বৃহস্পতিবার, জুলাই ৯, ২০ ২০
সিলেট ডেস্ক
১৮ মার্চ ২০ ২০
৩:২১ অপরাহ্ণ
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হচ্ছে: সিলেটে সাবেক অর্থমন্ত্রী

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বঙ্গবন্ধু সব সময় বলতেন- আমার দেশের মাটি ও মানুষ হচ্ছে প্রধান শক্তি। আমার দেশের মাটি উর্বর, মানুষ সৃজনশীল। এই মাটি ও মানুষ নিয়েই আমরা একদিন বিশ্বের কাছে মাথা উচু করে দাঁড়াবো। আজ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলেছে দুর্বার গতিতে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। তাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসকে জানাতে হবে।

শনিবার দুপুর আড়াইটায় সিলেট জেলা স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ মহানগর আওয়ামী লীগের মুজিব শতবর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। 

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ইউনেস্কোর নির্দেশে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী সারা বিশ্ব পালন করছে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ৭১ সালের ৭ মার্চের সময় আমি সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সদস্য ছিলাম। সেই দিন বঙ্গবন্ধু যে ভাষন দিয়েছিলেন, তা শুধু আমাদের জাতির জন্য নয়, সারা বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ৭০ সালের নির্বাচনে বাংলার জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়। সংখ্যাগরিষ্টতা লাভ করে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়। কিন্তু পাকিস্তানীরা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা বসতে দেয়নি। বানচাল করার চেষ্টা করে। কিন্তু বাঙ্গালি জাতি তা মেনে নেয়নি। ৭ মার্চে রেসকোর্স ময়দানে বাঙ্গালি জাতি সমবেত হয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষন শুনে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেনের যৌথ পরিচালনায় সিলেট -১  আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সেদিন সবাই একাত্মতা ঘোষণা করেছিল। সবার একটাই দাবি ছিল, বাংলাদেশ স্বাধীন চাই, ন্যায্য অধিকার চাই। ৭১ সালের মার্চ মাসের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সংখ্যাগরিষ্টতা থাকার পরও পাকিস্তানীরা যখন সরকার গঠন করতে দেয়নি, তখন ৩ মার্চ সংসদে অধিবেশনের ডাক দেওয়া হয়। তখন ১ মার্চ তারিখ থেকে আমরা রাজপথে নেমে যাবে। আমি চাকরি ছেড়ে চলে আসি। ১০ মাস ১৯ দিন পর ১৯ ডিসেম্বর গোহাটিতে গিয়ে চাকরিতে আবার যোগদান করি। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- কি করা যায়? তখন সবাই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এক ছিল। তখন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের সাথে আমার সম্পর্ক ভাল ছিল। আমাদের তারা বললেন, তোমরা পল্টন চলে যাও। বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে সমাবেশ করবেন, ভাষন দেবেন। সেই ভাষন আজও কানে ভাসে। বাঙ্গালিরা সেই ভাষন শুনেই যুদ্ধের ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, আজকের এই দিন বাঙ্গালির জাতির জন্য এক ঐতিহাসিক দিন। বঙ্গবন্ধুর সেই কয়েক মিনিটের বক্তব্য দেশ স্বাধীনের অনন্য হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। দেশের মানুষের রক্তে যুদ্ধে তামামা গড়ে দিয়েছিল সেই বক্তব্য। সেই ৭ মার্চের বক্তব্য নিয়ে সারা বিশ্বে গবেষনা চলছে, চলবেও। সেই বক্তব্যই বাঙ্গালি জাতির জন্য স্বাধীনতা বয়ে আনে। 

এছাড়াও বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি  এডভোকেট লুৎফুর রহমান। বক্তব্য রাখেন সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ।

অনুষ্ঠানে ৭ ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত থেকে  বঙ্গবন্ধুর ভাষন যারা শুনেছেন তাদেরকে স্মারক সম্মাননা প্রদান করা হয়। 

স্মারক সম্মাননা  ভূষিত হোন বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবলুর হোসেন বাবুল, নিজাম উদ্দিন লস্কর ময়না, সাদ উদ্দিন আহমদ, মোশাররফ হোসেন, তোফাজ্জল হোসেন হেলাল, রফিকুল হক, মঞ্জু মিয়াঁ, হায়দার হোসেন চৌধুরী মুক্তা, এডভোকেট মইনুল ইসলাম, অধ্যাপক আলমগীর প্রমুখ।

আলোচনা সভাশেষে সিলেটের সংস্কৃতি কর্মীদের পরিবেশনায় চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্টান।
 

সম্পর্কিত খবর

পুরানো খবর দেখার জন্য