সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০ ২০
লেখালেখি ডেস্ক
২৯ আগস্ট ২০ ২০
১২:২৪ অপরাহ্ণ
আশুরা ত্যাগের শিক্ষা দেয় আলী ফজল মোহাম্মদ কাওছার 

আরবি ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস হচ্ছে মহরম। মহরম মাসের ১০ তারিখকে আশুরার দিন বলা হয়। 
আরবি ‘আশারা’ শব্দের শাব্দিক অর্থ ১০ বা দশম। ইসলামের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় আশুরার দিনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে।  মহান আল্লাহ বছরের যে কয়েকটি দিনকে বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত করেছেন, তার মধ্যে আশুরা বা মহররমের ১০ তারিখ অন্যতম। 

আশুরার দিন যেসব তাৎপর্যময় ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল, সংক্ষেপে সেগুলো হলো—

১. এই দিনে আল্লাহ তা’আলা পৃথিবী সৃষ্টি করেন। আর এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।

২. এ দিনে হজরত আদম (আ.) বেহেশত থেকে দুনিয়ায় নেমে আসেন। মহররমের ১০ তারিখে আল্লাহ পাক আদম (আ.)-এর দোয়া কবুল করেন এবং এ দিনে তিনি স্ত্রী হাওয়া (আ.)-এর সঙ্গে আরাফার ময়দানে সাক্ষাৎ করেন।

৩. হজরত নুহ (আ.)-এর জাতির লোকেরা আল্লাহর গজব মহাপ্লাবনে নিপতিত হওয়ার পর ১০ মহররম তিনি নৌকা থেকে ঈমানদারদের নিয়ে দুনিয়ায় অবতরণ করেন।

৪. হজরত ইব্রাহিম (আ.) নমরুদের অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হওয়ার ৪০ দিন পর ১০ মহররম সেখান থেকে মুক্তি লাভ করেন।

৫. হজরত আইয়ুব (আ.) ১৮ বছর কঠিন রোগ ভোগ করার পর মহররমের এ দিনে আল্লাহর রহমতে সুস্থতা লাভ করেন।

৬. হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর পুত্র হজরত ইউসুফ (আ.) তার ১১ ভাইয়ের ষড়যন্ত্রে কূপে পতিত হন এবং এক বণিক দলের সহায়তায় মিসরে গিয়ে হাজির হন। তারপর আল্লাহর বিশেষ কুদরতে তিনি মিসরের প্রধানমন্ত্রী হন। ৪০ বছর পর ১০ মহররম পিতার সঙ্গে মিলিত হন।

৭. হজরত ইউনুস (আ.) জাতির লোকদের প্রতি হতাশ হয়ে নদী অতিক্রম করে দেশান্তরিত হওয়ার সময় নদীর পানিতে পতিত হন এবং মাছ তাকে গিলে ফেলে। মাছের পেট থেকে তিনি আল্লাহর রহমতে ৪০ দিন পর মুক্তি পান ১০ মহররম তারিখে।

৮. হজরত মুসা (আ.) ফেরাউনের অত্যাচারের কারণে তার দলবলসহ অন্যত্র চলে যান। পথে নীল নদ পার হয়ে তিনি ফেরাউনের হাত থেকে আশুরার দিন মুক্তি পান। আর ফেরাউন তার দলবলসহ নীল নদের পানিতে ডুবে মারা যায়।

৯. হজরত ঈসা (আ.)-এর জাতির লোকেরা তাকে হত্যা করার চেষ্টা করলে মহররমের ১০ তারিখ আল্লাহ পাক তাকে আসমানে উঠিয়ে নিয়ে মুক্তি দান করেন।

১০. মহররম মাসের ১০ তারিখ কারবালার বিয়োগান্ত ঘটনার অবতারণা হয়। এদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে ইমাম হোসাইন কারবালা প্রান্তরে শাহাদাতবরণ করেন।
আশুরা দিন উম্মতে মোহাম্মদির জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন । এই দিন আহলে বাইতের উজ্জ্বল নক্ষত্র আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কলিজার টুকরো জান্নাতে যুবকদের সর্দার হযরত হোসাইন (রা) কারবালার প্রান্তরে ইসলাম তথা নবী বংশের চরম শত্রু ইতিহাসের নিকৃষ্ট ব্যক্তি এজিদ বাহিনীর হাতে উনার পরিবার পরিজন সহ ৭২ জন শাহাদাত বরণ করেছিলেন। তাই এদিন হচ্ছে আমাদের শোকের দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বংশধরেরা নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিয়ে গেছেন কিন্তু অসত্যের কাছে মাথা নত করেননি। উনাদের ত্যাগ থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ জরুরী। এই শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা একান্ত প্রয়োজন। আহলে বাইত তথা নবী বংশের ভালোবাসা আমাদের ইমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই আসুন আমরা ১০ মহরম আমরা আহলে বাইতের জন্য দোয়া করি।  নফল রোজা রাখার চেষ্টা করি। উনাদের ভালোবাসি।  উনাদের ত্যাগ বাস্তব জীবনে প্রয়োগের চেস্টা করি। 

লেখকঃ চাকুরীজীবি ও কলামিস্ট

সম্পর্কিত খবর

পুরানো খবর দেখার জন্য