মনিবন্ধন কার্ডে তার বয়স ১৮ বছর। যেখানে দেড় মাস আগে জ্যোৎতির পরিবারের লোকজন ১৮ বছর পুর্ণ হওয়ার কোন প্রমানপত্র উপস্থাপন করতে না পারায় উপজেলা প্রশাসন ও মাধবপুর স্কুল কর্তৃপক্ষ জ্যোৎতি পাশীর বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছিলো। সে জায়গায় দেড় মাস না পেরুতে জ্যোৎতি পাশীর বয়স ১৮ হয়ে গেল কিভাবে এই প্রশ্ন এখন সে এলাকার সচেতন মহলের।

এ বিষয়ে জানতে মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যান পুস্প কুমার কানু বলেন, আমরা টিকা কার্ড দেখে জন্মনিবন্ধন কার্ড দিয়েছি।
এ ব্যপারে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশেকুল হক বলেন,আমরা সংবাদকর্মীর মাধ্যমে খবর পেয়ে জ্যোৎতির পরিবারের লোকজনকে ডেকে পাঠালে,স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ তার পরিবারের লোকজন জন্মনিবন্ধন কার্ড উপস্থাপন করায় আমরা বিয়ের অনুমতি প্রদান করি।