শনিবার, এপ্রিল ৪, ২০ ২০
সিলেট ডেস্ক
২০ মার্চ ২০ ২০
৪:২২ অপরাহ্ণ
কানাইঘাটে ৬ মাসে বেপরোয়া মটর সাইকেল  চালানোর কারণে মৃত্যু ৮ জনের 

আলিম উদ্দিন, কানাইঘাট:: সিলেটের কানাইঘাটে মটর সাইকেল দূর্ঘটনায় গত ৬ মাসে মৃত্যুবরণ করেন ৮ জন। এদের মধ্যে বেপরোয়া ভাবে মটর সাইকেল চালানোর কারণে ৬ জন ও বেপরোয়া চালকের মটর সাইকেলের ধাক্কায় ২ জন মৃত্যুবরণ করেন। এ ছাড়া গত ৬ মাসে মটর সাইকেল এক্সিডেন্ট করে আরো অন্তত অর্ধ শতাধিক চালক গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আবার অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। 
জানা যায়, গত ৬ মাসে বেপরোয়া চালকের মটর সাইকেলের ধাক্কায় মৃত্যুবরণ করেন উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপির আগফৌদ গ্রামের জুনেদ আহমদ (১০), লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপির খুকুবাড়ী গ্রামের হাবিবুর রহমান (৬০)। এছাড়া বেপরোয়া ভাবে মটর সাইকেল চালনার কারণে মৃত্যুবরণ করেন লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউপির ছোটফৌদ গ্রামের ওয়েছ আহমদ (৩০), দিঘীরপার পূর্ব ইউপির লামার শাহপুর গ্রামের সালমান আহমদ (২৪), লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউপির ডাউকেরগুল গ্রামের হুনা মিয়া (৩৫), দিঘীরপার পূর্ব ইউপির লামার শাহপুর গ্রামের রাসেল আহমদ (২৭), ভালুকমারা গ্রামের শামিম আহমদ মুন্না (২৪) ও হিম্মতের মাটি গ্রামের মিজান আহমদ (২২)।  
এবিষয়ে আলাপকালে কানাইঘাট উপজেলা সমাজ কল্যাণ পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহমদ মাসুম বলেন, একটি দুর্ঘটনা সারাজীবনের কান্না। কারণ মটর সাইকেল দুর্ঘটনায় একটি ছেলে বা মেয়ে মারা গেলে বা পঙ্গুত্ব বরণ করলে এর কষ্ট সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয় তার পরিবারকে, যেটা আমি কিছুদিন আগে আমার ভাগনা শামিম আহমদ মুন্না মটর সাইকেল দূর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর আমি অনুভব করেছি। তিনি বলেন, আমাদের অভিভাবক মহলকে এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া উচিত যেন আমার ভাগনা শামিম আহমদ মুন্নার মত আর কোন অভিভাবক কষ্ট না পান।
সড়কের বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ছাত্রনেতা আল মাহমুদ ছাবিল বলেন, উঠতি বয়সের ছেলেরা বেপরোয়া মোটর সাইকেল চালানোর কারণে এসব মৃত্যু হচ্ছে। এছাড়া অনেকে মোটর সাইকেল এক্সিডেন্ট করে আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করছে। তিনি বলেন, এবিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া উচিত। কারণ ছেলেদের মোটর সাইকেল কিনে দিয়ে নিয়মিত তাদের খোঁজ খবর না রাখায় তারা অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠে। এছাড়া বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে প্রতিযোগীতা করে মটর সাইকেল চালানোর কারণে মৃত্যুবরণ করে অনেকে।
সচেতন মহল জানান, কানাইঘাটে মটর সাইকেল চালকরা হেলমেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, রোড পারমিট ও কাগজপত্র বিহীন অবস্থায় বেপরোয়া ভাবে চালানোর কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে চালকদেরকে। এছাড়া কানাইঘাট থানা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের নজরদারী না থাকায় মটর সাইকেল চালকরা যাত্রীদের নিয়ে বেপরোয়া ভাবে যাতায়াত করেন। যার কারণে উপজেলার সীমান্ত এলাকার রাস্তাঘাটে প্রায়ই ঘটছে মারাত্মক ঘটনা-দুর্ঘটনা। আর এসব ঘটনা-দুর্ঘটনায় অনেকেই গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন।
কানাইঘাট ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট পিএসআই হাবিবুর রহমান বলেন, কাগজপত্র, হেলমেট, কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কোন মটর সাইকেলের চালক রাস্তাঘাটে পেলে আমরা তাদের মটর সাইকেল আটক করে মামলা করি। তিনি বলেন, হাইওয়ে রাস্তা ছাড়া মটর সাইকেল চালকদের ব্যাপারে চেকপোস্ট বসানো যায়না। তাই এই সুযোগে সীমান্ত এলাকার অতি উৎসাহী কিছু চালক বেপরোয়া ভাবে যাত্রী নিয়ে মটর সাইকেল চালায়। আমরা এসব চালকদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।
 

Related Posts