সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৭ ঘর পুড়ে ছাই



দক্ষিণ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: দক্ষিণ সুনামগঞ্জের জয়কলস ইউনিয়নের আসামপুর গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৭ টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়েছে।
এতে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, মালামাল ও প্রবাসী ব্যাক্তির পাসপোর্ট-ভিসা সহ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫ টায় এ অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটে। খবর পাওয়া মাত্র দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে যেতে চাইলে পাগলা বাজার নদীর পাড়ে এসে যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় গাড়ি, ভাড়ী যন্ত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে সেখানে যেতে পারেনি।
এবং স্থানীয়দের প্রায় ১ ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ততক্ষণে আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে মাটিতে মিশে যায় ৫টি পরিবারের ৭ বসতঘর।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হলো তা এখনো জানা যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে গিয়ে জানা যায়- আসামপুর পশ্চিমহাটি (স্কুলবাড়ি) গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মিয়াধন আলীর বাড়িতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় লাগা আগুনে পুড়ে মাটিতে মিশে যায় ৫টি পরিবারের ৭টি বসত ঘর। এদের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থরা হলেন- মৃত মিয়াধন আলীর ছেলে প্রবাসী তাজুদ মিয়া, জুনেদ আলী, মনকুশ আলীর বাক্প্রতিবন্ধী সন্তান আয়াজ আলী ও সোহেনা বেগম, গেদা মিয়ার ছেলে আফতাব আলী ও মৃত মংলা মিয়ার ছেলে বিলাল মিয়া। তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকা। এদের মধ্যে প্রবাসী তাজুদ মিয়ার পাসপোর্ট-ভিসা পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্থ আফতাব আলী বলেন- আমি অসুস্থ মানুষ। মানুষের কাছ থেকে ধার দেনা করে ঘরের মধ্যে একটি দোকানের ব্যভস্থা করেছিলাম। সব পুড়ে ছাই হয়েছে। আমার বেঁচে থাকার আর কোনো অবলম্বন রইলো না।’

ক্ষতিগ্রস্থ প্রবাসী তাজুদ মিয়া বলেন- আমার বিদেশে ফেরত যাওয়ার তারিখ ছিলো চলতি মাসের ১৬ তারিখ। বিমানের টিকেট, পাসপোর্ট, ভিসাসব কিছুই ঘরে ছিলো। আমরা মাজার জিয়ারতের উদ্দেশে সিলেটে ছিলাম। আমার জীবনের সব সঞ্চয় আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে। নগদ টাকা, দলিলপত্র, স্বর্ণালঙ্কারসহ সব কিছু শেষ। কি করবো কিছু বুঝতে পারছি না।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ আলী হায়দার বলেন- ঘটনা ঘটার খবর পেয়ে আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য পাগলা বাজারের উত্তর মাথায় যাই। সেখান থেকে আমরা যাওয়ার জন্য আধা ঘন্টা চেষ্টা করি। কোনো ব্যবস্থা করতে না পারায় পরে আমরা নিজেরা গিয়ে পরিদর্শন করে এসেছি। দেখেছি। ৭টি ঘর পুড়ে ছাই হয়েছে। আগুন লাগার কোনো কারণ এখনো জানা যায়নি।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘ঘটনার খরর পেয়ে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেণ। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে ও তদন্ত চলছে।