বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০ ২০
প্রবাস সংবাদ ডেস্ক
১৯ মার্চ ২০ ২০
৯:৫০ অপরাহ্ণ
করোনাভাইরাসে ইতালিতে বাংলাদেশীদের মধ্যে আতঙ্ক, আক্রান্ত হননি কোনো মুসলিম

মামুনুর রশিদ মামুন, ইতালি::  চীন থেকে সূত্রপাত হওয়া করনা নামক জটিল এই মরণব্যাধি ভাইরাসটি পৃথিবীতে যেমন মহামারী পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তেমনি বিশ্বের শীর্ষাক্রান্ত দেশগুলোর মধ্যে তিন নাম্বার তালিকায় রয়েছে ইউরোপের দেশ ইতালি। যদিও এ থেকে সুস্থ হচ্ছেন শতাধিক মানুষ। কিন্তু দিনপ্রতি সংক্রমন কিংবা মৃত্যুর সংখ্যা যেন বেড়েই চলছে। সেক্ষেত্রে জনমনে অনেকটা ত্রস্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সেজন্য গত ৫ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত দেশটির সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করেছে সরকার। যত্রতত্র গোলযোগ কিংবা অনুষ্টানাদি ছাড়াও একান্তে আলিঙ্গন, চুমু ও হ্যাঞ্চিক না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশীরাও যেন এক মহা আতঙ্কে জীবনযাপন করছেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশী কিংবা মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে কেউ আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু আক্রান্ত না হলেও বাংলাদেশীদের মধ্যে বাড়তি গুজব ছড়ানোতে আতঙ্কটা একটু বেশিই বিরাজ করছে।

এদিকে, দেশটিতে সৃষ্ট এ মহাপরিস্তিতির নিষ্পত্তি ও জনজীবন সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে তড়িত বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহন এবং পর্যবেক্ষণে রয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সরকারী হিসাব অনুযায়ী দেশটির মেডিকেল বোর্ডের বিশেষ পর্যবেক্ষনে চিকিৎসার ফলে সংক্রামিত ৩৮৫৮ জনের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৪১১ জন, তার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৪৮ জনের।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানী রোমের সিভিল প্রটেকশন সদর দফতরে "এস্তিতো সুপেরিওরে ডি সানিতারিয়া'র পরিচালক অ্যাঞ্জেলো বোরেলি এবং সিলভিও ব্রুসাফেরো ইতালীয় এক জাতীয় গনমাধ্যম ফ্যানপেজ'কে বলেন, ১১৫৫ টি বাড়ি বিচ্ছিন্নতায় রয়েছে। এগুলোর মধ্যে সাধারন লক্ষণের কারণে ১৯০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। লক্ষণগুলির মধ্যে নিবিড় পরিচর্যা করা হয়েছে। এতে সংক্রামিত প্রায় ১০%। তারা আরো বলেন, এই মহামারীতে আক্রান্ত অঞ্চলগুলির মধ্যে লম্বার্ডি (মিলান) রাজ্য শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। যেখানে সংক্রমণের সংখ্যা ৫৪% রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়াও এমিলিয়া রোমংয়া এবং ভেনেটোসহ কিছু রাজ্য অধিকাক্রান্তের তালিকায় রয়েছে। তাছাড়া লাৎছিও, কাম্পানিয়াসহ একাধিক রাজ্য আক্রান্তের তালিকায় রয়েছে। এগুলিতে ৬৬ থেকে ৯৪ বছর বয়সের লোকেরা বেশিরভাগই বিভিন্ন প্যাথলজিসহ আক্রান্ত হয়েছেন।

জনমানুষের সুরক্ষায় নিবিড় পরিচর্যা জোরদার করার পরিকল্পনাটি ইতিমধ্যে কার্যকর রয়েছে বলে সরকারী স্বাস্থ্য সংস্থা বিভাগের পরিচালক অ্যাঞ্জেলো বোরেলি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, "অধিকাক্রান্ত লম্বার্ডি (মিলান) রাজ্যস্থ হাসপাতালগুলোতে যে সমস্ত কাজ করা হয়েছে সেগুলিতে কোনও সমালোচনামূলক সমস্যা নেই। পর্যাপ্ত নতুন সরঞ্জাম কেনা হয়েছে এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দ্বারা সকল আক্রান্তদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চিকিৎসা পরিচালনা করা হচ্ছে।

সম্পর্কিত খবর

পুরানো খবর দেখার জন্য