বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বালাগঞ্জে শিক্ষিকার পিটুনিতে ৭ শিক্ষার্থী আহতের ঘটনায় বিদ্যালয়ে তালা



ওসমানীনগর প্রতিনিধি:: সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নের গালিমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষিকার বেত্রাঘাতে ৭ শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় রোববার সকাল দশটার দিকে অভিভাবকরা স্কুলে তালা ঝুলিয়ে দেন।

এ সময় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্কুলে গিয়ে দায়ী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে ক্ষুব্দ অভিভাবকদের শান্ত করেন এবং স্কুলের তালা খুলে দেন।

উল্লখ্য যে, শনিবার ক্লাশের পড়া না দেয়ায় শিক্ষিকার পিটুনিতে ৫ম শ্রেণির ৭ শিক্ষার্থী আহত হয়। আহতদের মধ্যে গালিমপুর গ্রামের জগদীশ দাসের ছেলে সৌরভ দাশ, অর্নব দাস ও রঞ্জন দাসের ছেলে অনুপ দাসকে বিকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তারা ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

অন্যান্য আহতের মধ্যে একই গ্রামের আকাশ দাস, কর্ণমণি দাসের ছেলে জনি দাস, দ্বিপন দেবনাথের ছেলে দিগন্ত দেবনাথকে স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শিক্ষার্থী সৌরভ দাশ ও অনুপ দাস জানায়, ক্লাশের পড়া না দেয়ায় রত্না ম্যাডাম (সহকারী শিক্ষিকা) উত্তেজিত হয়ে আমাদেরকে লাইনে দাঁড় করিয়ে বৈদ্যুতিক ওয়ার দিয়ে বেদম মেরেছেন ।

আহত শিক্ষার্থী সৌরভ ও অর্ণবের বাবা জগদীশ দাস বলেন, আমি বাজারে যাওয়ার জন্য রওয়ানা হলে দেখতে পাই ছাত্ররা আমার ছেলেদেরকে ধরাধরি করে বাড়ির দিকে নিয়ে আসছে। সহকারী শিক্ষিকা রত্না রানী দাশ আমার দুই ছেলেসহ ৭ ছাত্রকে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে পিঠিয়ে আহত করেছেন।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক অসিত বৈদ্য বলেন, আমি সকালে স্কুল থেকে উন্নয়ন মেলায় চলে যাই। ঘটনাটি আমি বিকালে শুনেছি।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রকিব ভূইয়া বলেন, হাসপাতালে গিয়ে আহত শিক্ষার্থীদের দেখেছি। স্কুলে গিয়ে অভিভাবকদের শান্ত করে তালা খুলে দিয়েছি। দায়ী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল হক বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। ব্যবস্থা গ্রহণে শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলেছি।

UA-126402543-3