বুধবার, ডিসেম্বর ২, ২০ ২০
সিলেট ডেস্ক
১৬ মার্চ ২০ ২০
৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশ বিমানের বিরুদ্ধে যাত্রী হয়রানি ও  পরিকল্পিতভাবে টিকিটের মূল্য বৃদ্ধির অভিযোগ

বাংলাদেশ বিমানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে যাত্রী হয়রানি এবং টিকিটের মূল্য বাড়ানোর অভিযোগ করেছেন বৃটিশ বাংলাদেশি ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ। সোমবার দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেললন করে তারা এ অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সামাউন। 
তিনি বলেন,  বাংলাদেশ বিমান প্রবাসী বাংলাদেশের কাছে প্রথম পছন্দের এয়ারলাইন্স। কিন্তু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বর্তমানে ব্রিটেনে বসবাসরত সিলেটি প্রবাসীদের কাছে একটি সমস্যার নাম। বিশেষ করে জানুয়ারি মাসে পৃথিবীর সকল এয়ারলাইন্স যেখানে অর্ধেক ভাড়া কমিয়ে দেয় সেখানে বাংলাদেশ বিমান ভাড়া বাড়িয়ে তা দ্বিগুণ করে দেয়। হিথ্রোতে বিমানের চাহিদা অনেক বেশি থাকার পরও ম্যানচেষ্টারে ৩৬৫ সিটের তিনটি এয়ারক্রাফট দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি পরিকল্পিতভাবে যাত্রী হয়রানির জন্য এবং টিকিটের মূল্য বাড়ানোর জন্য এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই টিকেট যেখানে আমিরাত এয়ারলাইন্স হিথ্রো থেকে ঢাকা ৪৫০ পাউন্ড আর কাতার এয়ারলাইন্স মাত্র ৫০০ পাউন্ড সেকানে বিমানের টিকিটের মূল্য ৯০০ পাউন্ড থেকে ৩ হাজার ১’শ পাউন্ড। 
তিনি হয়রানির অভিযোগ করে বলেন, জানুয়ারী মাসে ভাগ্নির বিয়েতে অংশ নিতে পরিবারের ১৫ সদস্য নিয়ে বাংলাদেশ বিমানে আসতে চাই। বিমান অফিসে যোগাযোগ করলে বলা হয় মার্চ মাস পর্যন্ত কোন টিকেট নাই। ট্রাভেল এজেন্টের সাথে যোগাযোগ করলে হলে বলা হয়, ইকোনমি ক্লাসের টিকেট নাই, বিজনেস ক্লাসের টিকেট আছে। তিনি জানান, এমন ঘটনা ঘটেছে সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মোসাহিদ ও সহসভাপতি মো. আব্দুল হান্নানের বেলায়ও। তবে দেশে ফিরে ঢাকা বিমানবন্দরে আন্তরিক সেবা পেয়ে তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন এবং বিমান প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলীকে ধন্যবাদ জানান। 
একটি চক্র বিমান বাংলাদেশকে যাত্রীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে জানিয়ে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমানে যাত্রী সেবার জন্য মোট ১৮ টি এয়ারক্রাফট রয়েছে। উন্নত যাত্রী সেবার উদ্দেশ্যেই এ সংযোজন বলে আমরা মনে করি। এছাড়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিমান অবদান রাখছে। বিমানের অসাধু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের জন্য বিমান বারবার সমালোচনার মুখে পড়ছে এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। টিকিট চাইলেই নাই। অথচ বিমানে উঠলে দেখা যায় সিট খালি। ঘুষ দিলে একদিন আগের টিকিটও মিলে। ঘুষ না দিলে ৪ মাসেও টিকেট মিলেনা। প্রভাবশালীরা ঘরে বসেই টিকিট পান। তিনি বলেন নতুন প্রজন্ম যদি এ রকম হয়রানির শিকার হয়, তবে তারা দেশ বিমুখ হয়ে পড়বে। 
নতুন প্রজন্মের কথা চিন্তা করে সেবার মান বাড়ানোর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরুধ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির রাজধানী হচ্ছে সিলেট। ১০০০/১২০০ যাত্রী প্রতিদিন সিলেট বিমানবন্দরে আসা যাওয়া করেন।  নানা কারনে দীর্ঘদিন থেকে ব্রিটেনের সাথে সিলেটীদের সম্পর্ক দৃঢ়। ব্রিটেনের লোকজন ও নিয়মিত সিলেটে বেড়াতে আসেন। অথচ সিলেটে নামেমাত্র একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে। যেখানে আন্তর্জাতিকের কোন ছোঁয়া নেই। ২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল আমরা এভাবেই সিলেটে সংবাদ সম্মেলন করে দাবী তুলেছিলাম রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য। তৎকালীন বিমানমন্ত্রী ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে সিলেটে এসে আপনাদের সাথে মতবিনিময় করে ঘোষণা দিয়েছিলেন আগামী ২ বছরের মধ্যে রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ শেষ হবে। অথচ এখনো কাজই শুরু হয়নি। মূল কথা হচ্ছে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে  যথেষ্ট সম্প্রসারিত আছে। এখানে বিমান অবতরনের সকল সক্ষমতা রয়েছে। পৃথিবীর অনেক দেশে আরো ছোট বিমানবন্দরে আর্ন্জাতিক সার্ভিস চালু রয়েছে। সন্ধ্যা ৭ টার পর কোন ডমেষ্টিক ফ্লাইট নেই। অথচ ঢাকার পর দেশের এটিই সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর। সিলেট থেকে হঠাৎ করেই ফ্ল্যাই দুবাইয়ের সার্ভিস বন্ধ করা হল। এটা নিয়ে যাওয়া হল চট্্রগ্রামে। বিশেষ করে ফ্ল্যাই দুবাইয়ে কানাডা, যুক্তরাজ্যের এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের যাত্রীরা দুবাই এসে সরাসরি সিলেটে যেতে পারতেন। অত্যন্ত সূলভ মূল্যে উন্নত সেবা নিয়ে যাত্রীদের নিকট খুব কম সময়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল ফ্ল্যাই দুবাই। আমরা ফ্ল্যাই দুবাই বন্ধের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে যাত্রীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে আবারো ফ্ল্যাই দুবাইর কার্যক্রম শুরুর দাবী জানাচ্ছি। 
সংবাদ সম্মেলনে তারা আগামী ১ বছরের মধ্যে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পূর্ণাঙ্গরুপে আন্তর্জাতিক মানের না হলে সিলেটের প্রবাসীরা কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলেও জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মকসুদ ইবনে আজিজ লামা, সহসভাপতি মো. আব্দুল হান্নান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুসাহিদ প্রমুখ।


 

সম্পর্কিত খবর

পুরানো খবর দেখার জন্য