সোমবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে কাজ করছে সরকার: ড. মোমেন



পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, রোটারি বিশ্বব্যাপী মানবতার কল্যাণ সাধনার আন্দোলন করছে। সমাজের অসহায়-দরিদ্র মানুষের আর্তসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে রোটারির অবদান অনস্বীকার্য। সমাজের অসহায়, দরিদ্র এবং গরীর মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সাহায্য করছে রোটারি। বিশ্ব থেকে পোলিও নির্মূলের আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে রোটারি, তা সত্যিই প্রশংসার দাবীদার।

রোটারি ডিস্ট্রিক্ট ৩২৮২-এর দুই দিন ব্যাপী ডিস্ট্রিক্ট কনফারেন্সের দ্বিতীয় পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হওয়া কনফারেন্সে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ক্লাবের রোটারিয়ানসহ ৩২৮২-এর রোটারিয়ানরা অংশগ্রহণ করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারের পক্ষে সব কাজ করা সম্ভব নয়। ক্ষুধা, দরিদ্র বিমোচন এবং ভিক্ষাবৃত্তিকে নির্মূলের জন্য রোটারিকেই কাজ করতে হবে। রোটারির দক্ষ, নিবেদিতপ্রাণ, প্রত্যয়ী এবং আন্তরিক নেতৃত্ব দেশকে গড়ে তুলতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি। সরকারের পক্ষ থেকে রোটারিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।

দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুলস্থ কুশিয়ারা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলে শুক্রবার সন্ধ্যায় আয়োজিত সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রোটারি ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর দিল নাশিন মহসিন, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রোটারি আরআইপিআর পিডিজি রোটারিয়ান কৃষ রাজেন্দ্র।

প্রধান অতিথি ড. এ কে আব্দুল মোমেনের জীবনী পাঠ করেন পিডিজি ডা. মঞ্জুরুল হক চৌধুরী। শুরুতে তাদেরকে উত্তরীয় এবং ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এসময় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ডিস্ট্রিক্ট কনফারেন্স চেয়ার রোটারিয়ান পিপি এ কে এম শামসুল হক দীপু। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন রাহিম ইসলাম মিসলু, রোটারি প্রত্যয় পাঠ করেন রোটারিয়ান পিপি ফয়সল করীম মুন্না। সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ছাড়াও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন এবং রোটারি ডিস্ট্রিক্ট কনফারেন্সের ইন্সপ্রিরেশন ক্যান্ডল জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এদিকে, রোটারি ডিস্ট্রিক্ট কনফারেন্সে দিনব্যাপী কয়েকটি আলোচনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

এসব প্যানেল আলোচনা শুরু হওয়ার আগে সম্মেলেনর প্রথম পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সি এম শাফী সামি। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রোটারি ডিজিই লে. কর্নেল (অব.) এম. আতাউর রহমান পীর, ডিজিএন ড. বেলাল উদ্দিন আহমদ। এরপর শুরু হয় প্যানেল আলোচনা।

প্রথম পর্বে ‘পিস এন্ড কনফ্লিক্ট রিজোলুশন-রুল্স এন্ড রিসপনসিবিলিটিস অব কমিউনিটি লিডারস’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পিডিজি এম এ আউয়াল। এতে রিসোর্স পার্সন হিসেবে বক্তব্য রাখেন রোটারি ক্লাব অব চিটাগাং-এর পিপি ডা. মইনুল ইসলাম মাহমুদ, রোটারি ক্লাব অব সিলেট-এর পিপি প্রফেসর ড. তোফায়েল আহমদ, রোটারি ক্লাব অব টাঙ্গাইল-এর পিপি আবুল কাশেম মো. খলিলুল্লাহ।

দ্বিতীয় পর্বে মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন আইপিডিজি প্রফেসর ড. মো. তৈয়ব চৌধুরী। এতে ‘ইকোনমিক ডেপেলপমেন্ট-ইনভেস্টমেন্ট অপরচুনিটিজ এন্ড ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। কী-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ এর প্রফেসর ড. ফারহাত আনোয়ার, রিসোর্স পারসন ছিলেন রোটারি ক্লাব অব চিটাগাং খুলশির প্রেসিন্টে ইলেক্ট সৈয়দ মোহাম্মদ আবু দাউদ, রোটারি ক্লাব অব মেঘনা নরসিংদীর পিপি রোটারিয়ান মাসুদুর রহমান, রোটারি ক্লাব অব সিলেট এলিগ্যান্স-এর পিপি আহমদ রেজাউল করীম জুবায়ের।

তৃতীয় পর্বে বিল্ডিং আওয়ার ফিউচার থ্র লিডিং আওয়ার ইউথস’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এখানে মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পিডিজি ডা. মঞ্জুরুল হক চৌধুরী। আলোচক ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামাল আহমেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের প্রধান ও পিডিজি প্রফেসর ড. মো. তৈয়ব চৌধুরী, ডিআরসিসি ইমামুজ্জামান চৌধুরী শামিম, ডিআরআর রোটার‌্যাক্টর নাফিজুল আলম, ডিআইআর মো. আহনাফ ইউ মাহী ভূঁইয়া। দিনব্যাপী এই সম্মেলনের বিভিন্ন পর্বে মনোজ্ঞ সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে দেশ-বিদেশের শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন। পুরো সম্মেলনে সঞ্চালনা করেন রোটারিয়ান তানভীর আহমদ চৌধুরী এবং মরিয়ম জান্নাত।