শনিবার, আগস্ট ৮, ২০ ২০
মৌলভীবাজার ডেস্ক
১৫ মার্চ ২০ ২০
৫:৩৭ পূর্বাহ্ণ
একুশে পদকপ্রাপ্ত আব্দুল জব্বারের জন্মভূমি কুলাউড়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমূখর

শরীফ আহমেদ ও মোঃ নাজমুল ইসলাম, কুলাউড়া:: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর বাংলাদেশ কৃষকলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাবেক এমপি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম  সংগঠক মরহুম আব্দুল জব্বারের জন্মভূমি কুলাউড়ার জনসাধারণের কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা এখন পঞ্চমূখর। বৃহত্তর সিলেটের ত্যাগি ও ক্লিন ইমেজের এই নেতা আব্দুল জব্বারকে মহান মুক্তিযুদ্ধে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসরকারী সম্মাননা (মরণোত্তর) ‘একুশে পদক’ প্রদান করায় কুলাউড়ায় সর্বস্তরের মানুষ এখন শুধুই বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। তাঁরা বলছেন সরকার সঠিক গুণী ব্যক্তিকে এই পদক দিয়ে সম্মানিত করায় কুলাউড়াবাসি গৌরবান্বিত।  
গত ২০ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অমর একুশে ফেব্রুয়ারি এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রাক্কালে আব্দুল জব্বারের পুত্র ও প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার আবু জাফর রাজুর হাতে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসরকারী সম্মাননা ‘একুশে পদক’ (মরণোত্তর) তুলে দেন। 

একুশে পদক পাওয়ার খবর কুলাউড়ায় ছড়িয়ে পড়লে আব্দুল জব্বারকে নিয়ে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকান্ড স্মৃতিচারন করতে গিয়ে কুলাউড়ার ভাষা সংগ্রামী কমরেড আব্দুল মালিক এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ১৯৬২ সালে আব্দুল জব্বার ৮ম শ্রেনীর ছাত্র থাকাকালীন সময় শিক্ষা আন্দোলনের জন্য জেলে যান। জেল থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি সিলেটের ডাঃ চঞ্চলের মাধ্যমে ছাত্রলীগে যোগ দেন। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে জাতীয় রাজনীতিতে দায়িত্বপালন করেন। তিনি আরো বলেন আব্দুল জব্বারসহ আমরা কুলাউড়ায় আয়ূব বিরোধি  আন্দোলনসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাজ পথে প্রতিবাদী ছিলাম। আমার এই সহকর্মীকে এই পদক প্রদান করায় আমি আনন্দিত।  

মরহুম আব্দুল জব্বারের রাজনৈতিক সহকর্মী কুলাউড়ার সাবেক এমপি উপজেলা আ’লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল মতিন এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন,আব্দুল জব্বার ছিলেন একজন সৎ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে দেশ স্বাধীন করতে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে জীবন বাজি রেখে সেই দিন অস্ত্র হাতে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট এই ত্যাগি নেতাকে  (মরণোত্তর)‘একুশে পদক’ প্রদানের মাধ্যমে জননেত্রী শেখ হাসিনা সঠিক মূল্যায়ন করেছেন। 

কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রেনু বলেন, ১৯৬২ সালে আয়ূব খানের শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রামসহ দেশকে স্বাধীন ও আওয়ামীলীরে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বার বার কারাবরণ ও নির্যাতিত হন মরহুম আব্দুল জব্বার। স্বাধীনতা ও ৭৫ পরবর্তী সময়ে কুলাউড়া উপজেলায় আওয়ামীলীগের দুর্দিনের কান্ডারী এই নেতা একুশে পদকে মূল্যায়িত হওয়ায় কুলাউড়াবাসি গর্বিত।

কুলাউড়া পৌর মেয়র প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা শফি আলম ইউনুছ বলেন, মরহুম আব্দুল জব্বার ছিলেন রাজনৈতিকভাবে পরিচ্ছন্ন। তিনি আওয়ামীলীগকে সুসংগঠিত করতে গিয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে সাহসিকতার সহিত সাংগঠনিক দায়িত্বপালন করেছেন। কুলাউড়ার এই কৃতি পুরুষ বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত আদর্শের কর্মী ছিলেন।   

কুলাউড়ার প্রবীন রাজনিতীবিদ সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মহিউদ্দিন হোসেন বলেন, আব্দুল জব্বারের সাথে আমি উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী হয়ে অংশ নিয়ে পরাজিত হই। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি ছিলেন একজন বরেণ্য ব্যক্তি। ভালো কাজ করেছিলেন বলেই তিনি তারঁ কর্মের গুণে আজ এই মরণোত্তর একশে পদক পেলেন। সাধারণ মানুষ আজও তাঁর বিভিন্ন অবদানের কথা মনে রাখছে।

কুলাউড়া উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মইনুল ইসলাম সবুজ বলেন আব্দুল জব্বারের রাজনৈতিক অবদান ও গুনাগুণ  ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। তিনি (মরণোত্তর) একুশে পদক পেয়েছেন সেটি আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ বর্তমান প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা যোগাবে।      

কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান একুশে পদক (মরণোত্তর) প্রাপ্ত আব্দুল জব্বার পুত্র আসম কামরুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আমার পিতা আমৃত্যু সততার সহিত রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। আ.লীগ সভাপতি  ও প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা ও সরকারের সংশ্লিষ্ট সকলকে পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আব্দুল জব্বারের এই আর্জন বৃহত্তর সিলেটের গর্ব। 

উল্লেখ্য,প্রতি বছরের ন্যায় দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসরকারী সম্মাননা ‘একুশে পদক’ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ২০ ব্যক্তি এবং এক প্রতিষ্ঠানের মাঝে আব্দুল জব্বারকেও ‘একুশে পদক-২০২০ প্রদান করা হয়।  মরহুম আব্দুল জব্বার ’৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬ এর ছয়-দফা, ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০ এর নির্বাচন ও ’৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও রণাঙ্গণের যোদ্ধা এবং স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। 

এছাড়া তিনি কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সভাপতির পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে কেন্দ্রীয় কমিটি, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং ঘাতক নির্মূল কমিটি, কুলাউড়া থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক (১৯৬৪) ছিলেন। আমৃত্যু বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে,আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য জেল-জুলুম নির্যাতন উপেক্ষা করে বাংলার গণমানুষের মুক্তির লক্ষ্যে কাজ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর প্রতিবাদ করার কারণে তিনি দুইবার কারারুদ্ধ ছিলেন। প্রথমবার জেল থেকে মুক্তি পেয়ে পূনরায় সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করলে পুনরায় ঈদুল আযহার রাতে গ্রেফতার হন। জেলের অভ্যন্তরে বঙ্গবন্ধুর প্রধান খুনি মেজর নুর অমানুষিক নির্যাতন করে এবং হত্যার জন্য উদ্ধৃত হয়। সেই সময় তৎকালীন সেনা অফিসার, পরবর্তীতে রাষ্ট্রদূত প্রয়াত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আমিন আহমেদ চৌধুরী তাঁকে উদ্ধার করেন। আব্দুল জব্বার ১৯৭৯ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে জাতীয় সংসদ সদস্য এবং পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯২ সালের ২৮ আগস্ট মাত্র ৪৭ (১৯৪৫-১৯৯২) বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।


 

সম্পর্কিত খবর

পুরানো খবর দেখার জন্য