সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০ ২০
সিলেট ডেস্ক
২৭ সেপ্টেম্বর ২০ ২০
৫:০ ৮ অপরাহ্ণ
আদালতে এমসি কলেজের ছাত্রবাসে সেই রাতের লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন গৃহবধূ, ক্ষোভে ফুসছে সিলেট

সিলেটের এমসি কলেজে ধর্ষনের শিকার হওয়া গৃহবধূ সিলেট মহানগর হাকিম ৩য় আদালতে সেই রাতের লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। এসময় বিচারক ছিলেন বিচারক শারমিন খানম নিলা। রোববার দুপুরে নিজের সঙ্গে ঘটা জঘন্যতম এ বর্বর ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন নির্যাতিতা ওই গৃহবধূ। 
আদালত সূত্র জানায়, রোববার দুপুর ১টার দিকে ওসমানী হাসপাতাল থেকে নির্যাতিতা গৃহবধূকে সিলেট মহানগর হাকিম ৩য় আদালতে নিয়ে আসে পুলিশ। দেড়টার দিকে তিনি আদালতে ওই রাতের ঘটনার ব্যাপারে বিস্তারিত বর্ণনা দেন। আদালতে তার পুরো জবানববন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়।  
ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষোভে ফূসছে সিলেটের মানুষ। প্রতিবাদে উত্তাল রয়েছে সিলেটের রাজপথ। আজ রোববারও বিভিন্ন সংগঠন ধর্ষণকারীদের গ্রেফতার ও তাদের গডফাদারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে মাবববন্ধন করেছে। এদিকে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে ৩৬জন কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলরদের নিয়ে সিলেটের রাজপথে বিক্ষোভ করেছেন। 
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদে সরব রয়েছেন সিলেটের সচেতন মানুষ। এঘটনায় লজ্জিত সিলেট বাসী। ধর্ষণের ঘটনার কারণে সিলেট নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। যে কোন সময় জনবিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এমন শঙ্কায় বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীরা মানববন্ধন করতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার ধর্ষণের প্রতিবাদে ছাত্রদলের একটি বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের লাঠি চার্জের ঘটনাও ঘটেছে। এতে বেশ কিছু ছাত্রদল নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।  
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার এমসি কলেজে ঘুরতে আসা এক দম্পতিকে আটক করে জোর করে ছাত্রাবাসে তুলে আনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এরপর স্বামীকে বেঁধে মারধর করে তার স্ত্রীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে সাইফুরসহ অন্যরা। এ ঘটনায় নির্যাতিতা গৃহবধূর স্বামী শুক্রবার রাতে বাদি হয়ে শাহপরাণ থানায় মামলা করেছেন।
মামলায় এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে ৬ জনকে। সেই সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে আসামি করা হয়।
আসামিরা হলো এম. সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেক আহমদ, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান। এরা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আসামিদের মধ্যে তারেক ও রবিউল বহিরাগত, বাকিরা এমসি কলেজের ছাত্র।
এদিকে, এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে গণধর্ষনের ঘটনায় অন্যতম আসামী ছাত্রলীগ ক্যাডার এম. সাইফুর রহমানের পর পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে একই মামলার আসামী ধর্ষক অর্জুন লস্কর। রবিবার ভোর ৬টার দিকে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার মনতলা নামক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে সিলেট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
এর আগে রবিবার সকালে ছাতক খেয়াঘাট এলাকা থেকে ছাতক থানা পুলিশ গ্রেফতার করে মামলার প্রধান আসামী সাইফুর রহমানকে। সাইফুরের বাড়ি বালাগঞ্জ ও অর্জুনের বাড়ি জকিগঞ্জে।
 

সম্পর্কিত খবর

পুরানো খবর দেখার জন্য