সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০ ২০
লেখালেখি ডেস্ক
১৩ অক্টোবর ২০ ২০
১:১৩ পূর্বাহ্ণ
নিভৃতচারী ওলী আল্লামা শাহ শিঙ্গাইরকুড়ী (রহ)

আলী ফজল মোহাম্মদ কাওছার:: ১৩ই অক্টোবর নিভৃতচারী ওলী আল্লামা শাহ আব্দুল মান্নান চৌধুরী শিঙ্গাইরকুড়ী (রহ) এর ওফাত দিবস। ১৯৮১ সালের এই দিনে আল্লাহ পাকের মাহবুব বান্দা ৭০ বছর বয়সে পরম প্রিয় মনিব ও মাওলার সান্নিধ্যে পাড়ি দেন।  ৪০ বছর বছর অতিবাহিত হলো উনার ওফাতের। বরাক উপত্যকার একজন নিভৃতচারী আল্লাহর ওলী ছিলেন, যিনি সাধারণ জনসাধারণের কাছ থেকে আড়ালে থাকতে পছন্দ করতেন । তিনি ছিলেন ইহকালীন যশ-খ্যাতি ও সম্পদ প্রাচুর্য বিমুখ। এই ওলী হচ্ছেন হযরত মাওলানা আব্দুন নুর গড়কাপনি (রহ)। মাওলানা আব্দুন নুর গড়কাপনী (রহ) এর একমাত্র খলিফা ছিলেন আল্লামা শাহ শিঙ্গাইরকুড়ী (রহ)।  মুর্শিদ যেমন স্বভাবের ছিলেন তিনিও ছিলেন সেই স্বভাব ও প্রকৃতির মহান বুযুর্গ। তাইতো সারাজীবন তিনি প্রচার বিমুখ ছিলেন। নিরবে নিভৃতে সারাজীবন আল্লাহ পাক ও আল্লাহ পাকের হাবিব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন। পরবর্তীতে তিনি মুর্শিদ মাওলানা আব্দুন নুর গড়কাপনী (রহ) এর নির্দেশক্রমে হাতেম আলী খ্যাত শাহ সুফী ইয়াকুব বদরপুরী বুন্দাশিলী (রহ) এর কাছে বায়আত গ্রহণ করেন ও খেলাফত লাভ করেন।  আল্লামা শাহ শিঙ্গাইরকুড়ী (রহ)  তখনকার সময়ের একজন মহান বুযুর্গ ছিলেন কিন্তু উনার সম্পর্কে অনেকে জানেনা। কারণ তিনি নিভৃতচারী ছিলেন তাই উনার সম্পর্কে জানা সম্ভব হয়নি।  শিক্ষাজীবনে তিনি দেওরাইল সিনিয়র মাদ্রাসা থেকে হাদিস,তাফসীর,আকাঈদ,বালাগাত,ফারাঈদ,মান্তিক, নাহু-ছরফ প্রভৃতি শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। উত্তর ভারতের সর্ব প্রাচীন ইসলামী শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র রামপুর আলিয়া মাদ্রাসা থেকে তাফসীর,ফিকহ,আকাঈদ,নাহু-ছরফ প্রভৃতি শাস্ত্রে গভীর পান্ডিত্য অর্জন করেন। আল্লামা শিঙ্গাইরকুড়ী (রহ) প্রসিদ্ধ কারী মাওলানা আব্দুর রউফ শাহবাজপুরী করমপুরী (রহ) এর নিকট থেকে ইলমে কিরাতের সনদ লাভ করেন। শিক্ষাজীবনে সর্বোচ্চ ধাপ কৃতিত্বের সাথে উত্ত্বীর্ণ হওয়ার পর প্রচার বিমুখ নিভৃতচারী জ্ঞান তাপস কোনো প্রসিদ্ধ দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেননি। বরং নীরবে-নিভৃতে মহান মালিকের সান্নিধ্য অর্জনের জন্য তিনি মসজিদে কর্মজীবনের বেশীরভাগ সময় অতিবাহিত করেন। তিনি বহু সংখ্যক মাদ্রাসা,মসজিদ,ঈদগাহ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। উল্লেখ্য যে আল্লামা শিঙ্গাইরকুড়ী (রহ) স্বপ্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেছেন। উনার জীবনে অনেক ক্বারামাত সংগঠিত হয়েছে।
তিনি সদা সত্যবাদী ও স্পষ্টবাদী ছিলেন। মিথ্যার প্রলেপ ও সত্যের অপলাপ উনার নিকট অসহনীয় ছিল। গীবত,পরনিন্দা,পরশ্রীকাতরতা,মিথ্যা অপবাদ আরোপ হিংসা বিদ্বেষ ইত্যাদি ছিল চক্ষুশূল। 
আল্লামা শিঙ্গাইরকুড়ী (রহ) আমল-আখলাক, সীরাত ও সুরতে সুন্নতে নববির পূর্ণ অনুসারী ছিলেন। উনার গোটা জীবন কুরআন-হাদীসের নির্দেশনা মত অতিবাহিত করেন।  তিনি উচ্চ পর্যায়ের আশেকে রাসুল ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করার সময়  উনার অবস্থার পরিবর্তন হয়ে যেত এবং চেহারার মাঝে নুরানি রৌশন ঝলক দিত। এ নুরানি রৌশনীতে গোটা মাহফিল আলোকিত হওয়ার ঘটনা জীবনে অনেক বার ঘটেছে। 
আল্লামা শিঙ্গাইরকুড়ী (রহ) কে নিয়ে বিস্তারিত জানতে উনার জীবন ও কর্ম নিয়ে রচিত গ্রন্থ দেখতে পারেন। 
আল্লাহ পাকের মকবুল ওলী নিভৃতচারী জ্ঞান তাপস আমাদের মাঝ থেকে চলতে গেছেন অনেক বছর আগে কিন্তু আদর্শ রেখে গেছেন। উনার নিজবাড়ী জকিগঞ্জ উপজেলার বরকতপুরে মাজার শরীফ। দুর দুরান্ত থেকে এখনও এত বছর পর অনেক মানুষ আসেন মাজার জিয়ারতে, রুহানি ফয়েদ্ব লাভে ধন্য হতে। আল্লাহ পাক এই মকবুল ওলীর রুহানি ফয়েদ্ব আমাদেরকে নসীব করুন।
লেখকঃ চাকুরীজীবি, সিলেট।

সম্পর্কিত খবর

পুরানো খবর দেখার জন্য