শনিবার, ডিসেম্বর ৫, ২০ ২০
লেখালেখি ডেস্ক
২৫ অক্টোবর ২০ ২০
১২:৫৫ অপরাহ্ণ
কোভিড-১৯: যুদ্ধ জয়ের পথে- শেখ ছালেহ আহমদ

করোনা মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে কত লক্ষ লোক মারা যেতে পারে? সম্ভবত ১০/১১ লক্ষ অথবা তার চেয়ে বেশি মানুষ মারা যেতে পারে। যা একটি নিছক ধারনা নয়। কেননা এই কল্পিত সংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছতে বাস্তবতার অলঙ্গনীয় হাতের দুর্দান্ত প্রদর্শন টুকু শুধুমাত্র সময়ের সাথে সাথে দূরত্বটুকু কমিয়ে আনার মত একটি নির্ভুল পদযাত্রার ন্যায়। সংখ্যার তারতম্য হয় তো একটি স্বাভাবিক বিষয় হতে পারে তবে এক্ষেত্রে আত্মরক্ষার জন্য মানুষের সাবলীল প্রচেষ্টা অবাক করার মত। প্রয়োজন মানুষকে অনেক কিছু শিখিয়ে দিতে পারে। করোনা তা আবার নতুন করে জানিয়ে দিল। 

যেমন করে আকাশের উড়ন্ত চিলগুলির হিংস্র থাবা থেকে বাঁচাতে মোরগের প্রচ- শব্দ করে ডাকতে থাকা এবং পরিণামে বাচ্ছারা ঝোপ-ঝাড়ের আড়ালে নিজেদের লুকিয়ে ফেলে যা অবশ্যই প্রচ-ভাবে আত্মরক্ষার দিকে ধাবিত হওয়ার মত। যা কিনা মাস্ক পরিধান ও সাবান পানি দ্বারা হাত ধৌত করার মানবজাতির কৌশলের অনুরূপ বটে। উভয়ের মধ্যে কৌশলের ভিন্নতা থাকতে পারে কিন্তু ফলাফল অনুরূপ প্রায় কাছাকাছি। কিন্তু যদি গভীর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে আপনি দেখেন তবে তা আপনাকে নিয়ে যাবে মহাকাব্যিক এক বিস্ময়কর বিচরণ ক্ষেত্রে। এখানে আপনি অনুভবে বুঝে নিতে পারবেন মানুষের আত্মরক্ষার প্রচেষ্টার সাথে অলক্ষ্যের এক মহাশক্তির অকৃত্রিম অবদান যা এমনি এমনি পাওয়া যায়। অথবা সৃষ্টিকর্তার কাছে মানুষের অনবরত প্রার্থনার একটি সচরাচর ফলাফল সকল সময় আমাদের অলক্ষ্যে ভাল ফলাফল হিসাবে কাজ করে থাকে। 

পবিত্র বোখারী শরীফের একটি হাদিসের আলোকে লিখছি যা হযরত আবু- হোরায়রা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেন- আল্লাহতায়ালা যখন মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেন তখন এ বিষয়টি লিখিত আকারে মহান আরশের উপর লিখে দিয়েছেন। অর্থ- ‘নিশ্চয় আমার রহমত গজবের তুলনায় প্রবল।’ যেমন আল্লাহর রহমতের আধিক্যের কারণেই আমরা পৃথিবীতে নিরাপদে বসবাস ও চলাফেরা করে থাকি। 

তবে এখানে একটি বিষয় প্রনিধানযোগ্য যে, উপরে উল্লেখিত গজব শব্দ দ্বারা স্রষ্টার ক্রোধ, অভিশাপ ইত্যাদি ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকে। অতএব, স্রষ্টার গজব সৃষ্টির কারণেই আমরা অনেক সময় প্রাণঘাতি মহামারি কিংবা ভয়াবহ দুর্যোগের কবলে পতিত হই। পৃথিবীর সাগর, মহাসাগরে প্রাকৃতিকভাবে কিছু কিছু সংরক্ষিত স্থানে ভয়ঙ্কর সব ভাইরাস সমূহ সর্বদা সুপ্ত অবস্থায় আছে। হয়তো স্রষ্টার ক্রোধজনিত আচরণের বাহ্যিক পরিনতিতে প্রকৃতির নির্ভুল কারসাজিতে এগুলি মানুষের বোধগম্যের অগোচরে কখনো কখনো লোকালয়ে চলে আসে এবং নির্ভুল ফলাফলের মানদ-ে যাচাই-বাচাই করলে আমাদের বুঝে নিতে কষ্ট হবার নয় যে, এটি কেবল কয়েক লক্ষ মানুষের প্রাণহানীর একটি মর্মান্তিক সত্য প্রকাশের নীরব নিষ্ঠুর উৎসবের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। অতএব, এখন এই দুঃসময় আমাদের প্রয়োজন তুর পর্বতে মহান মুবারক আল্লাহ তায়ালার সহিত কথোপথনের জন্য একজন অভিজ্ঞ মুসা অথবা সুরা আল আম্বিয়ার ৮৩ নং আয়াতে বর্ণিত হযরত আইয়ুব (আঃ) সংযমশীল হৃদয়ের করুন কথামালার আবেগময় প্রার্থনার বর্ণাঢ্য কাহিনীর অনুরূপ কোনকিছু এবং পরিশেষে মহান রবের পক্ষ থেকে আরোগ্য প্রদান যা নিছক কোন কাহিনী নয়।

