সোমবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

জগন্নাথপুরে বেড়িবাধের কাজে এক পিআইসি কমিটির ব্যাপক অনিয়মে জনমনে ক্ষোভ



মো.শাহজাহান মিয়া, জগন্নাথপুর থেকে:: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে নলুয়ার হাওর পোল্ডার-১ এলাকার বেড়িবাধের কাজে এক পিআইসি কমিটির ব্যাপক অনিয়মে স্থানীয় প্রতিবাদী কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যে কোন সময় বড় ধরণের সংঘর্ষের আশঙ্কা বিরাজ করছে। অথচ পিআইসি কমিটির সভাপতি নিজেও জানেন না তাঁর প্রকল্প কোথায় এবং কে কাজ করছে। এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

জানাগেছে, জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের হরিনাকান্দি ও দাস নোয়াগাঁও গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে নলুয়ার হাওর পোল্ডার-১ এলাকায় ৮ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ১.১৩৯ মিটার বেড়িবাধের মেরামত কাজ পান ৪নং পিআইসি কমিটি। উক্ত কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

১২ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সরজমিনে কাজে ব্যাপক অনিয়ম দেখা যায়। এ সময় সুজন মিয়া, বারুত মিয়া, ধলু মিয়া, এবারত মিয়া, সজল দাস, আকল মিয়া, নিশিকান্ত দাস, প্রেমানন্দ দাস, মোকাব্বির মিয়া, রাজন মিয়া, মেঘাই দাস সহ স্থানীয় প্রতিবাদী কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, আগের স্থায়ী পুরনো বাধ কেটে মাটি তুলে আবার বাধে ফেলা হয়।

দুরত্ব স্থান থেকে মাটি এনে বাধে ফেলার কথা থাকলেও বাধের কাছ থেকে গর্ত করে মাটি এনে ফেলা হয়েছে। বাধের দক্ষিণাংশে প্রায় এক হাজার ফুট বাদ দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তারা আরো বলেন, আমরা অনিয়মের প্রতিবাদ করেও কোন কাজ হচ্ছে না। বরং উল্টো আমাদেরকে হুমকি-ধামকি দেয়া হয়। তাছাড়া বাধ মেরামত প্রকল্পের কাজ স্থানীয়রা পাওয়ার কথা থাকলেও এ কমিটির অধিকাংশ সদস্য জগন্নাথপুর পৌর সদর ও কলকলিয়া ইউনিয়ন এলাকার বাসিন্দা। যা নিয়ম বর্হিভূত।

এ সময় বাধে মাটি কাটার দায়িত্বে থাকা আরজু মিয়া বলেন, ট্রাক নেয়ার জন্য বাধ কাটা হয়েছে। তবে বাধের কাছ থেকে মাটি কাটার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দেননি। এ ব্যাপারে উক্ত পিআইসি কমিটির সভাপতি সাবেক ইউপি সদস্য রসময় দাস বলেন, আমি নিজেও জানিনা আমার প্রকল্প কোথায় এবং কে কাজ করছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জগন্নাথপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেবের ভাতিজা কাজ করছে। সে প্রকল্পের সেক্রেটারি। আমি শুধু এ টুকুই জানি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জগন্নাথপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব বলেন, আমি খোঁজ-খবর নিয়ে দেখবো। অভিযোগের বিষয়টি তিনি এরিয়ে যান। জগন্নাথপুর উপজেলার দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী (এসও) হাসান গাজী বলেন, অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল আলম মাসুম বলেন, সরজমিনে গিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।