রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

কমলগঞ্জে যৌনহেনেস্থার শিকার ১৪ বছরের কিশোরী, গ্রেফতার ৩ কিশোর!



আসহাবুর ইসলাম শাওন, কমলগঞ্জ থেকে:: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কমলগঞ্জ পৌরসভা এলাকার ভানুগাছ বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে এক কিশোরী গৃহকর্মীকে(১৪) অপহরণ করে নিয়ে গণ ধর্ষণের পর রাতে রাস্তায় ফেলে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর সহায়তায় নির্যাতিতা কিশোরী গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে পুলিশ চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে। রাতেই পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ধর্ষক ৩ কিশোরকে আটক করেছে।

কমলগঞ্জ থানায় দায়ের করা ধর্ষনের শিকার কিশোরীর মা পারুল বেগম এর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ধর্ষিতা এই কিশোরী তার মায়ের সাথে পৌর এলাকার ভানুগাছ বাজারের ধানসিঁড়ি এলাকায় রফিক মিয়ার কলোনীতে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন। তার মেয়ে কমলগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জুয়েল তালুকদারের বাসায় গত ৭ বছর ধরে গৃহকর্মী হিসাবে কাজ করছিল।

গত ২৭ জুলাই শুক্রবার দিনে কাজ করে প্রতিদিনের ন্যায় একই এলাকার রফিক মিয়ার কলোনীতে মায়ের কাছে ফিরছিল। কিশোরীকে জোর পূর্বক সিএনজিতে তুলে নিয়ে উপজেলার আদমপুর এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানেই গভীর জঙ্গলের মধ্যেই সিএনজি গাড়িতে গণধর্ষণ করে। ধর্ষকরা কিশোরীকে গণধর্ষণের পর শুক্রবার রাতেই কমলগঞ্জ পৌরসভাধীন কিশোরীর বাড়ি ধানসিঁড়ি এলাকায় বাড়ীর পার্শ্বের রাস্তায় ফেলে যায়।

রাতেই এলাকার মানুষজন অবচেতনভাবে এই কিশোরীকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে কমলগঞ্জ থানার পুলিশকে অবহিত করলে কমলগঞ্জ থানার এ এসআই মোস্তফা মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশ রাত ৯ টায় কিশোরীকে উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। কিশোরীর বক্তব্য অনুযায়ী এ ঘটনায় জড়িত ৩ কিশোর কে শুক্রবার দিবাগত রাত ২ টায় তাদের বাড়ী থেকে আটক করে পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন- পশ্চিম বালিগাঁও গ্রামের আজাদ মিয়ার ছেলে বাবু মিয়া (১৬), বটতল গ্রামের আকরাম উল্ল্যার ছেলে মুমিন মিয়া (১৫) ও সিএনজি চালক ধলাইপার গ্রামের আদিল চৌধুরীর ছেলে সোহাগ মিয়া(১৭)। এ ঘটনায় মৃত মনা মিয়ার স্ত্রী ও ধর্ষিতার মা পারুল বেগম শনিবার (২৮ জুলাই) সকালে কমলগঞ্জ থানায় ৩ জনের নাম উল্লেখ করে ধর্ষন মামলা দায়ের করেছেন।

কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোক্তাদির হোসেন পিপিএম ৩ ধর্ষককে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন , আটককৃত ৩ ধর্ষককে শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমানে কিশোরীর ডাক্তারী পরিক্ষার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য জানতে, তাদের সাথে যোগাযোগ করলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ব্যপারে মামলার আয়ো কমলগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক সুরুজ আলী অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

UA-126402543-3