তবে জীবনরক্ষা করা যেমন একটি জরুরী কাজ ঠিক তেমনি জীবিকার প্রয়োজন কোনভাবেই অস্বীকার করার উপায় নাই। আর এ কারণেই সামাজিক ব্যবধান কিংবা গৃহে অবস্থান ইত্যাদির মত স্বাস্থ্যবিধি মানতে মানুষ আগ্রহী কিনা তা ব্যাখ্যার দাবী রাখে। কেননা মানুষের জীবন ও তার প্রয়োজনীয় খাদ্যবস্তু, ঔষুধ, চলাফেরার স্বাধীনতা ইত্যাদি প্রায় কাছাকাছি অবস্থানে দ-ায়মান। তবে সবার উর্ধ্বে এ বিষয়ে আমাদের জন্য যে চরম সত্য অপেক্ষায় আছে তা হল, এই দুয়ের মধ্যে কোনটি আগে এবং কোনটি পরে তা জানার আগে আমাদেরকে অবশ্যই নিয়তির হাতে নিঃশর্ত আত্মসমর্পনের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে বলে আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি।

করোনা মহামারির ঠিক পশ্চাতে দ-ায়মান একটি নিরব দুর্ভিক্ষ আমাদের সদর দরজায় কড়া নাড়ছে। এই ধরুন যেমন- একটি ছাগল আপনার বাগানে প্রবেশ করল। এক্ষেত্রে ছাগলের অগ্রভাগ করোনা মহামারি এবং পেছনের লেজটুকু দুর্ভিক্ষের আকৃতিস্বরূপ অর্থাৎ এক্ষেত্রে একটি বস্তু কিন্তু দু’টি অংশমাত্র। অতএব এখন আমি এই ভয়াবহ বিপর্যস্ত পরিস্থিতি থেকে উত্তরনের জন্য কিছু সুপারিশমালা মহামান্য সরকার বরাবর পেশ করছি।

০১। বিজ্ঞান আগে থেকে কোনকিছু বলতে পারে না। তবে হ্যাঁ, মানুষের চাহিদার প্রয়োজনে পাশে এসে দাঁড়ায়। যা বিজ্ঞানের একটি প্রধান বৈশিষ্ট। তাই এর আলোকে লিখছি, যাতে করে বাংলাদেশের করোনা সংক্রমণের বিস্ফোরণ রোধকল্পে দ্রুত ক্ষেত্রে তৈরী করা ও পরিধি বৃদ্ধি করা।

০২। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আধুনিক কৌশল পত্র প্রনয়ণ করা।

০৩। সারাদেশে ১৫ কোটি মানুষের জন্য একবছর মেয়াদি রেশন কার্ডের ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।

০৪।  রোগী বা রোগের নিরাপদ চিকিৎসার স্বার্থে একটি বহুমুখি আস্থাশীল উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর সার্বজনীন রোগ নিরাময় চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করা। এতে কোনো কিছু যেন বাজে দৃষ্টান্তের নজির হিসাবে প্রকাশ না হয় সেজন্য স্বাস্থ্যখাতে অব্যবস্থাপনা ও ত্রুটি বিচ্যুতি দূর করে শক্তিশালী প্রস্তুটি গ্রহণের তাগিদ জোরদার করা। কেননা কোভিড-১৯ কোন মৌসুমী রোগ নয়।

তবে ঝড়-ঝঞ্জা, গর্জন আর কালো নিকষা মেঘের উপরে আছে উজ্জ্বল আলোর নির্ভুল জ্যোতি যা মানব জাতির অনন্তর মহাযাত্রায় রচনা করবে একটি মসৃন অমলিন মহাসড়ক। কেননা পবিত্র বুখারী শরীফের একটি হাদিসে উল্লেখ আছে যে, হযরত আবু হোরায়রা থেকে বর্ণিত, নবি করিম (সা.) বলেছেন- আল্লাহ তায়ালা এমন কোন রোগ সৃষ্টি করেন নাই, যার ঔষধ নাই। আলহামদুলিল্লাহ। এই বাস্তবতাকেই সামনে রেখে ভু-পৃষ্ঠের উন্নত গবেষকরা করোনা মহামারির ঔষধ আবিষ্কারের জন্য দিনরাত কাজ করে চলেছেন। 

এভাবে হতাশার প্রহর বিগত হলেই সম্ভাবনার অপার দুয়ার আপনার সামনে এক এক করে খুলতেই থাকবে এবং কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে বিলম্বটুকু কোন প্রতিবন্ধকতার বিষয় নয় বলে আমি মনে করি।
 

সম্পর্কিত খবর

পুরানো খবর দেখার জন্য