মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১, ২০ ২০
এক্সক্লু‌সিভ ডেস্ক
২৪ সেপ্টেম্বর ২০ ২০
৭:২৬ পূর্বাহ্ণ
অ্যাপস ছাড়া রাইড শেয়ারে বাড়ছে অপরাধ

গত ২১শে আগস্টের ঘটনা, তুরাগ থানায় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির গলিতে মোটরসাইকেলটি পৌঁছামাত্র অজ্ঞাতনামা কয়েকজন মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। পরবর্তী সময়ে মোটরসাইকেল চালককে চাকু ধরে মোটরসাইকেলটি এবং ১টি মোবাইল সেট ছিনতাই করে নিয়ে যায়। ঘটনার দিনই তুরাগ থানায় একটি নিয়মিত মামলা করেন ভুক্তভোগী। এই মামলায় ১৬ই সেপ্টেম্বর দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। জানা গেছে, ওই ভুক্তভোগী অ্যাপসভিত্তিক রাইড শেয়ার করেন। মাঝে মাঝে চুক্তিতেও তিনি রাইড শেয়ার করতেন। এই সুযোগে ওই দিন ছিনতাইকারীদের একজন চুক্তিভিত্তিতে তার রাইড শেয়ারের সুবিধা নেন।
এরপরই এই ঘটনা ঘটে। অ্যাপস ছাড়া রাইড শেয়ারের ঘটনায় উল্টো ঘটনাও আছে। অনেক সময় চালকদের কেউ কেউ সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রে ঢুকে পড়ছেন। ব্যস্ততম রাজধানীতে অ্যাপসের মাধ্যমে রাইড শেয়ার এখন বেশ জনপ্রিয়। যানজট এড়িয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে অনেকেই সহজ মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছেন এই অ্যাপস সুবিধাকে। খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, অ্যাপস ভিত্তিক রাইড শেয়ারের প্রথম দিক দিয়ে চালক ও যাত্রীরা অ্যাপস ব্যবহার করলেও এই হার অনেকটা কমে গেছে। মোড়ে মোড়ে বসে থাকা এসব অ্যাপসভিত্তিক চালকদের মিলছে অ্যাপস ছাড়াই। যাত্রী ও চালক দুই পক্ষই আগ্রহ দেখাচ্ছেন চুক্তিতে রাইড শেয়ারে। শুধু তাই নয়, বেশির ভাগ সময় চালকরা যাত্রীদের অ্যাপস ছাড়া ডাকাডাকি করতেও দেখা যাচ্ছে রাজধানীতে। এসব চালকরা অধিক লাভের আশায় অ্যাপসের মাধ্যমে যাত্রীসেবা না নিয়ে চুক্তিভিত্তিকভাবে যাত্রী পরিবহন করছেন। ফলে প্রায়ই ঘটছে হত্যা-ছিনতাইসহ নানা অপরাধের ঘটনা। করোনার সংক্রমণের পর টানা প্রায় ৬ মাস এসব কোম্পানির রাইড সেবা বন্ধ থাকার পর তা আবার চালু হয়েছে। তবে যাত্রী ও চালকের নিরাপত্তায় এসব অ্যাপসভিত্তিক সেবা থাকলেও তা ব্যবহার না করে মৌখিক চুক্তিতে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। এতে ভুক্তভোগী হচ্ছে দুই পক্ষই। কাওরান বাজার মোড়ে কথা হয় অ্যাপসভিত্তিক মোটরসাইকেল চালক লিটন আমিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, চুক্তি ছাড়া এখন বেশির ভাগ চালকইরাই শেয়ার করে। এতে করে চালক ও যাত্রীদের দুই পক্ষেরই লাভ হয়। কিন্তু এটা করা ঠিক না। এতে নানা দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা আছে। আমাদের অনেকেই এমন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। তারপরও কারো মধ্যে সচেতনতা আসছে না। তবে আমি চেষ্টা করি অ্যাপসের মাধ্যমে রাইড শেয়ার করতে।
