বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বঙ্গবন্ধুর লিখা অসমাপ্ত আত্মজীবনী-আলী ফজল মোহাম্মদ কাওছার



বাঙ্গালী জাতির মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের লিখা অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়লাম, বইটি পড়ে আমার খুব ভালো লেগেছে, লেখক অত্যান্ত সুন্দর ভাষার সুন্দর ভাষায় উনার আত্মজীবনী ফুটিয়ে তুলেছেন । উক্ত বইটি অধ্যায়ন করে জানতে পারলাম উনার দেশপ্রেম, দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দেশের জন্য আত্মত্যাগ ।

উনি ব্রিটিশ বিরুধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন, উনার প্রথম রাজনীতি জীবনের অভিভাবক ছিলেন অভিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী । সোহরাওয়ার্দী সাহেব ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্রসেনানী ছিলেন, তিনি মনে প্রাণে চেয়েছিলেন পাকিস্তানের রাষ্ঠ্রের, উনাদের আত্মত্যাগ, আন্দোলনের জন্য পাকিস্তানের রাষ্ঠের সৃষ্ঠি হয়েছিল । বঙ্গবন্ধুর লেখা বইটি পড়ে আমরা জানতে পারলাম সোহরাওয়ার্দী সাহেব উদার মনের মানূষ ছিলেন, পুর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষ খুব বেশী ভালোবাসত উনাকে ।

লেখক উনার বইয়ের ৪৮নং পৃষ্ঠায় তিনি লিখেছেন সকল জাতির মধ্যে কিছু কিছু আছে কিন্তু বাঙালিদের মধ্যে আছে পরশ্রীকাতরতা, ভাই, ভাইয়ের উন্নতি দেখলে খুশি হয়না । এই জন্যই বাঙালি জাতির সকল রকম গুন থাকা সত্ত্বেও সারা জীবনভর অন্যের অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে । সুজলা, সুফলা বাংলাদেশ সম্পদে ভর্তি । এমন উর্বর জমি দুনিয়ার খুব অল্প দেশেই আছে । তবুও এরা গরীব । কারণ যুগ যুগ ধরে এরা শোষিত হয়েছে নিজেদের দোষে ।নিজকে এরা চিনেনা, আর যতদিন এরা চিনবেনা এবং বুঝবেনা না ততদিন এদের মুক্তি আসবেনা ।

কিভাবে পাকিস্তান হল তা অত্যান্ত সুন্দর ভাষায় লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন উনার লিখনীতে, পাকিস্তান সৃষ্ঠির পর পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক গুষ্ঠি কিভাবে বাংলার জনগনের উপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে ছিল, তা অত্যান্ত সুন্দরভাবে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন, পাকিস্তান বিরোধী সবকটি আন্দোলনে তিনি ছিলেন অগ্রসেনানী । অত্যান্ত সাহসী রাজনীতিবীদ ছিলেন বঙ্গবন্দু শেখ মুজিবুর রহমান, দেশের স্বাধীনতার জন্য, দেশ মার্তৃকার মুক্তির জন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন, জীবন যৈবনের অনেকগুলি বছর তিনি কারাগারে কাঠিছেন দেশে জন্য দেশের মানুষের মুক্তির জন্য ।

একজন মানুষের কথা না লিখলে মনে হয় অন্যায় হবে আমার, বঙ্গবন্ধু পত্মী শেখ ফজিলাতুন্নেছার যাকে বঙ্গবন্ধু রেণু বলে ডাকতেন, এই মহিলা বঙ্গবন্ধুকে প্রেরণা জুগিয়েছেন, জীবনভর ত্যাগ স্বীকার করেছেন স্বামীর জন্য, বঙ্গবন্ধু যথেষ্ঠ সময় দিতে পারেননি উনাকে উনার সন্তানদেরকে, তারপর উনার পত্মী উনাকে লুকিয়ে লুকিয়ে উনার জমানো টাকা বঙ্গবন্ধুকে দিতেন, এই বইটিতে বঙ্গবন্ধু উনার বড়কন্যা শেখ হাসিনা যাকে বঙ্গবন্ধু হাচু বলে ডাকতেন আর বড় ছেলে কামালে কথা লিখেছেন ।

উক্ত বইটি পড়ে জানতে পারলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর ওলী আউলিয়াদের মাজার জেয়ারত করতেন তিনি ভারতের দিল্লিতে নিজাম উদ্দিন আউলিয়া, আজমীরে খাজা মঈনউদ্দিন চিশতী, পাকিস্তানে আল্লামা ইকবালের মাজার জিয়ারত করেছেন ।
বইটি পড়ে আমি বলে চাই যে মানুষটি দেশ ও দেশের মানুষের জন্য এত ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাকে কি বিতর্কের উর্ধে রাখা যায়না, যে দল করুননা কেন জাতির এই মহানায়কের অবদান কি স্বীকার করা যায়না???

UA-126402543-3