সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

১৫ই আগস্ট বাংলার ইতিহাসে অন্ধকারতম অধ্যায়



১৫ই আগস্ট ১৯৭৫ এর ভোর রাত। রাত কাটিয়ে সূর্য যখন পূর্ব আকাশে তার আলোর আভা দেখানোর কথা, ঠিক তখনই ধানমন্ডির ৩২ নাম্বার রোডে ঘাতক চক্রের নিষ্ঠুরতম পৈচাশিকতায় সে আলো লজ্জা পায়। আরো প্রলম্বিত হয় আলো-বিকিরণে। নিষ্ঠুর ঘাতকরা ইতিহাসে স্থান দেয় একটি রক্তাত নিষ্ঠুর, নির্মম কালো রাতের। মানব সভ্যতাকে লজ্জিত করে তারা যেন আপন পিতৃহত্যায় উল্লাস করে। কলংকিত করে জাতিকে, সভ্যতাকে। আর বাঁধাগ্রস্ত করে প্রগতির অগ্রযাত্রাকে।

কিছু সংখ্যক স্বার্থপর লোকের নোংরা এবং ক্ষুদ্র স্বার্থের বেড়াজালে আন্তর্জাতিক চক্রের হীন এবং সুদূর প্রসারি চক্রান্তের নীল নকশা হিসাবে ১৫ই আগস্ট ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, বাঙালী জাতির জনক, বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর বাসভবনে নিষ্ঠুর এবং নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হয় সপরিবারে। অবসরপ্রাপ্ত এবং বহিষ্কৃত বিপথগামী কিছু সেনা সদস্য, যদিও সেদিন সামনের কাতারে থেকে এই নির্মম কাজটি করেছিল। কিন্তু তার পেছনে দেশী-বিদেশী চক্রের কালো হাত ছিল খুবই দীর্ঘ এবং সুদূর প্রসারী। ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটে নির্মম হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে। যার ফলে বাংলাদেশের উন্নয়ন, বাংলাদেশের চলমান অগ্রগতি এবং প্রগতির চাকা শুধু আটকে যায়নি – বরং চলতে শুরু করে উল্টো দিকে। এতে লাভবান হয় প্রগতির বিরোধীরা, প্রগতির শত্রুরা, প্রতিক্রিয়াশীলরা এবং পরশ্রীকাতররা। আর বাঙালী জাতি হারায় তাঁর সূর্য সন্তান, তাঁর উন্নয়ন, তাঁর প্রগতির চাকা এবং বিশ্ব বিবেকের কাছে তার মান-সম্মান।

দেশী-বিদেশী চক্রের মদদে সেদিন বিপথগামী সেনা সদস্য এবং মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারী সাম্রাজ্যবাদিদের চক্রান্তের ফল স্বরূপ এ রাতে স্বশস্ত্র সেই লোকগুলো আক্রমণ করে দেশের রাষ্ট্রপতি হয়েও নিজের বাসায় অতি সাধারণ জীবনযাপনকারী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ৩২ নম্বার ধানমন্ডির বাসায়। হত্যা করে নিষ্ঠুর হিংস্রের মতো বঙ্গবন্ধু থেকে শুরু করে নিরাপরাধ নারী, নয় বছরের শিশু এমনকি অন্তঃসত্ত্বা মহিলা সহ অনেককে। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন নিষ্ঠুর এবং পৈশাচিক ঘটনা আর দ্বিতীয়টি আছে বলে আমাদের জানা নেই।

শত শত বছর ধরে বাঙালী জাতি শাসক-শোষক আর ঔপনিবেশিক নিপীড়ন, নির্যাতন আর পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থেকে তাদের নূন্যতম মৌলিক অধিকার সহ সকল কিছু থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছিলো। বাঙালির ঘোর অমানিশায় আলোর জ্যোতি নিয়ে আর মুক্তির সনদ নিয়ে পথ দেখাতে যে নক্ষত্রের জন্ম হয়, সে আলোকবর্তিকা, সেই জনকের প্রাণ এভাবেই হরন করা হয় নিষ্ঠুরভাবে। বাংলার আকাশে মেঘে ঢেকে দেয় সেই আলোকরশ্মিকে।

লেখকঃ মাহমুদুর রহমান
সাধারণ-সম্পাদক
নিউইয়র্ক মহানগর যুবলীগ, আমেরিকা।

UA-126402543-3