পুলিশের গোয়েন্দা সূত্র বলছে, রাইড শেয়ারিং সার্ভিসে ঢুকে পড়েছে ছিনতাইকারী চক্র। এরা উবার, পাঠাও, সহজের মতো প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধন করলেও অ্যাপসের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন করছে না। যাত্রীকে প্রলুব্ধ করতে অনেক সময় অ্যাপসের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়া রাখছে। পথে সুযোগ বুঝে যাত্রীর সবকিছু হাতিয়ে নিয়ে। আবার বিভিন্ন জায়গায় এই চক্রের সদস্যরা ওত পেতে থাকছে। আগে থেকেই বলা থাকে, যাত্রীকে নিয়ে এই পথ দিয়ে যাওয়া হবে। এর পরেই ঘটে দুর্ঘটনা।
জানা গেছে, এসব রাইড শেয়ারে অ্যাপস চালু না করায় চালক বা যাত্রী সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকছে না রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে। ফলে আইনগত ব্যবস্থা নিতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। অনেক সময় প্রমাণ না থাকায় পুলিশের কাছে অভিযোগও নিয়ে যাচ্ছেন না ভুক্তভোগী। তাছাড়া, অনেক ছিনতাইকারীরাও যাত্রী পরিচয়ে রাইড শেয়ার সার্ভিসে চুক্তিভিত্তিক ব্যবহার করছে। অ্যাপস ছাড়া রাইড শেয়ার করার ফলে চালক ও যাত্রী উভয়পক্ষের মধ্যেই ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, যখন কোনো যাত্রী পাঠাও কিংবা উবারের মতো মোটর সেবার মোটরসাইকেলে ওঠেন, তখন কিন্তু পুলিশ জিজ্ঞেস করে না কে কীভাবে যাচ্ছেন। যখন বিপদ হয় বা দুর্ঘটনা ঘটে, তখন পুলিশ জানতে পারে। অ্যাপস ছাড়া মোটর সেবায় চলাচল করা উচিত নয়। কারণ এতে ছিনতাইয়ের মতো সামাজিক অপরাধ বেড়ে যেতে পারে। আমরা অ্যাপসভিত্তিক মোটর সেবার প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণমূলক কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশনা দেবো। এরপরেও যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে তবে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হবে।
বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, রাজধানীতে বর্তমানে ৬ লাখের ওপরে বাইকার রাইড শেয়ার করছেন। ২০১৮ সালেই শুধু ঢাকায় নিবন্ধিত হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৪টি মোটরসাইকেল।

বাইরে থেকেও ঢুকছে অনেক মোটরসাইকেল। উবার, পাঠাও, ওভাই, ও-বোন, সহজ, স্যাম, চলো, ইজিয়ার, পিকমি, আমার বাইক, বাহন, ঢাকা রাইডার্স, ঢাকা মটোসহ অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান রাইড শেয়ারের সুবিধা দিচ্ছে। এগুলোর অধিকাংশই ঢাকাকেন্দ্রিক। সহজে কাজের সুযোগ মেলায় প্রতিদিন রাইড শেয়ার করতে রাজধানীতে পাড়ি জমাচ্ছে অসংখ্য নতুন মুখ। আর এসব রাইড শেয়ারকারীদের কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই যোগ দিচ্ছে অপরাধী চক্রের সঙ্গে। জড়িয়ে পড়ছেন অপরাধে। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানের বিপণন বিভাগের পরিচালক বলেন, রাইড শেয়ারে অপরাধ বাড়ছে এটা অস্বীকার করার কিছু নেই। আমরা নিজেরাও এসব নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। তবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে আমরা সচেতনতা তৈরি করতে সংশ্লিষ্ট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি।

সম্পর্কিত খবর

পুরানো খবর দেখার জন্য