বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

জার্মানিকে বিদায় বললেন ওজিল



স্পোর্টস ডেস্ক:: জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ী দলের অন্যতম সদস্য মেসুত ওজিল মাত্র ২৯ বছর বয়সেই জাতীয় দলকে বিদায় বলে দিলেন। রাশিয়া বিশ্বকাপে দলের ব্যর্থতা ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সঙ্গে ছবি তুলে বিতর্কিত হওয়ার ঘটনা এর পেছনে নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০০৯ সালে জার্মানির হয়ে খেলা শুরুর পর ৯৩ ম্যাচে ২৩ গোল করেছেন এই তারকা মিডফিল্ডার। মে মাসে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর থেকেই জার্মানিতে মুন্ডুপাত চলছিল ওজিলের। তুরস্ক জার্মানির রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে সেটা যোগ করেছিল নতুন মাত্রা। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সফল করতেই ওজিল ও ইলকে গুন্ডোয়ান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট হাউজে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।

বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতেও ঘরের সমর্থকেরা ওই দুই খেলোয়াড়কে দুয়ো দিয়ে গেছেন। আর বিশ্বকাপ ব্যর্থতার অনেকটুকু দায় পড়েছে ওজিলের ঘাড়ে। দ. কোরিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়ার পর গ্যালারির সমর্থকদের সঙ্গে বাদানুবাদেও জড়িয়ে পড়েছিলেন ওজিল। কিন্তু এতোদিনেও তার কাছ থেকে এই ঘটনা সংক্রান্ত কোনো বিবৃতিই আসেনি। বিদায় বলার সময়ই মন খুলে কথা বলেছেন আর্সেনাল মিডফিল্ডার।

ওজিল বলেন, “আমি দুঃখের সাথে জানাতে চাই যে গত কিছুদিনের ঘটনার কারণে আমি আর জার্মানির জার্সি গায়ে না চড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার মনে হয়েছে আমি বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছি, আমাকে অসম্মান করা হয়েছে। আমি অনেক গর্ব নিয়ে জার্মানির জার্সি গায়ে চড়াতাম, কিন্তু এখন আর সেরকম মনে হচ্ছে না।”

জার্মানিতে জন্ম হলেও ওজিলের বাবা মা তুরস্কের। সেই সূত্রেই ওজিলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এর্দোয়ানের সঙ্গে দেখা করতে। জার্মানির হয়ে খেলার আগে তুরস্কের হয়েও খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন ওজিল। কিন্তু জার্মানিকে বেছে নিতে চান বলে তুরস্ককে না করে দিয়েছিলেন ২০০৬ সালে। এরপর ২০০৯ সালে জার্মানির হয়ে অনূর্ধ্ব-২১ বিশ্বকাপ জেতেন তিনি। পরের বছর খেলতে যান বিশ্বকাপ। সেখানেই তারকাখ্যাতি জোটে, ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির সোনালী প্রজন্মের অংশও ছিলেন ওজিল। ২০১০ থেকে সবগুলো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে শুরু থেকেই দলে থাকলেও সুইডেনের বিপক্ষে এবারই প্রথম বাদ পড়েছিলেন দল থেকে। বিশ্বকাপে ওই একটা ম্যাচেই জিতেছিল জার্মানি।

UA-126402543-3