মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০ ২০
সিলেট ডেস্ক
২০ মার্চ ২০ ২০
৩:৩১ অপরাহ্ণ
ওসমানীনগরে আপন ভাইদের বিরুদ্ধে প্রবাসীর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ 

স্টাফ রিপোর্ট:: মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের দাপট দেখিয়ে ছোট ভাইয়ের টাকা ও সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন ওসমানীনগর উপজেলার চরইসবপুরের প্রেমানন্দ দাস বৈষ্ণবের ছোট ছেলে পুলিন্দ্র মজুমদার কাজল। সিলেট প্রেসকাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন।  লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ৩৫ বছর ধরে ওমানে বসবাস করে আসছি। ওমানে যাওয়ার পর থেকে আমার কষ্টার্জিত প্রায় কয়েক কোটি টাকা আমার বড় ভাই পবিত্র মজুমদারের কাছে বিভিন্ন মাধ্যমে পাঠিয়েছি। আমার পাঠানো টাকা দিয়ে তিনি জায়গা সম্পত্তি ক্রয় করেন এবং বাড়িতে ভবন তৈরি করেন। প্রবাসে থাকাবস্থায় বড় ভাই ও তার এবং তার স্ত্রীর নামে-বেনামে জায়গা ক্রয় করেন। এমনকি পৈত্রিক সম্পত্তির জটিলতা নিরসনে আমার কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা আনলেও জটিলতা নিরসন না করে সেই টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি। আমার কাছে জায়গা বিক্রি করার কথা বলে আমার মেঝো ভাই মনিন্দ্র মজুমদার আমার কাছ থেকে আড়াই লক্ষ নেন। ওই জায়গা আমি ভোগ-দখল করে আসছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি সেই জায়গা রেজিস্ট্রি করে দিচ্ছেন না। 
তাদের বিরোদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করে তিনি বলেন, গত ১৬ আহস্ট আমি দেশে আসার পর আমার বড় ভাই পবিত্র মজুমদার, মেঝো ভাই মনিন্দ্র মজুমদারসহ তাদের সন্তানরা আমার কাছে বিভিন্ন ভাবে কয়েক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি টাকা দিতে অপারগতা দেখিয়ে আমার বড় ভাইর নিকট বিদেশ থেকে আমার পাঠানো টাকার হিসাব চাই। তিনি আমাকে টাকার হিসাব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন- আমি কোনো টাকা দেব না, আমি মুক্তিযোদ্ধা, আমি সব করতে পারি, আমার সাথে বেশি বাড়াবাড়ি করতে এসো না। বাড়িতে আসার পর দেখি আমার অংশের জায়গা এবং গোয়ালাবাজার সংলগ্ন গ্রামতলায় আমার ক্রয়করা বাড়ি থেকে কয়েক লক্ষ টাকার গাছ জোর পূর্বক বিক্রি করেছেন। প্রতিবাদ করলে আমার বড় ভাই পবিত্র মজুমদার, ভাতিজা পংকজ কান্তি মজুমদার কৃষ্ণ, মেঝো ভাই মনিন্দ্র মজুমদার তার পুত্র মৃনাল কান্তি মজুমদার (কান্ত) সংঘবদ্ধভাবে আমাকে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। জানমালের নিরাপত্ত্বার কথা চিন্তা করে আমি সিলেট শহরে ভাড়াটে বাসায় উঠি। 
মুক্তিযোদ্ধা খেতাবের প্রভাব কাটিয়ে মুরব্বীদের কথা অমান্য করার অভিযেগ করে তিনি বলেন, এসব ঘটনায় আমি গ্রামের মুরব্বীয়ান ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিচার প্রার্থী হই। তারা আমাকে ভাই-ভাতিজাকে অনুদান হিসাবে কিছু টাকা দেয়ার জন্য বলেন। জনপ্রতিনিধির সম্মানে আমি আমার বড় ভাইকে ১লক্ষ ৩০ হাজার টাকার চেক দেই। কিন্তু আমার ভাই মুক্তিযোদ্ধা খেতাবের প্রভাব কাটিয়ে ওই সাবেক জনপ্রতিনিধির কথাও রাখেননি। বার বার মুরব্বীদের কথা অমান্য করে আমিসহ আমার পরিবারকে নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। 
এখন তাকে তার বাড়িতেও উঠতে দেওয়া হচ্ছেনা বলেও অভিযোগ করেন সংবাদ সম্মেলনে। তার সম্পত্তি আত্মসাতের জন্য নানা প্ররণা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। 
তিনি বলেন, আমার ভাই প্রবিত্র মজুমদার ও মনিন্দ্র মজুমদারসহ তাদের ছেলেরা হঠাৎ সিলেট বাসায় অবস্থান করে আমার কাছে দেড় লক্ষ টাকা দাবি করলে আমি টাকা দিতে অনিহা প্রকাশ করি। এসময় তারা আমার ক্ষতি সাধণ ও আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বাসা থেকে চলে আসে। পরের দিন আমি জরুরী কাজে গ্রামের বাড়িতে আসলে দেখতে পাই আমার ভাই ভাতিজারা আমার মালিকাধীন পুকুরের মাছ লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে। এসময় আমি তাঁদেরকে বাঁধা দিলে ভাই-ভাতিজারা সঙ্গবদ্ধ হয়ে দেশী অস্ত্র নিয়ে আমার উপর হামলা ও মারধর করে। এই ঘটনায় আমি থানায় গিয়ে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরবর্তীতে থানা পুলিশের কথা মতো লিখিত অভিযোগ দিলেও অজ্ঞাত কারণে পুলিশ তা আমলে নেয়নি। এই ঘটনাটি আড়াল করতে আমার বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধার ক্ষমতা দেখিয়ে উল্টো আমার নামে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে থানা পুলিশসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে হয়রানি করে আসছেন। তাদের ভয়ে আমি পরিবার রেখে প্রবাসী যেতেও ভয় পাচ্ছি। এ অবস্থা থেকে মুক্তি  পেতে তিনি আইন প্রয়োগকারি সংস্থাসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে- ওসমানীনগরের চরইসবপুর গ্রামের মন্টু মিয়া, লাল মিয়া মিয়া, শিক্ষক নেতা অজিত কুমার পাল, ইর্শাদ উল্যা, এরশাদ উল্যা, ওয়ারিছ মিয়া, নজির মিয়াসহ পুলিন্দ্র মজুমদারের পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।  

সম্পর্কিত খবর

পুরানো খবর দেখার জন্য