শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পাথর খেকো আলা উদ্দিনের কালো থাবা এবার জাফলংয়ের বালুতে



ডেস্ক নিউজ:: রাতের আধাঁরে বালু লোপাটের নেতৃত্ব দিয়ে আবার আলোচনায় এসেছে জামায়াতের কথিত রুকন আলাউদ্দিন। গোয়াইনঘাট কান্দিবস্তি বড় জুম এলাকা থেকে তার নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেট এ বালু লোপাটের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার ভোর রাত ২টা থেকে প্রায় ১৫০টি ড্রাম ট্রাক দিয়ে বালু পরিবহন করে তারা।

প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের এ বালু অবৈধভাবে লোপাট করে নেয় আলাউদ্দিন বাহিনী। গত বছর অবৈধভাবে পাথর উত্তেলন করা অভিযোগ রয়েছে আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে। আলাউদ্দিন জামায়াত রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলে ইদানিং মুখ মুখোশের আড়ালে নিজকে আ‘লীগ রাজনীতির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে একটি লুঠেরা সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।

স্থানীয় জামায়াত-শিবিরকে প্রায় ১৭টি মোটর সাইকেল সাংগঠনিক কাজের জন্য দান করেছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে আলাউদ্দিন্ও তার পরিবারের। অল্প দিনে কোটি কোটি টাকার মালিক সহ দামী গাড়ি হাঁকিয়ে গ্রামের বাড়ি ছাতকের কালারুখা ইউনিয়নের মুক্তিগাঁও থেকে গোয়াইঘাটে যাওয়া আসা করে আলা উদ্দিন ওরফে পাথর আলাই। তার নিয়ন্ত্রিত স্থানীয় লুঠেরা সিন্ডিকেটের মতে, আলা উদ্দিন এমপি, প্রশাসনের সাথে গভীর সর্ম্পক রেখে চলেন।

তাই যা খুশি তিনি করলে কেউ তাকে কিছু করতে পারে না। অনেকে তার বিরুদ্ধে চেষ্টা করে কিছু করতে পারেননি। প্রশাসনের লোকজন তার পকেটে রাখতে পারেন, এমন ক্ষমতা রয়েছে আলাউদ্দিনের।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ব্যক্তি মালিকানাধিন জায়গা থেকেও জোরপূর্বক অতীতে পাথর উত্তোলন করেছেন আলা উদ্দিন বাহিনী। কেউ বাধা দিতে গেলে মামলা দিয়ে হয়রানী করে তটস্থ করে। এমনকি, সীমান্ত ঘেঁষা জাফলং এলাকায় ইয়াবা, মদ ব্যবসার একটি সিন্ডিকেট রয়েছে আলা উদ্দিনের।

গত বছর শ্রীপুর এলাকায় একটি কোয়ারির নিয়ন্ত্রন নিয়ে মারামারির ঘটনায় নিহত হন এক ব্যক্তি। উপজেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী লিয়াকত আলী ও স্থানীয় কামাল চেয়ারম্যানের লোকজনের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এই হামলা পরবর্তী মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হয় জনৈক তাহেরকে। তাহেরের বাড়ি জাফলং এলাকার কান্দিবস্তিতে। এ ঘটনার সাথে নূন্যতম সর্ম্পকও নেই। কিন্তু এখন তাহের হত্যা মামলার আসামী, ২ মাস বিনা কারনে জেল কেটেছে তাহের।

তাহেরের অপরাধ ছিল, তার জায়গা থেকে অবৈধভাবে আলা উদ্দিনকে পাথর তুলতে বাধা দান। সেকারনে কৌশলে হত্যা মামলায় জড়িয়ে দেয় আলা উদ্দিন। সূত্র জানায়, আলা উদ্দিনের পার্টনার রয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা জেলা পরিষদ সদস্য শাহপরান। জামায়াতের কথিত রুকন আলা উদ্দিনের পিতাও উস্তার একজন পাথর খেকো।

ভোলাগঞ্জে পাথর নিয়ে লুঠপাটে জড়িয়ে পড়ায় শামীম বাহিনীর হাতে লাঞ্চিত হয়ে এলাকা ছাড়া হন উস্তার আলী। এব্যাপারে আলা উদ্দিন বলেন, তিনি জামায়াত রাজনীতি করেননি। স্থানীয় এমপি মুহিবুর রহমান মানিকের ঘনিষ্টজন হিসেবে নিজের পরিচয় উল্লেখ করে বলেন, আমি এখন পাথর বা বালুতে নেই। কেউ আমার বিরুদ্ধে অহেতুক অভিযোগ করছে। আমার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ রয়েছে, সবই উদ্দেশ্যপ্রণোধিত।
স্থানীয় গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার পাল বলেন, রাতের আধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি তার নজরে নেই, এব্যাপারে তিনি খোজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।