রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

উচ্চবিত্তরা সবাই কর দিলে দেশের চেহারা পাল্টে যেতো



ডেস্ক নিউজ:: উচ্চবিত্তরা সবাই কর দিলে দেশের চেহারা পাল্টে যেতো বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (ট্যাক্সেস লিগ্যাল এন্ড এনফোর্সমেন্ট) মো. সিরাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, দেশের ৩৮ শতাংশ মানুষ কর দিচ্ছেন। বাকি ৬৮ শতাংশের মধ্যে উচ্চবৃত্তরা বেশি রয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে সিলেট নগরের রিকাবিবাজার মোহাম্মদ আলী জিমনেশিয়ামে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। আর তা সম্ভব হচ্ছে মানুষের মধ্যে আয়কর দেওয়ার প্রবণতা বাড়ার কারণে। কেননা, আগের তুলনায় বাংলাদেশে আয়কর প্রদানের প্রবণতা বেড়েছে। এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মেলার মাধ্যমে আমাদের কর আহরণ ও উদ্বোদ্ধকরণ প্রক্রিয়া অনুস্বরণ করছে।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, কর প্রদানকারীদের সংখ্যা আরো ১০ গুণ বাড়াতে পারলে ভারতের সমমান ট্যাক্স আদায় হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এনবিআর‘র এই কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রী সব সময় বলেন- আমরা মাথা নোয়াবার জাতি নয়। বাংলাদেশ এখন আর মাথা নত করে কোনো দেশের কাছ থেকে ঋণ নিচ্ছে না। অথচ একটা সময় ছিল ঋণের জন্য মাথা নোয়াতে হতো। এখন ট্যাক্স দিয়ে আমরা স্বনির্ভর হতে শিখেছি। যে কারণে ৩৩ বছরে ট্যাক্স ২৬ গুণ বেড়েছে।

শুধু গত বছরেই রাজস্ব বোর্ড ২ লাখ ১৮ কোটি টাকা আদায় করতে পেরেছে। এছাড়া সিলেটে শিগগিরই কর ভবন করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়ে গেছে।

সিলেট কর অঞ্চলের কর কমিশনার আবু হান্নান দেলওয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. কামরুল আহসান, এসএমপি কমিশনার গোলাম কিবরিয়া, সিলেট চেম্বার অব কমার্স সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ, আয়কর আইনজীবি সমিতির সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা প্রমুখ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে সপ্তাহব্যাপী মেলার শুভ উদ্বোধন করেন অতিথিবৃন্দ। এরপর তারা বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। এদিকে প্রথম দিনেই মেলায় উপচেপড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। আয়কর মেলা উদ্বোধনের পর পরই সেবাগ্রহিতারা বিভিন্ন স্টল থেকে সেবা গ্রহণ নিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেট কর অঞ্চলের ২২টি সার্কেল রয়েছে। এবার মেলায় ২৩ টি সার্ভিস ডেস্ক, ৩টি ইটিআইএন, রিটার্ন গ্রহণ, সঞ্চয়ী ব্যুরো, আইনজীবী, ব্যাংক বুথের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হচ্ছে।এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা, মহিলা প্রতিবন্দ্বী ও সাংবাদিকদের জন্য প্রথক বুথ করা হয়েছে মেলায়।

২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৮৫২ দশমিক ৯৮ কোটি লক্ষ্যমাত্রা আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে অর্থ বছর শুরু করে সিলেট কর অঞ্চল। অর্থ বছরে সিলেটে ১৮ হাজার নতুন ইটিআইএনধারী করার লক্ষ্য সিলেট কর অঞ্চলের।

UA-126402543-3