বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বসন্তের যুগলবন্দী হয়েছেন রানওয়ে ম্যানিয়াকের মডেলরা



এলো বসন্ত। বসন্ত আর ভালবাসা। একই সুতোয় গাঁথা। বসন্তের রং আর ভালোবাসার পরশ রাঙ্গিয়ে রানওয়ে ম্যানিয়াক আয়োজনে বসন্তের যুগলবন্দী সেজেছেন ম্যানিয়াকের মডেলবৃন্দ। ১০ ফেব্রুয়ারী রোববার বিকেল ৩টায় সিলেট নগরীর বিভিন্ন নান্দনিক স্পটে তাদের ফটোস্যুট করা হয়। আর ফটোস্যুট করার কাজে ব্যস্ত ছিলেন ফটোগ্রাফার খুরশেদ আলম সুমন। এতে মডেল হিসেবে ছিলেন, সুইটি, আফসান, কেয়া, ফারাবি ইমন, ফারহানা, ফাহিম, পাপিয়া, নোবেল। পোষাকে ছিলেন -আপন শাড়ী হাউস ও এলান। স্টাইলিং ও ডিরেক্সন দিয়েছেন এইচ ডি ইমন।
রবিঠাকুর বলে গিয়েছেন, “মধুর বসন্ত এসেছে, মধুর মিলন ঘটাতে”।
তো কবিগুরুর টিপস অনুযায়ী বসন্তের প্রথম দিনে গেরুয়া কিংবা বাসন্তী বসন আর পলাশ ফুলের গয়নায় সেজে যদি কাউকে বলি, ‘ভালোবাসি’; ফিরিয়ে দেয়াটা কিন্তু দারুণ কঠিন হয়ে যাবে! আর ফিরিয়ে দিলই বা! এই গানেই তো আবার কবি লিখেছেন, বসন্ত “পুরান বিরহ হানিছে”।
বসন্তে তো মনে শুধু প্রেম হানা দেয়না, বিরহও উঁকি ঝুঁকি দেয়। এই যে শীতের পোশাকগুলো এখনো তুলে রাখা যাচ্ছেনা, রাত হলেই হিম পড়ে। দুপুরের খাবারের পরে এখনো এককাপ আগুন গরম চা খেতে ইচ্ছা করে। গরম পানিতে চাপাতার সুগন্ধী বুকভরে টানতে গিয়ে হুট করেই কোথা থেকে কোকিল ডেকে ওঠে!
এইসব ভরদুপুর, কোকিলের ডাক, পলাশ ফুল, গেরুয়া বসন আর চাপাতার সুগন্ধী সব মিলিয়ে জোরে শ্বাস নিতে গেলে বুকের কোন শুকনো ক্ষতে কি তখন টান পড়ে? বসন্তের কোকিলকে তাই ক্কারী আমির উদ্দিন খুব মিনতি করে বলে গিয়েছেন “কুহু সুরে মনের আগুন আর জ্বালাইয়োনা”। বিরহও তো ভালোবাসার একটা অতি আবশ্যক রুপ! বিরহ ছাড়া ভালোবাসার ক্ষীর জমবে কী করে? আমিরুদ্দিন তো সেই কোকিলকেই আবার আকুতি করে বলছেন, “কুকিল আমার উপায় বল, প্রাণ বন্ধুয়ার খবর জানলে আমায় নিয়া চল, আমি যার নামে পাগল”।
বসন্তের যে বাসন্তী রঙ অর্থাৎ কমলা এবং উজ্জ্বল হলুদ- এই রঙগুলো হৃদয়াবেগ এবং কামনার সাথে সম্পৃক্ত। কমলা রঙ নৈকট্য ও উষ্ণতার প্রতীক। তাই পয়লা ফাল্গুনে বসন্ত উৎসবের সাথে সাথেই বাঙালি মেতে উঠতে পারে ভালোবাসার উৎসবে!বসন্ত উৎসব আর ভালোবাসার উৎসব আলাদাভাবে পালন করতে আগ্রহী। এ দুটো দিন উদযাপনের মাত্রায় ভিন্নতা আছে। তাঁর মতে, “পয়লা ফাল্গুন সবার মনে রঙ, আনন্দ আর শুদ্ধতা আনার একটা উপলক্ষ। এদিন প্রকৃতির সাজে সবাইকে সাজিয়ে শুদ্ধতা ছড়িয়ে দেয়া যায় সবার মাঝে। অন্যদিকে ভালোবাসা দিবস শুধুমাত্র প্রেমিক প্রেমিকার প্রেমকে উদযাপনের দিন। এর মাঝে অন্যদের কোন স্থান নেই”। এদিকে ফ্যাশন হাউজ আপন শাড়ি হাউস এর কর্ণধার ইয়াসিন সুমন জানালেন, “বসন্তকে উপলক্ষ্য করেই ক্রেতারা বেশি ভিড় করেন তাঁর ফ্যাশন হাউজে। ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে এখনো সেভাবে কেনাকাটার রেওয়াজ চালু হয়নি”। আর তাই ফ্যাশন হাউজগুলোও বসন্তের বিশেষ কালেকশন বাজারে ইতিমধ্যেই নিয়ে এসেছে।
সব মিলিয়ে যুগ যুগ ধরে বসন্ত আর প্রেম মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে এই বাংলায়! কেবল বসন্ত এলেই কোকিল কুহু সুরে ডেকে উঠে। আর তাই প্রেমে বিরহে রঙে রৌদ্রে উজ্জ্বল সার্বজনীন বসন্ত উৎসবই বাঙ্গালির প্রকৃত ভালোবাসার দিন।