রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

স্বাধীনতা দিবস এবং বর্তমান প্রজন্মের ভাবনা-আল-আমিন



স্বাধীনতা দিবস এবং বর্তমান প্রজন্মের ভাবনা

আল-আমিন

বাঙালির আত্মত্যাগ ও আন্দোলন সংগ্রামের সুদীর্ঘ রক্তাক্ত পথ অতিক্রম করে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা। দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধ সংগ্রাম মৃত্যু লাঞ্ছনা ও চরম আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাঙালিরা বিজয় লাভ করেছিল। স্বাকৃতি লাভ করেছিল লাল সবুজের একটি পতাকা, একটি গর্বিত সার্বভৌমত্ব। স্বাধীনতার দীপ্ত ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেই দিন নিপীড়িত ও বঞ্চিত বাঙালি জনগণের শোষন মুক্তির প্রত্যাশা অর্জনে পেয়েছিল এক নতুন দিক নির্দেশনা, নতুন মাত্রা। স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে বাঙালিরা একাট্টা হয়ে ঝাপিয়ে পড়েছিল ঐক্যবদ্ধ সশস্ত্র সংগ্রামে।
বাঙালির জাতীয় জীবনে স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ সবচেয়ে তাৎপর্য। স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করে স্বাধীন জীবনযাপন লাভের প্রত্যাশাকে বাস্তব রূপ ধারণ করার প্রয়াস ঘটিয়েছিল এদেশের মুক্তিযোদ্ধারা। বাঙালির প্রতিজ্ঞায় এবং সংগ্রামের অঙ্গিকারে উদ্দীপ্ত হয়ে বাঙালির আত্মপরিচয়ে গৌরবে উজ্জল মহিয়ান হয়ে উঠে নিপীড়িত বঞ্চিত ও শোষিত মানবের মুক্তির স্বপ্ন পূরণ করে স্বাধীনতার চেতনা মহিমায় অমর করেছিল।
জাতীয় ঐক্য এবং দেশপ্রেমের অনুভূতিতে স্বাধীনতা দিবস বাঙালির চেতনার অর্জিত সাফল্যের প্রেরণা। স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বাঙালি জাতি আনন্দে গৌরবে শ্রদ্ধায় উজ্জীবিত হয়। বর্তমান প্রজন্ম আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নিজেদের সফলতা এবং ব্যর্থতা দেখার চেষ্টা করে। আত্মজিজ্ঞাসায় জেগে উঠে। স্বাধীনতা শৃঙ্খল ও শোষনের গ্রাস থেকে নিজের মুক্তি শিক্ষা দেয়। আত্ম উন্নয়নের পথে স্বাধীন ভাবে অগ্রসর হওয়ার পথ দেখায়।
স্বাধীনতার শুভ অর্জন মূল্যায়ন করে স্বাধীনতার প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জনে এগুতে হবে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ মৌলবাদ দূর করে অসাম্প্রদায়িক মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে আজকের স্বাধীনতা দিবসের শপথ। দারিদ্র পীড়িত মানুষের অধিকার দুঃখ, ব্যর্থতা ও হতাশা দূর করে একটি অর্থনৈতিক নির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে তরুণ প্রজন্ম।
লাখো শহীদের অর্জিত স্বাধীনতা এবং লাল সবুজ মানচিত্রের জাতীয় পতাকা বর্তমান প্রজন্মকে শিক্ষা দিয়েছে “মা তোর বদনখানি মলিন হয়ে নয়ন জ্বলে ভাসি”। আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশে হাজার বছরের ঐতিহ্য আর জাতিসত্তা রয়েছে। আজ বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে স্বল্পন্নোত দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে ঘোষিত হয়েছে। প্রিয় মাতৃভূমি ৭৫ এর পর একাধিক অপশক্তি এবং সামরিক শাসনের হাতে জিম্মি হয়ে বিশ্বের কাছে দুর্নীতিপ্রবণ দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশ বিশ্বের নিকট অর্থনৈতিকভাবে মাথা উচু করে ঘুরে দাড়িয়েছে। ইহা আনন্দের। ভাললাগার । এদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা উজ্জীবিত নাগরিকগণ মাতৃভূমির এরূপ দর্শনে আনন্দিতও।
সম্পূর্ণভাবে ক্ষুধা, দারিদ্র, নিরক্ষতা, দুর্নীতি ও বেকারত্ব বিতাড়িত করে সুখী সমৃদ্ধ সৌন্দর্যময় বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বর্তমান প্রজন্মের। বর্তমান প্রজন্ম বিশ্বাস করে শোষনহীন একটি স্বাধীন দেশের একটি প্রগতিশীল স্বাধীন সমাজ ব্যবস্থার। স্বাধীনতার লক্ষ্যও ছিল এদেশের দুঃখী মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন। তরুণ প্রজন্ম বিশ্বাস করে দেশের উন্নয়ন শিক্ষা সংস্কৃতিকে। গণতান্ত্রিক চেতনাকে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থাকে শক্তিশালী করে প্রযুক্তি মূলধন ও কর্মসংস্থান তৈরীর উদ্যোগ গ্রহণ করে বেকারত্ব ও দারিদ্রে দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে সমৃদ্ধির শীর্ষে পৌছবে। শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাবলিল উৎপাদন রপ্তানী বানিজ্য বৃদ্ধি করে সম্পদের সুষম বণ্টন এবং অর্থনৈতিক ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে সম্পদের এবং অর্থের প্রবাহ স্থির করে অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। রাষ্ট্রের মৌলিক অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা, আইনগত সহায়তা, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি এবং রাজনীতিকদের পারস্পরিক সহনশীলতা সৃষ্টি করে স্বপ্নের স্বাধীনতাকে উজ্জীবিত করে সোনার বাংলাকে প্রজ্জ্বলন করার স্বপ্ন তরুণ প্রজন্মের।
আমাদের দেশের শিক্ষার মানকে যুগোপযুগী ও যথার্থ করে তুলে যুগের সাথে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। কাঙ্খিত বাংলাদেশে শতভাগ শিক্ষিত মানুষ থাকবে। শিক্ষার আলোয় আলোকিত সমাজে সুস্থ সংস্কৃতি ও মননশীলতার আবহ বিরাজ করার উপযোগী হবে। বাংলার উদার নৈতিক সমাজে মানুষ পাবে আত্মবিকাশে অনুকূল পরিবেশ। বাংলাদেশের সমাজ হবে প্রগতিশীল সমাজ, ধর্মীয় গোড়ামি ও কুসংস্কারমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। স্বপ্নের বাংলাদেশ কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি দৃঢ় ভিত্তির উপর দাড়িয়ে শিল্প প্রযুক্তি শীর্ষে উঠে শিল্পায়নের চূড়ায় দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগুতে থাকবে। প্রাকৃতিক সম্পদের যথার্থ ব্যবহারে গড়ে উঠবে নতুন নতুন শিল্প কারখানা। প্রতিটি মানুষের বেকারত্বের হাত হবে বলিষ্ঠ কর্মীর হাত। তখনই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করে তরুণ প্রজন্মকে মানব সম্পদে পরিণত করে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে উপলব্ধি করতে পারব।

আল-আমিন
লেখক ও সাহিত্যিক

UA-126402543-3