বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০ ২০
রাজনীতি ডেস্ক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০ ২০
১২:৫০ অপরাহ্ণ
জগলু চৌধুরীকে সিলেট জেলা কমিটিতে না রাখতে কেন্দ্রে অভিযোগ

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক উপ-দফতর সম্পাদক জগলু চৌধুরীকে প্রস্তাবিত সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে না রাখার জন্য আবেদন করেছেন কোম্পানীগঞ্জের আওয়ামী লীগ কর্মী মো: আশরাফুল ইসলাম বাবলু। ২০ সেপ্টেম্বর রোববার তিনি এ আবেদন করেন। ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আবেদনের কপিটি জমা প্রদান করেছেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরে আশরাফুল ইসলাম বাবলু তার আবেদনে বলেন, জগলু চৌধুরী, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক বিতর্কীত সভাপতি ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক উপ-দফতর সম্পাদক। তিনি বিগত ১৯৮৯-৯০ শিক্ষাবর্ষে সিলেট এমসি কলেজে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে ১ম বর্ষ (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত বাংলা ১ম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় তিনি ফেল করেন। এরপর তিনি এমসি কলেজে পূন: ভর্তি হননি বা অন্য কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও ভর্তি হননি। ফলে ১৯৯২ সালেই তার ছাত্র জীবনের অবসান ঘটে। ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার দীর্ঘ ১০ বছর পর তৎকালীন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের বদান্যতায় ২০০২ সালে তিনি সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মনোনীত হন। ছাত্রলীগের সভাপতিত্ব পেয়ে তিনি মেতে উঠেন টাকার খেলায়। জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে টাকার বিনিময়ে পদ পদবী প্রদান করেন। এর প্রেক্ষিতে জেলা ছাত্রলীগের একটি বৃহত্তর অংশ তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং সেসময় তার বিরুদ্ধে রাজপথে বিক্ষোভ করেন। পরবর্তীতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা কমিটি গঠনেও তিনি টাকার খেলায় মত্ত ছিলেন। প্রতিটি উপজেলায় তিনি লক্ষ টাকার বিনিময়ে এক একটি কমিটি গঠন করেন । কমিটি গঠনের পর উপজেলা কমিটি সমূহের নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে নিয়মিত ভাবে তিনি মোবাইল ফোনের ফ্লেক্সী কার্ড এবং হাত খরচের টাকা নিতেন। কেউ টাকা দিতে অসম্মতি প্রকাশ করলে তিনি তাকে নানাভাবে হয়রানী করতেন। তার এহেন কার্যকলাপে ক্ষুদ্ধ হয়ে ২০১০ সালে কোন সম্মেলন ছাড়াই কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগ তৎকালীন জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করেন। ২০১১ সালে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের সময় তিনি জেলা কমিটিতে উপ-দফতর সম্পাদক মনোনীত হন। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে গঠিত ওসমানী নগর উপজেলায় ২০১৭ সালে ১ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্য দলীয় মনোনয়ন প্রার্থনা করে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডে আবেদন করেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে ভাইস-চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন প্রদান করেন। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষরে প্রদত্ত্ব দলীয় মনোনয়ন পত্র সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং সিলেট জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বর্ষিয়ান জননেতা এডভোকেট লুৎফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরীর কাছ থেকে গ্রহণ করার জন্য তারা উভয়ে বারবার মোবাইল ফোনে জগলু চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তিনি জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত মনোনয়নপত্রটি গ্রহণ করেননি। উপরন্তু তিনি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নেত্রীর দেয়া মনোনয়ন পত্রটি প্রত্যাখান করেন। পরবর্তীতে তিনি ওসমানী নগর উপজেলায় বিদ্্েরাহী প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন। ফলশ্রুতিতে বিপুল সম্ভাবনা সত্ত্বেও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জনাব আতাউর রহমান বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। তার এহেন দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপের জন্য কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগ তাকে তখন দল থেকে বহিস্কার করেন। তিনি এখনো দলের শৃঙ্খলা বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত রয়েছেন। বিশ^ করোনা পরিস্থিতিতে জাতীর ক্রান্তিকালে সিলেটের দায়িত্বশীল অনেক নেতা-কর্মীকে সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে নিয়মিত ত্রান কার্যক্রম নিয়ে মাঠে দেখা গেলেও বিতর্কীত জগলু চৌধুরীকে জাতীর এ ক্রান্তকালে কোথাও দেখা যায়নি। বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িত থাকা সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক উপ-দফতর সম্পাদক জগলু চৌধুরীই কেবল মাত্র ক্ষুদ্র ব্যক্তি স্বার্থে প্রস্তাবিত এই কমিটির কয়েকজন নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভিত্তিহীন, কাল্পনিক প্রচারণা চালিয়ে নোংরা মনমানসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন। আমরা জানতে পেরেছি তাকে প্রস্তাবিত কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে। তাকে প্রস্তাবিত জেলা কমিটিতে রাখার বিষয়ে আমাদের জোর আপত্তি রয়েছে। অতএব, বিতর্কিত জগলু চৌধুরীকে প্রস্তাবিত সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে না রাখার জন্য আমরা জোর দাবী জানাচ্ছি। তিনি কমিটিতে স্থান পেলে তার বিতর্কিত কর্মকান্ডে দল চরম ক্ষতিগ্রস্থ ও বিতর্কিত হবে।

 

সম্পর্কিত খবর

পুরানো খবর দেখার জন্য