সোমবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বিশ্বনাথ ভুমি অফিসের সাজানো রির্পোট: নিরিহ মানুষ হয়রানীর শিকার



বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:: বিশ্বনাথ উপজেলার সহকারি কমিশনার ভুমি ও থানা পুলিশের সাজানো রির্পোটের প্রেক্ষিতে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ভুমি সংক্রান্ত বিরুধের একটি মামলা খারিজ করে দিয়েছেন।

গত (১৫-নভেম্বর) বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত মামলাটি খারিজের আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিবাদি পক্ষের রুহেল আহমদ ও সুহেল আহমদ।

জানা যায়, উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়নের বিলপার গ্রামের একটি নিরিহ পরিবারকে প্রভাবশালি প্রতিপক্ষ বাড়ির উপর দিয়ে রাস্তা নেয়ার দাবি করে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত জুলাই মাসে একটি মামলা (নং-বিবিধ ৩৫/১৮ইং) দায়ের করেন। আদালত তদন্তক্রমে রিপোর্ট দেয়ার জন্য সহকারি কমিশনার ভুমি বিশ্বনাথ ও থানা পুলিশকে নির্দেশ প্রদান করেন।

সহকারি কমিশনার ভুমি অফিসের সার্ভেয়ার আব্দুর রাকিব আর্থিক সুবিধা নিয়ে একটি সাজানো রিপোর্ট আদালতে দাখিল করেন। তাতে সহকারি কমিশনার ভুমি ফাতেমা-তুজ-জোহরা একমত পোষণ করে আদালতে প্রেরণ করে। অনুরুপ ভাবে বিশ্বনাথ থানার এসআই শফিকুল হক ওপর একটি রিপোর্ট দাখিল করেন। উভয় রিপোর্টে বলা হয় পৌষনী মৌজার আরএস ৩০৩ খতিয়ানের ৬৯০ দাগ বাড়ি রকম ভুমি এবং বাড়ির পূর্বপাশে উত্তর দক্ষিণে ৪০ হাত দৈর্ঘ্য ও ৭ ফুট প্রস্ত দক্ষিণ মুখী রাস্তা রয়েছে।

কিন্তু এসএ বা বিএস রেকর্ডে ৬৯০ দাগের উপর দিয়ে রাস্তার কোন চিহ্ন নেই। ৬৯০ দাগটি ৩টি খতিয়ানে ৪২৭ ধন মিয়া, ৩৩৩-এ মনোহর আলী, এবং ৩০৩ নং খতিয়ানের অংশ বাদির পিতা মকরম আলীর নামে রেকর্ড রয়েছে। এই তিনটি খতিয়ানের উপর দিয়ে সরেজমিনে কিংবা রেকডীয় কোন কাগজ পত্রে রাস্তা নেই।

তার পরও তদন্ত রির্পোটে রাস্তা আছে মর্মে উল্লেখ করা হয়। বাদি তার পিতার নামের অংশের ৩০৩ খতিয়ানের জায়গার ওপর মামলাটি দায়ের করেন। ওপর দুটি খতিয়ানের কথা মামলায় উল্লেখ করা হয়নি। ফলে শুনাননি শেষে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। বাদি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট আতিকুর রহমান, বিবাদি পক্ষে ছিলেন সিনিয়র এডভোকেট এএসএম গফুর।

এভাবে জমি সংক্রান্ত মামলার যেকোন তদন্ত ভুমি অফিসের উপর দায়িত্ব দেয়া হলে আর্থিক সুবিধা নিয়ে সাজানো বানোয়াট রির্পোট দেয়া হয় এবং এতে অনেক নিরিহ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। গ্রামবাসিরা শান্তিপূর্ণ ভাবে গরিব মনোহর আলীর সাথে প্রতিপক্ষের বিরুধ নিস্পত্তি করলেও প্রশাসনের লোকজন আর্থিক সুবিধা নিয়ে আইনের ফাঁক ফোকরের সুযোগে পরিবারটিকে হয়রানি করা হচ্ছে। মামলার বাদি আব্দুল কাদির জানান, মামলাটি খারিজ হয়েছে আদালত দেওয়ানী মামলা করতে বলেছেন।