সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হতে চান শিরিন আক্তার বেলি



একাদশ জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে চান ঢাকা মহানগর উত্তর যুবমহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শিরিন আক্তার বেলি। সংরক্ষিত মহিলা আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়র প্রত্যাশী শিরিন আক্তার বেলি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ২নং ওয়ার্ডের মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রকিব-এর সুযোগ্য কন্যা। তিনি মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত করলে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। শিরিন আক্তার বেলির রয়েছে দীর্ঘ ২২বছরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের ইতিহাস এবং বাবা স্বাধীন পূর্ব ও পরবর্তী বাংলাদেশে গণমানুষের রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত।

বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুর রকিব জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সংগঠন আওয়ামীলীগের উদারমনা রাজনৈতিক আদর্শে উজ্জীবিত হয়েই মূলত রাজনীতিতে আসা শিরিন আক্তার বেলির। শিরিন আক্তার বলেন, আমি ছোট থেকেই আওয়ামী লীগের আদর্শে বিশ্বাসী। তার পরিবারও আওয়ামী ঘরানার। ছোটবেলা থেকে আওয়ামী লীগ সমর্থন করা পরিবারে বেড়ে উঠেছি। আশা করছি, ভালো কিছু করতে পারব।’

রাজনীতির জগতের অনেকেরই সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ হয়েছে এর আগে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের টিকিট নিয়ে অনেকেই এমপি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। যারা সরাসরি ভোটে এমপি হতে পারেননি, এমন অনেককে সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি করার নজির রয়েছে। অনেকে মন্ত্রীও হয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও অনেকে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে তুমুল প্রতিযোগিতা চলছে অনেকের মধ্যেই।

সেই দৌড়ে নিজেকে শামিল করেছেন শিরিন আক্তার। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সংরক্ষিত আসনের জন্য মনোনয়ন চাই। এ দায়িত্ব পালন করার মতো যোগ্যতা আমার আছে। আছে অভিজ্ঞতাও। নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের জন্য অনেক দিন ধরে কাজ করে আসছি। প্রধানমন্ত্রী যদি আমার ওপর আস্থা রাখেন, তা হলে অবশ্যই আমি তার মূল্যায়ন করব।’

বাবা পাকিস্তান আমলে ১৯৬০ সালে রেলওয়েতে চাকুরিরত অবস্থায় শত ঝুকির মাঝেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। ১৯৭১-এ রণাঙ্গনের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও একসময় হবিগঞ্জের মাধবপুর থানা আওয়ামীলীগের সদস্য সচিব হিসেবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন।

শিরিন আক্তার বেলি ১৯৯৭সাল থেকে রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকায় থাকাকালীন সময়ে মানুষের জন্য কল্যাণমুখী রাজনৈতিক সংগঠন বর্তমান ঢাকা মহানগর উত্তরের ১৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের অধীনে প্রবীণ নেতা আলী চৌধুরী, এস. এম. জাহিদ, মহিলা লীগের মনি (গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত), কমিশনার কাদেরের মাধ্যমে সাথে রাজনৈতিক অঙ্গনে পদার্পন।

১৯৯৯ সালের শেষের দিকে উনার ছেলেকে তৎকালীন জাতীয় বিদ্যাপীঠ মণিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি করলে মিরপুর থানাধীন ১৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের অধীনে সামছু মোল্লা কাকা, খায়ের ভূইয়া, খাদেজা আক্তার শিল্পী আপা (কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগ), মহিলা লীগের মিনা মালেক, শিরিন রুকছানা, মায়া,রোকেয়া জামান,সামছু (১৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি) সাথে একত্রে রাজপথে বিএনপি জামায়াত জোটের সকল সন্ত্রাস,অনিয়ম আর দুর্নীতির-দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন করেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার কারণে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে উনার একমাত্র ছেলের হাত ভেঙ্গে দিয়েছিলো বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মদদপুষ্ট শিক্ষক।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অসীম দুর্নীতি আর অনিয়ম শুরু হলে তার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন এবং সেময় জাতীয় বিদ্যাপীঠ মণিপুর উচ্চ বিদ্যালয়কে বিএনপি-জামায়াতের কালো থাবা থেকে রক্ষা করতে অভিভাবক ফোরামের আহ্বায়ক কমিটিতে সদস্য ছিলেন এবং সফল আন্দোলনে নেতৃত্বের অগ্রভাগে ছিলেন।

এছাড়া তিনি বিএনপি-জামায়াতের সকল জঙ্গীবাদ, অপরাজনীতি, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে জননেত্রী শেখ হাসিনা-র হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ যুবমহিলা লীগের তৎকালীন নেতৃবৃন্দ নাজমা আক্তার (সভাপতি,কেন্দ্রীয়), অপু উকিল (সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয়), সাবিনা আক্তার তুহিন, খাদেজা আক্তার শিল্পী, ঝুমা, রীনা, আসমা, পারুল (কেন্দ্রীয় কমিটি), পারভীন খায়ের, সাবিনা, রোজিনা, মহিলা লীগের দীপ্তি (সাবেক এমপি), সালমা কামাল, রীনা, নাজমা, সারোয়ার আলম, আলহাজ ইলিয়াস মোল্লা (এমপি ঢাকা-১৬) ছাড়াও অনেকের সাথে রাজপথে সোচ্চার ছিলেন তিনি।

তত্মাবধায়ক সরকার এলে মাইনাস টু ষড়যন্ত্রমূলক ফরমুলার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে থাকার ব্যাপারে ছিলেন আপোষহীন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান,সাজেদা চৌধুরী, প্রয়াত সৈয়দ নজরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাহারা খাতুন, পপি, মতিয়া চৌধুরী, নাজমা আক্তার এবং যুবমহিলা লীগের সকল নেতৃবৃন্দের সাথে সোচ্চার ভূমিকা রাখেন। জননেত্রীর মুক্তির ব্যাপারে গণসাক্ষর কর্মসূচি পরিচালনা করেন। এছাড়াও তিনি বৃহত্তর মিরপুর ও বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত থেকে সমাজসেবায় নিয়োজিত আছেন।
বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবমহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আছেন এবং একাদশ জাতীয় সংসদে বর্তমানে মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ থেকে সংরক্ষিত নারী সংসদীয় আসনে একজন প্রার্থী হিসেবে দলের মূল্যায়ন প্রত্যাশী।