সোমবার, মে ২৫, ২০ ২০
মৌলভীবাজার ডেস্ক
২০ মার্চ ২০ ২০
৪:৩০ পূর্বাহ্ণ
কুলাউড়ায় শিরনী বিতরণে সংঘর্ষে ২ নারীসহ আহত ৬

শরীফ আহমেদ,মৌলভীবাজার:: জেলার কুলাউড়ায় মসজিদের শিরনী বিতরণের সময় কথা কাটাকাটির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ  হলে ২ নারীসহ ৬জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের কৌলা গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে।  মুহুর্তেই ঘটনার খবর পুরো এলাকায়  জানাজানি হলে স্থানীয়রা বেশ আতংকের মধ্যে রয়েছেন। তাদের আশংকা ঘটনাটির মিমাংসা না হলে ওই সূত্র ধরে ফের আরো বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয়রা এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশ প্রশানের সহযোগিতা চেয়েছেন। 
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের কৌলা এলাকার নজাতপুর গ্রামে সপ্তাহখানেক পূর্বে  কৌলার আত্তর আলীর পিতা ক্বারী শফাত আলী মৃত্যুবরণ করেন। ওই  কুলখানি উপলক্ষে নজাতপুর জামে মসজিদসহ কয়েকটি মসজিদে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মিলাদ শেষে শিরনী বিতরণের সুবিধার্থে মসজিদের পাশে একটি মাঠে শিরনী বিতরন করা হয়। শিরনী বিতরণের সময়  ওই এলাকার ক্বাজী আজির উদ্দিনের ছোট ভাই জসিম উদ্দিন মধ্য কৌলা গ্রামের  বাসিন্দা ফুল মিয়ার ছেলে পায়েল মিয়া (১৪) কে লাইনে দাঁড়াতে বলে। একপর্যায়ে জসিম ধাক্কা দিয়ে পায়েলকে লাইনে বসায়। বিষয়টি পায়েল তার বাবাকে জানায়। এরপর ফুল মিয়া বিষয়টি জসিমের কাছে জানতে চাইলে জসিম ফুল মিয়ার সাথে তর্কে জড়ায় এবং একপর্যায়ে তাকে মারধর করে। পরে আজির উদ্দিনের পরিবারের লোকজন ফুল মিয়ার পরিবারের লোকজনকে ধাওয়া করে। পরে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। 
সংঘর্ষে গুরুতর আহতের মধ্যে ফুল মিয়া, তাঁর স্ত্রী আয়জুন বেগম (৪০), ছেলে পায়েল মিয়া (১৪), মেয়ে সিমলা বেগম (১৮) ও চাচাতো ভাই আজাদ মিয়া (৪০)। ফুল মিয়ার স্ত্রী আয়জুনের বাম হাতের ক্ববজি  ছুটে গেছে এবং মেয়ে সিমলার কপালে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। অপরদিকে আজির উদ্দিনের চাচাতো ভাই সুহেল মিয়া আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কুলাউড়া  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ফুল মিয়ার পরিবারের সদস্যদের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। খবর পেয়ে কুলাউড়া থানার উপ পরিদর্শক (এস আই) আব্দুর রহিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। 
রাউৎগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল জামাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,শিরণী নিয়ে  দু’পক্ষের সংঘষের্র খবর শুনে বিষয়টি দ্রুত উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করেছি। 
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ইয়ারদৌস হাসান বলেন, শিরনী নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষের খবর শুনে তাৎক্ষনিক পুলিশ ফোর্সকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।  
 

সম্পর্কিত খবর

পুরানো খবর দেখার জন্য