বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সিলেট নগরীর ৬৭ হাজার শিশু পাচ্ছে আধুনিক হেলথকার্ড



শেখ আব্দুল মজিদ:: সিলেট নগরীতে ৬৭ হাজার শিশুকে আধুনিক হেলথকার্ড প্রদান করা হবে। বিশ্বের উন্নত দেশের মতো এই হেলথ কার্ডে ব্লাড গ্রুপ থেকে শুরু করে থাকবে সব ধরণের তথ্য।

একই সাথে নিউবর্ন (নবজাতক) শিশু জন্ম নেয়ার সাথে সাথে প্রদান করা হবে হেলথ কার্ড। প্রথমে সিলেট সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত সকল স্কুলে চালু করা হবে এ সার্ভিস।

পর্যায়ক্রমে শুরু হবে সিটির ভেতরে সব স্কুলে এমনই তথ্য জানিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
মেয়র জানান, নগরীতে বর্তমানে প্রায় ৬৭ হাজার শিশু রয়েছে। সবাইকে হেলথ কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার পক্রিয়া চলছে।

সিলেটকে একটি আধুনিক ক্লিন ও হেলথী নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে যা যা করা প্রয়োজন সব করতে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। আর পরিস্কর পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে তার পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হবে।

একই সাথে সিলেটের উন্নয়নে যারা মূল্যবান সম্পদ ছেড়ে দিয়েছেন তাদের নামের তালিকা করা হচ্ছে। তাদেরকে দেওয়া হবে কৃতজ্ঞতা সনদ। তিনি সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত নাম উল্লেখ করে বলেন, সিলেটের উন্নয়নে মন্ত্রী কোটি টাকার সম্পদ ছেড়ে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সাথে নগরীর অনেকেই তাদের মূল্যবান সম্পদ ছেড়ে দিয়েছেন ড্রেন, খাল, কালবার্ডসহ বিভিন্ন উন্নয়ন করতে তাদেরকে সিটি কর্পোরেশন মূল্যায়ন করবে।

এবং যারা উন্নয়নের স্বার্থে মূলবান জায়াগা ছেড়ে দিবেন তাদের সবার নাম তালিকাভূক্ত করে কৃতজ্ঞতা সনদ প্রদান করা হবে। ইতো মধ্যে যাড়া ছেড়েছেন তাদের নাম তালিকা করা হচ্ছে। শ্রীঘ্রই তাদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এবং পর্যায়েক্রমে সবাইকে সিসিটি কর্পোরেশন সম্মান স্বরুপ কৃতজ্ঞতা সনদ প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র আরিফ।

তিনি বলেন ক্লীন হেলথী শিক্ষিত সিলেট নগরী গড়তে হলে বুড়োদের দিয়ে হবে না। এখন থেকে নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে তাদেরকে গড়ে তুলতে হবে। তারাই গড়ে তুলবে আধুনিক হেলথী শিক্ষিত সিলেট নগরী। বাংলাদেশর মধ্যে সিলেট হবে আধুনিক নগরী। সুন্দর নগরী গড়তে আমার কাজ কে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। সবার পরামর্শ সহযোগিতা পেলে সুন্দর পরিবেশ ও হেলথী নগরী হিসেবে সিলেটকে গড়ে তুলতে পারবো।

সিলেট নগরীকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন নগরীতে গড়ে তুলতে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গত বছর নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে পাড়া-মহল্লায় প্রচুর ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছিল। এখন প্রায় মার্কেট বাসা-বাড়ির সামনে ময়লা আর্বজনা ফেলে রাখা হয়। যা থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে। শিক্ষার্থী ও পথচারিরাও হাঠতে কষ্ট হয়। এই দুর্গন্ধ পরিবেশ দুষিত করছে সাথে সাথে মানব দেহে নানা রোগের সৃষ্টি করছে। পুরানো অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। সবাই সচেতন হলে ক্লীন নগরী গড়ে তোলা সম্ভব।

২০১৭ সালে ডাস্টবিনে ময়লা-আবর্জনা ফেলার ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল সিটি করপোরেশন। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ ডাস্টবিন ব্যবহার করছেন না। সে সময় নগরীর বিভিন্ন মোড়ে ২০০ ডাস্টবিন বসানো হয়েছিল। ডাস্টবিনে ময়লা-আবর্জনা না ফেলায় রাস্তা অপরিচ্ছন্ন হওয়ার পাশাপাশি ড্রেনও ভরাট হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে অল্প বৃষ্টিতে নগরীতে হাঁটু পানি হওয়ার এটি একটি কারণ।

সিলেট সিটি করপোরেশন আবর্জনা নির্ধারিত স্থানে ফেলতে গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখলেও তা আলোর মুখ দেখছে না। বাসাবাড়ি, ফুটপাতের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা ডাস্টবিন ব্যবহার না করে রাস্তায় এবং নগরীর বিভিন্ন এলাকার ড্রেনে আবর্জনা ফেলেন। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আবর্জনার স্তুপ জমে থাকে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেটকে আধুনিক ক্লীন, হেলথী নগরী গড়তে আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন আধুনিক সিলেট নগরী গড়তে সবার পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রয়োজন। এতোমধ্যে পাতাল বিদ্যুৎ লাইন নির্মান কাজ শুরু করা হয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে ফুয়ারা নির্মনা ও সংস্কার করা হয়েছে। কালবার্ড, ড্রেইন নির্মানসহ বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজ চলছে। আগামী পাচ বছর সিলেট নগরীর উন্নয়নের বছর।
তিনি জানান, স্যোসাল মিডিয়া ফেসবুকেও লেখা হচ্ছে আমি নাকি পাগল হয়ে গেছে। যে যাই বলুন সিলেটের উন্নয়নে আমি কাজ করে যাবো। এর ব্যত্যয় গঠবে না। তিনি বলেন গঠনমুলক আলোচনা করা হউক। এবং জেনে শুনে যেন কোন বিষয়ে লিখা হয়। কান কথা শুনে কিছু না লিখার আহবান জানান মেয়র।