বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০ ২০
সিলেট ডেস্ক
১৭ অক্টোবর ২০ ২০
১১:৩৪ অপরাহ্ণ
# আজ রায়হান পরিবারের সংবাদ সম্মেলন # ২৪ ঘটনার আল্টিমেটাম জাপার
রায়হানকে হত্যা করে, আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল আকবর!

ফয়সাল আমীন:: এখনও হদিস মিলেনি রায়হান হত্যার ঘটনার হোতা এস আই আকবেরর। দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা সহ সীমান্তে রাখা হয়েছে সর্তকতা। তবু লাপাত্তা সে। তার পালানোর কারনে ক্ষোভে পুড়ছে  সিলেটবাসী। 

এদিকে, এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার কৃতিত্ব্কেও  ম্লান হয়ে যাচ্ছে আকবর গ্রেফতার ব্যর্থতা। এনিয়ে কেবল বাড়ছে সন্দেহ, অবিশ্বাস্য। আস্থাহীন পরিবেশ প্রতিবেশের ঢালপালাও বিস্তৃত হচ্ছে। সিলেটের আপামর মানুষের একটাই প্রত্যাশা আকবর গ্রেফতারে খবর। কিন্তু সেই খবর নেই কোথাও। আকবরের কারনে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ইমেজও প্রশ্নবিদ্ধ। আকবরের কারনেই যেন কলংকিত সিলেট মেট্রো পুলিশ। সেই কারনে অনেকের প্রশ্ন আকবর বড় না পুলিশ বড় ? তাই  জনে,জনে মুখে, মুখে একই সুর, একই কথা, আকবর এখন কোথায় ? 

রায়হান হত্যা ঘটনার প্রথম পর্যায়ে মেট্রোপলিটন পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছিল সে আত্মহত্যা করে ফেলবে। কিন্তু সেই কর্মকর্তা এহেন পাপ কাজের বাসনা থেকে নির্বৃত্ত করেন তাকে। তারপরই ভিন্ন পথে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয় আকবরকে। এরপর থেকেই নেই, নেই, হদিস নেই আকবরের। সিলেটে গণধর্ষণ ঘটনায় রাজনীতিক পরিচয় থাকার পরও গ্রেফতারে ব্যর্থ হয়নি আইনশৃংখলা বাহিনী। জনমনে রব উঠেছিল, ‘পুলিশ পারে না এমন কোন কাজ নেই’। সুপার পাওয়ারে ইমেজ গড়ে উঠেছিল ‘পুলিশ নিয়ে’ মানুষের ভাবনা। কিন্তু হতাশ সিলেটবাসী, হতাশ আমজনতা। সুপার পাওয়ারের বিশ্বাস, আস্থার চিড় ধরেছে আকবর গ্রেফতারের ব্যর্থতায়।

একটি সূত্র জানিয়েছে, সিলেট মেট্রো পুলিশে আকবরের নিজ জেলার রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। তারাই চড়ি ঘুরান মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরতদের। তাদের ইশারায় ভাগ্য নির্ধারিত হয় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের। পুলিশের ভেতরেই স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এ চক্রের প্রভাবে আকবর ছিলেন বেপরোয়া, এখন হয়েছেন আপাতত লাপাত্তা। 

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পুলিশের হেফাজতে থেকে পুলিশ সদস্যের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি নাটকের একটি অংশ। এখন দেখুন নিরাপত্তা কোথায় রয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পপাতিত্ব আচরণ করেছেন পুলিশেরই সাথে। বরখাস্ত ও প্রত্যাহার হওয়ার পুলিশ সদস্যদের পুলিশ লাইনে নিরাপত্তা দিয়ে রাখা হলেও এসআই আকবরকে তারাই পালাতে সুযোগ করে দিয়েছেন। এটা পুলিশের ব্যর্থতা ও উদাসিনতার পরিচয়।  এদিকে রায়হান হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবীতে প্রতীকি কফিন নিয়ে শহীদ মিনারে পালন করা হয়েছে এক কর্মসূচী। নগরীতে অনুষ্টিত হয়েছে একাধিক মানববন্ধন সহ নানা কর্মসূচী। এছাড়াও আজ (রোববার) দুপুরে রায়হানের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে।  

এখনও অধরা এআই আকবর: 
অবিশ্বস্যভাবে পালিয়ে আছে রায়হান হত্যা ঘটনার অন্যতম হোতা এস আই আকবর। তাকে গ্রেফতারে সীমান্তে সর্তকতা সহ দেশে ত্যাগে জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু তবু পাওয়া যাচ্ছে না তাকে। সেকারনে সবকিছু ছাপিয়ে সবার মনে একই প্রশ্ন আকবর হোসেন ভূঁইয়া কোথায় ? এ নিয়ে ধূম্রজালেরও শেষ নেই। কেউ বলছেন, তিনি পুলিশের হাতের মুঠোয়ই আছেন। আবার পুলিশের কর্মকর্তারাও বলছেন, নাগালের বাইরে আকবর। মহানগর পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া বলেন, ঘটনার পর থেকেই আকবর পলাতক রয়েছে। তবে বাকী বরখাস্ত ও প্রত্যাহারকৃত সদস্যরা পুলিশ লাইন্সে পাহারায় রয়েছেন। 

