বুধবার, আগস্ট ৫, ২০ ২০
আইন-অপরাধ ডেস্ক
১৮ মার্চ ২০ ২০
২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
মুজিব বর্ষ  পালন করার সু-ভাগ্য হবে কি সিলেট জেলা ছাত্রলীগের?  

ফাহাদ হোসাইন::  প্রায় তিন বছর ধরে কমিটি নেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সিলেট জেলা শাখার। কমিটি না থাকায় বিচ্ছিন্নভাবে নেতাকর্মীরা দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিলেও অস্তিত্ব হারাচ্ছে ছাত্রলীগের সিলেটের শক্তিশালী এই ইউনিটটি। আর দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না হওয়ায় সংগঠনের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন কর্মীরা। কেউ কেউ হতাশ হয়ে দেশ ছেড়ে বেছে নিচ্ছেন প্রবাসযাত্রার পথও। অনেকেই যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন পেশায়। জেলা ছাত্রলীগের সর্বশেষ কমিটি গঠন করা হয় ২০১৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর। শাহরিয়ার আলম সামাদকে সভাপতি ও এম. রায়হান চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে সে সময় গঠন করা হয় ১০ সদস্যের আংশিক কমিটি। পরের বছর ২০১৫ সালের ৪ ডিসেম্বর আরো ১৩১ সদস্য যোগ করে ১৪১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন পায়। এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পর থেকেই প্রকাশ্যে দুটি পক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়ে জেলা ছাত্রলীগ। ঘটে সংঘর্ষ এবং একাধিক উত্তেজনাকর ঘটনা। যার ফলে মাত্র চার মাসের মাথায় ২০১৬ সালের ২৫ মার্চ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করে কেন্দ্র।

কমিটি স্থগিত হওয়ার পর বেশকিছু দিন শান্ত ছিল জেলা ছাত্রলীগ। তাই প্রায় ৯ মাস পর ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর কমিটির ওপর থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের সাথে নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সম্মেলন আয়োজনের জন্য তারিখ নির্ধারণে নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কিন্তু সম্মেলন করতে ব্যর্থ হয় সামাদ-রায়হান নেতৃত্বাধীন কমিটি। এরপর সংগঠন বিরোধী কয়েকটি কার্যকলাপে জেলা ছাত্রলীগের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় বিব্রত হয় কেন্দ্রীয় সংসদ। ২০১৭ সালের অক্টোবরে ছাত্রলীগ কর্মী ওমর মিয়াদ হত্যা মামলায় জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক এম. রায়হান চৌধুরী প্রধান আসামী হন। এর জেরে ওই বছরের ১৮ অক্টোবর কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।

একইসাথে নতুন কমিটি গঠনের জন্য ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সভাপতি সাধারণ সম্পাদক পদে জীবনবৃত্তান্ত আহবান করেন তারা। সে সময় সিলেট জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৃজন ঘোষের কাছে সভাপতি পদে ৬০ ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৮০টিসহ তিন শতাধিক জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা পড়ে। কিন্তু সিভি নিয়েও কমিটি করতে পারেনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এরপর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ২৯তম সম্মেলনের আগে সিলেটের কমিটি করার জোর চেষ্টা করেন ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সিলেটের ছেলে এস এম জাকির হোসাইন। কিন্তু স্থানীয় নেতাদের এক করতে না পারায় সিলেটের কমিটি দিতে পারেন নি তিনি। এর ফলে ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে গত দেড় বছর কমিটি ছাড়াই চলছে সিলেট জেলা ছাত্রলীগ। আর জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ছাড়াই অতিবাহিত হয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।

প্রত্যেকটি নির্বাচনেই ছাত্রলীগের কমিটি না থাকার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে বলে বিভিন্ন সময় উল্লেখ করেছেন সাবেক ছাত্রনেতারা। সাবেক ছাত্রনেতারা বলছেন, জেলা ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্রমেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন। তাদেরকে ঘিরে ধরছে হতাশা। ফলে রাজনীতির পথ ছেড়ে অন্য পথেই হাঁটছেন তারা। অতীতে, অভ্যন্তরীণ নানা কোন্দল এবং সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরোধের কারণে নতুন কমিটি আলোর মুখ দেখছে না। আর একাধিকবার কমিটি গঠনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ায় নতুন করে সিলেট জেলা কমিটি গঠনে উদ্যোগ নেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগেরও।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন ছাড়াই ছাত্রলীগের দুই দিনব্যাপী ২৯তম জাতীয় সম্মেলন শেষ হয়। পরে ৩১ জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি এবং গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠিত হয়। কিন্তু বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর শোভন-রাব্বানীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রথম সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান জয়কে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এর আগে ২০১৫ সালের ২৬ ও ২৭ জুলাই সম্মেলনের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন সাইফুর রহমান সোহাগ ও এসএম জাকির হোসেন। তারও আগে ২০১১ সালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। আর ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন মাহমুদ হাসান রিপন ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন।

ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আল নাহিয়ান খান জয় এবং লেখক ভট্টাচার্যকে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগ আয়োজিত সংগঠনের সাবেক নেতাকর্মীদের পুনর্মিলনী থেকে তাদের ভারমুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব দেন ছাত্রলীগের অভিভাবক শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের শুরুতে ফ্লোর নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলীয় সভাপতির কাছে আবেদন করেন, ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ভারপ্রাপ্ত, নেত্রী এ কথাটি কেমন শোনায়। আজ এ মঞ্চ থেকে তাদের পূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে ভারপ্রাপ্তের ভার মুক্ত করা যায় কিনা বিবেচনা করবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী সভাপতির বক্তব্য শুরু করেন। বক্তব্যের শেষে জয় এবং লেখককে ভারপ্রাপ্ত থেকে পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বলেছেন, জয়-লেখককে ভারমুক্ত (ভারপ্রাপ্ত) করা যায় কিনা? আমি বলছি, আজ থেকে এদের ভারমুক্ত করে দিলাম। যাও তোমরা (লেখক-জয়) এখন থেকে ভারমুক্ত। এর আগে নানা অনিয়মের অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে অপসারণ করা হয়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রেীয় কমিটির বৈঠকে সিনিয়র সহসভাপতি আল নাহিয়ান জয়কে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং ১ম যুগ্ম সাধারণ।

এই বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ব্যবহারিত মুঠোফোনে কেন্দ্রীয় বার বার ফোন দেওয়া হলে রিসিভ করেন নি। তবে বিষয়টি নিয়ে আলাপ হয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগে সদস্য (সিলেট) রাহেল সিরাজের সাথে। তিনি প্রতিবেদককে জানান, কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ দায়িত্বে পাওয়ার পরপরই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের নির্বাচন শুরু হয়ে যায়। সে কারণে দেশব্যাপী সাংগঠনিক কোন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয় নি। তবে এই বিয়য়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে আলাপ আলোচনা ক্রমে আগামী মাসে সিলেট ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হবে।
 

সম্পর্কিত খবর

পুরানো খবর দেখার জন্য