বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৬, ২০ ২০
হবিগঞ্জ ডেস্ক
১৯ মার্চ ২০ ২০
৯:০ ৬ অপরাহ্ণ
চুনারুঘাটে এই প্রথম সূর্যমুখীর চাষে সফলতার আশা

এম এস জিলানী আখনজী, চুনারুঘাট:: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় এই বৎসর প্রথমবারের মতো সূর্যমুখীর চাষে সফলতার আশা রয়েছে, হলুদ ফুলের সৌরভ ছড়াচ্ছে এ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম গুলোতে। গাছে গাছে ফুটেছে হলুদ রঙের ফুল। প্রতিদিন বিকেলে শহরসহ আশপাশ এলাকা থেকে সৌন্দর্য পিপাসুরা দল বেঁধে আসেন সূর্যমুখীর প্রদর্শনী দেখতে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এবারই প্রথম উপজেলার সদর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ২শত বিঘা জমিতে কৃষকরা সূর্যমুখীর আবাদ করেছেন।

সরেজমিনে উপজেলার সদর ইউনিয়নের নরপতি ও শাইলগাছসহ বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে সূর্যমুখীর বাগান, এলাকায় হলুদের রাজ্য। চারদিকে হলুদ ফুলের মনমাতানো রূপ। প্রতিটি বাগানে মৌমাছির দল গুনগুন শব্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর চুনারুঘাট উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রথমবারের মতো তেল ফসল হিসাবে হাইব্রিড হাইসান-৩৩ জাতের সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার, অন্যান্য উপকরণ, প্রশিক্ষণ ও নগদ অর্থ দেয়া হয়েছে।

সদর ইউনিয়নের নরপতি গ্রামের সূর্যমুখীর চাষী ছুরুত আলী জানান, আগে এই মৌসুমে তার জমি পতিত রাখতেন অথবা বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করতেন। এবার প্রথমবারের মতো ২ বিঘা জমিতে হাইসান-৩৩ জাতের সূর্যমুখীর চাষ করেন। ইতোমধ্যে প্রতিটি গাছে ফুল ধরেছে। তিনি আশা করেন সূর্যমুখী চাষে সফলতা আসবে, লাভবান হবেন তিনি। একই গ্রামের কৃষক রনি মিয়া জানান, প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে লোকজন আসে তার সূর্যমুখীর প্রদর্শণী দেখতে। তিনি বলেন আগে এই জমিতে অন্যান্য ফসল চাষ করতাম, এবার প্রথমবারের মতো ৩ বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছি।  আশা করি লাভবান হব।

উপ-সহকারী কৃষি অফিসার সৈয়দ সাইদুর রহমান বলেন, আমার ব্লকে এ এলাকার জন্য নতুন ফসল সূর্যমুখী, ৩০টি প্রদর্শনী স্থাপন করছি, প্রত্যেকটি প্রদর্শনীরই অবস্থা ভালো, ফলনও আশা করি ভালো হবে। তিনি আশা করতেছেন আগামীতে এই প্রদর্শনীকে অনুসরণ করে এই ব্লকের অনেক কৃষক সূর্যমুখী চাষ করবেন, যাতে আমাদের দেশের তেলের ঘাটতি পূরণে অবদান রাখবে। 

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন সরকার বলেন, প্রথমবারের মতো চুনারুঘাটের চাষিরা তেল ফসল হিসাবে সূর্যমুখীর আবাদ করেছেন, এ বছর ২শ বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর করা হয়েছে। সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ করতে উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আমাদের রাজস্ব বাজেট এবং প্রণোদনার আওতায় আমরা এখানকার কৃষকদেরকে বিনামূল্যে বীজ, সার, অন্যান্য উপকরণ, প্রশিক্ষণ ও নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছে। আশা করি ফলন ভালো হবে, আগামীতে আরও বেশি জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হবে এবং এগুলো দেখে অন্যান্য কৃষকরাও উদ্বুদ্ধ হবেন। এতে করে দেশের তেলের ঘাটতি পূরণে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, আগে চুনারুঘাটের কৃষক সূর্যমুখীর আবাদ করতেন না, এবারই প্রথম চুনারুঘাট পৌর এলাকাসহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ২শত বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন।

সম্পর্কিত খবর

পুরানো খবর দেখার জন্য