মহানগর পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) বি এম আশরাফ উল্যাহ তাহের বলেন, হত্যা মামলাটির পুরো বিষয় তদন্ত করছে পিবিআই। আর তাদেরকে সহযোগীতা করছে পুলিশ। এস আই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। সম্ভাব্য কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে।  এছাড়াও সীমান্ত এলাকা ব্যবহার না করে এসআই আকবর দেশ ছাড়তে না পারে সেজন্য পুলিশের নজরদারি রয়েছে।

নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান,  পুলিশ যে আচরণ করেছে তা হতাশ করেছে আমাদেরকে। আমার ছেলের হত্যাকারী এস আই আকবরকে তারাই পালাতে কিংবা সরে যেতে বলেছে। এক সাপ্তাহ হয়ে গেলেও আকবরসহ খুনি পুলিশদের গ্রেফতার করেনি পুলিশ।

পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকাল ৩ টা ১০ মিনিট পর্যন্ত আকবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতেই অবস্থান করছিলেন। তখন পর্যন্ত তাকে বেশ চিন্তিত দেখা গেছে। এরপরই লোকচুর আড়ালে চলে যান তিনি। আকবর তার নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন সেট এবং সরকারি সেট দুটোই ফাঁড়িতে রেখে হয়ে যান গায়েব। গা ঢাকা দিয়ে কোথায় আছেন-সেই হদিস জানা নেই। এর আগে খুনের সব আলামত নষ্ট করে দেয় সে । এদিকে, রায়হান হত্যায় জড়িত পুলিশ সদস্যরা আইনের আওতায় না আসায় ক্ষোভ কমছে না সিলেটে। কেউ জানে না এই মামলার আসামি কারা। আকবর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায়ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সিলেটে। ঘটনার পরপরই কেন আকবরকে আটকে রাখা হলো না- সে প্রশ্ন এখন আমজনতার। তদন্ত কমিটির সঙ্গে কথা বলার পর আকবরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল সিলেট মহানগর এলাকা ছেড়ে সে যেন বাইরে বের না হয়। এর পরও ঘটনার পর বন্দরবাজার সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ও আলামত গায়েব করে পালায় এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া। 

কেবল বাড়ছে প্রতিবাদ কর্মসূচী: রায়হান হত্যার প্রতিবাদে ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচী নিয়ে মাঠে নামছে সিলেটের ক্ষুব্ধ মানুষ। গতকাল বিকেলে ন্যাশনালিষ্ট অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম রায়হান হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবী জানিয়ে প্রতীকি ‘কফিন’ কর্মসূচী পালন করেছে নগরী শহীদ মিনারে। এছাড়া রায়হান হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবীতে নগরীর ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিমের উদ্যোগে অনুষ্টিত হয়েছে এক কামরান চত্বরে মানববন্ধন। এসময় এস আই আকবর সহ হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানান তারা। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ি একটি ভি আই পি এলাকা যেখানে রয়েছে পুলিশ সুপারের কার্যালয়, সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাষক কার্যালয়, জেলা পরিষদ কার্যালয়, সার্কিট হাউজ সহ অসংখ্য সরকারি প্রতিষ্টান। এ পুলিশ ফাঁড়িতে বিতর্কিত দূর্নীতিবাজ  কোন পুলিশ অফিসারকে যেন পদায়ন না করা হয় সেদিকে ল্য রাখার আহবান জানান মেট্রো কর্তৃপক্ষকে। 

এদিকে, এঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বিকেলে জাতীয় পার্টি নগরীতে এক প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, সিলেট জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন, কয়েক দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ খুনি আকবরকে গ্রেফতার করতে পারেনি। যদি ২৪ ঘন্টার ভিতরে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা না হয় তাহলে জাতীয় পার্টিসহ সিলেটের জন সাধারণ কঠোর থেকে কঠোর আন্দোলন যেতে বাধ্য হবে। বেলা ২টায় জেলা জাতীয় পার্টির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সামনে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্টিত হয়। 

রায়হান পরিবারের সংবাদ সম্মেলন আজ: হত্যা ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে আজ (রোববার) এক সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছে পুলিশী নির্যাতনে নিহত রায়হান পরিবার। দুপুর ১২টায় রায়হানের আখালিয়া নেহারী পাড়াস্থ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্টিত হবে।

সম্পর্কিত খবর

পুরানো খবর দেখার জন্য