বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০ ২০
লেখালেখি ডেস্ক
১৭ মার্চ ২০ ২০
১০ :১৬ পূর্বাহ্ণ
মুসলিম চৌধুরীর ‘নানা দেশ নানা মানুষ’ গ্রন্থের নতুন সংস্করণ বাজারে

ভাষাসৈনিক, শিক্ষাবিদ মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী’র ভ্রমণবিষয়ক গ্রন্থ ‘নানা দেশ নানা মানুষ’ আবারও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এটি গ্রন্থটির তৃতীয় সংস্করণ। পাওয়া যাচ্ছে সিলেটের বইপত্র, বাতিঘরসহ দেশের অভিজাত লাইব্রেরিসমূহে। গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল প্রায় ৬০ বছর আগে। ১৯৯৩ সালে লেখকের সুহৃদ আব্দুল খালিকের ব্যক্তিগত আগ্রহ ও উদ্যোগে বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশের ছাব্বিশ বছর পর এই গ্রন্থের তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশ করেছে দেশের খ্যাতনামা প্রকাশনা সংস্থা উৎস প্রকাশন। 
মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী সিলেটের সন্তান। ভাষাসৈনিক, শিক্ষার প্রসার ও উন্নয়নে ব্রতী মুসলিম চৌধুরী ১৯০৬ সালের ২২ এপ্রিল সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ছৈলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করে তিনি একে একে শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেন। সিলেটের প্রথম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা থেকে বিভাগীয় স্কুল পরিদর্শক হিসেবে তিনি কর্মজীবন থেকে অবসর নেন।
মহান ভাষা আন্দোলনে রয়েছে তার অসামান্য অবদান। ভাষাসৈনিক মুসলিম চৌধুরীই বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে পাওয়ার দাবি আদায়ে সর্বপ্রথম পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তিনি সর্বপ্রথম রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে প্রবন্ধ রচনা করেছিলেন। দেশবিভাগের মাত্র দু’মাসের মাথায় ১৯৪৭ সালের নভেম্বরে কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাধারণ সভায় ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’ শিরোনাম প্রবন্ধটি তিনি উপস্থাপন করেন। সফল সংগঠক মুসলিম চৌধুরী ১৯৭০ সাল থেকে মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ঢাকাস্থ জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন এই মহান ব্যক্তিকে মরণোত্তর সম্মাননাও প্রদান করে।
‘নানা দেশ নানা মানুষ’ ছাড়াও মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরীর প্রকাশিত অন্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে প্রসঙ্গ বিচিত্রা, ইতিহাস শিক্ষা প্রণালী, আরেক মহসীন, উজ্জ্বল এক পায়রা, চাইল্ড অউন বুক অব স্টোরিস। তিনি ‘ইসলামের মর্মকথা’ নামে আবুল হাশিমের ‘দি ক্রিড অব ইসলাম’ গ্রন্থের অনুবাদও করেন। ১৯৯৪ সালের ২৩ জুন মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী ইন্তেকাল করেন।
এদিকে গ্রন্থটির তৃতীয় সংস্করণে মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরীর সর্বকনিষ্ঠ সন্তান সাংবাদিক চৌধুরী মুমতাজ আহমদ লিখেছেন, ‘নানা দেশ নানা মানুষ’ গ্রন্থের ভূমিকা লেখার কথা ছিল সৈয়দ মুজতবা আলীর। তিনি লেখককে বলেছিলে- ‘পত্রিকায় বইয়ের আগাম বিজ্ঞপ্তি দাও, আর লিখে দাও সৈয়দ মুজতবা আলী ভূমিকা লিখেছেন।’ কিন্তু ঠিক এরকম সময়ে ১৯৬৫ সালের ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হওয়ায় সব ওলট পালট হয়ে যায়।
লেখক গত শতাব্দীর ষাটের দশকের শেষদিকে অর্থাৎ আজ থেকে ষাট দশকেরও আগে ভারত, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রে সংক্ষিপ্ত ভ্রমণের রসগ্রাহী বর্ণনা দিয়েছেন এই বইয়ে। ইতিহাসের ছাত্রের দৃষ্টিতে দেখা দিল্লী-আগ্রা, একজন শিক্ষাবিদের দৃষ্টিতে দেখা সে সময়কার যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থা কিংবা নেহাৎ একজন পর্যটকের দৃষ্টিতে দেখা সেসময়ের প্যারিস এ যুগের পাঠকের কাছে। কৌতুহলোদ্দীপক হবে আশা করি। বিলেতে প্রথম প্রজন্ম সিলেটিদের সম্পর্কে তাঁর পর্যবেক্ষণ সামজিক গবেষকদের সহায়ক হবে। এই সংস্করণে কিছু পুরনো পদ্ধতির বানান সংশোধন ও গ্রন্থটির পর্ব বিভাজন করা হলো।

সম্পর্কিত খবর

পুরানো খবর দেখার জন্য