রবিবার, মার্চ ২৯, ২০ ২০
হবিগঞ্জ ডেস্ক
২০ মার্চ ২০ ২০
৪:৪৬ অপরাহ্ণ
চুনারুঘাটে প্রায় ৪'শ প্রবাসী দেশে ফিরেছে,  কোয়ারেন্টাইনে মাত্র ১০ জন

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি::  হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় গত ১৫দিনে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৪শত প্রবাসি দেশে ফিরেছেন। তারা দেশে ফিরেই দিব্বি বেড়ানোসহ পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। কেউই সরকারের এমন নির্দেশ মানছেন না। 

এদিকে গত বুধবার ১৮ মার্চ বিকেলে ইমিগেশন থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদেশ ফেরতদের তালিকা পাঠানোর জন্য জানা গেলে বিপুল পরিমান প্রবাসী এখন দেশে এসেছেন। অথচ তাদের মধ্যে মাত্র ২ জন কোয়ারেন্টাইনে ছিল। তালিকা আসার পরই উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছে এ তালিকা পাটিয়েছে। তাদের এলাকায় যারা বিদেশে থেকে এসেছেন তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনেরও দাবী জানান। 

এপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) পর্যন্ত বিভিন্ন ইউনিয়নে মাত্র ১০ জন হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় এসেছেন। এছাড়া বাকীদের ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ হন্য হয়ে খুজছেন। তাদের কাউকেই খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকের ফোন নং কল দিলেও তারা ধরছেন না বা অনেকের ফোন বন্ধ রয়েছে। এছাড়া অনেকের ঠিকানা গ্রাম দেওয়া আছে, কিন্তু তাকে ঐ গ্রামে খুজেঁ পাওয়া যাচ্ছেনা। এ অবস্থায় গত দুদিনে মাত্র ১০ জনকে কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা গেছে। 

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আমরা তালিকা পাওয়ার পর পরই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছে পাঠিয়েছি। তাদের সহযোগিতায় সকল বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনার চেষ্ঠা চলছে। তবে চুনারুঘাটে যারা বিদেশ থেকে এসেছে তাদের মধ্যে ইতালি কিংবা ইরান ফেরত কেউ নেই। তাদের অধিকাংধ দুবাই, বাহরাইন, সৌদিআরব, ফ্রান্স, ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের রয়েছে। 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সত্যজিত রায় দাশ জানান, আমরা বিদেশ ফেরতদের তালিকা পেয়েছি এবং তা দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে যাচাই বাচাই করে তাদেরকে কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনার চেষ্ঠা করছি। 

উপজেলা স্বাস্থ্য  ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোজাম্মেল হোসেন বলেন, (১৯ মার্চ) বৃহস্পতিবার  আমরা ১০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় এনেছি। আমাদের উপজেলায় প্রায় ৪০০ জনের একিটি বিদেশ ফেরত তালিকা পেয়েছি। আমরা আমাদের নিজস্ব স্বাস্থ্যকর্মী ও হেলথ প্রোভাইটরদের মাধ্যমে এবং ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সকলকে চিহ্নিত করার চেষ্ঠা করছি। তিনি বলেন, মানুষ সচেতন নয়, এবং অনেকেই লজ্জায় এর আওতায় আসতে চাইছে না। তিনি জানান, তাদের চিহ্নিত করার পর কেউ না আসলেও আমারা আইনের মাধ্যমে তাদেরকে কোয়ারেন্টাইনে আনবো।

Related Posts