মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১, ২০ ২০
লেখালেখি ডেস্ক
৪ নভেম্বর ২০ ২০
২:০ ৬ অপরাহ্ণ
অসহায় এক যুবকের আর্তনাদ

মুহাম্মহাদ শামসুল ইসলাম সাদিক:: মানুষ মরণশীল। পৃথিবীতে সকল প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু কিছু কিছু মৃত্যু মেনে নেয়া যায়না। তেমনিভাবে হতভাগা অসহায় এক যুবক  রায়হানের মৃত্যুটাও মেনে নেওয়া যাচ্ছেনা। মনে হয় এখনও হতভাগা রায়হানের আর্তনাদের স্বর আধ্যাত্মিক রাজধানী পূণ্যভূমি সিলেটে শুণতে পাই।  শাহজালালের পূর্ণভূমি সিলেটের আকাশে-বাতাসে, পাহাড়-পর্বত, জমিন, কাপছে গোটা বাংলাদেশ ও সারা বিশ্ব। প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে বিশ্বজুড়ে। একটাই দাবী প্রকৃত দোষী পুলিশ অফিসার আকবর এবং তার সাথে যারা জড়িত তাদের সকল অপরাধিদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক। আমিসহ গোটা বিশ্ববাসী চায় পুলিশ অফিসার আকবর সহ সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। একজন আকবরের জন্য সারা দেশের পুলিশকে দায়ী করা মোটেও কাম্য নয়। এমন কি আমি এর পক্ষপাতি নয়।

আমাদের দেশে এমনও ভালো পুলিশ অফিসার আছেন যারা দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে নিজের জীবনটাও দিতে পিছপা হননা। সমাজের অপরাধচিত্র, মানুষে মানুষে পারস্পরিক বিরোধ-বিদ্বেষ-বৈরিতাপূর্ণ এই পুলিশ বাহিনী দমন করেণ। এছাড়াও পাপাচার, ব্যভিচার, হত্যা, খুন, ধর্ষণ, দুর্নীতিসহ এহেন কোনো অপরাধ যে স্থানে সংঘটিত হয় সেখানে তাদের কে প্রথম সারিতে দাড়িয়ে কঠোর হস্তে দমন করতে দেখা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র কয়েক বছর আগে ছিনতাইকারী ছুরি আঘাত করে রাস্তায় ফেলে যায়। ছেলেটি যখন মৃত্যুর সাথে লড়ছিল ঠিক তখন তাকে বাঁচাতে এগিয়ে প্রথমে আসেন একজন পুলিশ অফিসার। ঐ ছাত্রকে মেডিকেলে ভর্তি করে নিজের শরীর থেকে রক্ত দিয়ে তাকে বাঁচান। তার মেডিকেলের ঔষধপত্র সহ যাবতীয় খরচও বহন করেন ওই পুলিশ অফিসার। এখানেও শেষ নয় আরো অনেক পুলিশ অফিসার আছেন যাদের অবদানের কথা বলতে না পারলে নিজের বিবেকের কাছে অপরাধী মনে হবে। পুলিশ বাহিনীর অনেক আছেন যাদের অমায়িক ব্যবহার ও আন্তরিকতা ও সততা দেখে মুগ্ধ হই। অনেকে সাধারণ মানুষকে সম্মানের সহিত কথা বলেন এবং সহযোগিতা করে আইনের সহায়তা পাওয়ার সুযোগ করে দেন এমন পুলিশও আমার দেশে আছেন।

সিলেট বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে হতভাগা অসহায় এক যুবক  রায়হানের উপরে যে নিষ্ঠুরতা হয়েছে এটা কোন হি¯্র প্রাণীও করবে বলে মনে হয় না। রায়হানের শরীরে ১১১ টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে ও নিষ্ঠুরতার মাধ্যমে তার হাতের নখ উপড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এই বর্বরতার বর্ণনা শুনে মনে প্রশ্ন আসে এই পুলিশ অফিসার আকবর কি আসলে কোন মানব না কি দানব। যে এতো নিষ্ঠুর পাশন্ড অসহায় রায়হানের উপর হি¯্র চিতাবাঘর মতো আক্রমন করল। আকবর যেভাবে নির্যাতন করে রায়হানকে মারলো মনে হয় কারবালা ময়দানে ইমাম হাসান-হোসাইনকে এমন নির্যাতন করে মারেনি। সেদিন হতভাগা রায়হানের চোখের জলে ভেসে ছিল সিলেট বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ফ্লোর। কিন্তু গলেনি পাশন্ড আকবরের মন। রায়হানের রক্তে ভিজে ছিল সিলেট বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি। 

আমরা কিংবা রায়হানের পরিবার কি তা কোন দিনও ভুলতে পারে না, পারবে না। আজ চারদিকে রায়হান হত্যার প্রতিবাদের ঝড় দেখে আকবর সহ দোষী পুলিশ অফিসারদের প্রতি মানুষের ঘৃণা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান সময়ে পুলিশের মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রকৃত অপরাধি সেই পুলিশ অফিসারের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সমাজের আগের অবস্থানে ফিরেয়ে আনতে এবং হতভাগ্য রায়হানের আত্নার শান্তি জন্য এমন অপরাধ দ্বিতীয় বার পবিত্রময় নগরীতে এমন বর্বরতা করতে সাহস না পায় এমন শাস্তি সিলেটবাসী দেখার অপেক্ষায়।
লেখক: প্রাবন্ধিক

সম্পর্কিত খবর

পুরানো খবর দেখার জন্য