রবিবার, জুলাই ১২, ২০ ২০
লেখালেখি ডেস্ক
১৯ মার্চ ২০ ২০
১১:৪০ অপরাহ্ণ
সিলেট বইমেলায় ফুরফুরে মনে সাহিত্যপ্রেমীরা

সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে অষ্টম দিনের মতো বইমেলা  জমজমাট ভাবে চলছে।  মেলায় প্রতিদিন শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী আর অশীতিপর বৃদ্ধ সাহিত্যপ্রেমীদের ভিড় বাড়ছে। কেউ পাঞ্জাবি-ফতোয়া, কেউ শাড়ি, বাটিক কাপড়ের পোশাক পরে আসছেন। তরুণীরা মাথায় কালো-লাল টিপ পরছেন; হাতে রেশমি চুড়ি আর মাথায় ফুলের টায়রা পরে আসছেন। মেলায় এসে তাদের মন ফুরফুরে হয়ে যাচ্ছে। শনিবার বিকেলে মেলায় গিয়ে দেখা যায়, মেলায় পথে পথে প্রিয় লেখক আর বই নিয়ে অনেকের আগ্রহ। অনেকে ভিড় জমান পছন্দের স্টলে।

সুনামগঞ্জ থেকে আসা দুইজন পাঠক ইমাদ উদ্দিন ও মাজহার আদনান বলেন, একটি বইমেলা শেষ হওয়ার পর আরেকটা বই মেলার অপেক্ষায় থাকি। মাসব্যাপী যদি সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে বইমেলা থাকতো, কতই না ভালো হতো। মেলায় এলে মন ফুরফুরে হয়ে যায়।

কবি ওয়াহিদ চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় প্রতিদিন একবার করে হলেও বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে বইমেলায় আসতাম। এখন বন্ধুবান্ধব সব বুড়ো হয়ে গেছে। একেকজন একেক জায়গায় আছে। তাই প্রতিবছর একবার হলেও পরিবার নিয়ে মেলায় ঘুরতে আসি। বইমেলায় এলে আগের দিনের কথা বেশ মনে পড়ে।

পাপড়ীর প্রকাশনার প্রকাশক কামরুল আলম বলেন, এবারের বইমেলায় কেমন জানি বেশি আনন্দ লাগছে। নিজের স্টলে বসে না থেকে বাইরে ঘুরতে মন চাচ্ছে। নতুন বই কিনে পড়তে ইচ্ছে হচ্ছে।

বইমেলা আয়োজন কমিটির সদস্যরা সচিব  বলেন, এবারের বইমেলায় শুরুতেই ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। এদিকে গতকাল শুক্রবার ও আজ শনিবার ছুটির দিন। তাই পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে বইমেলায় হাজির হয়েছেন সিলেটের বইপ্রেমীরা। বেলা ২টা থেকেই পাঠক, দর্শনার্থীরা মেলা প্রাঙ্গনে আসতে শুরু করেন। বই কেনা, ছবি তোলা, গল্প-আড্ডায় মেলা প্রাঙ্গণ মুখর করে রাখেন বইপ্রেমীরা।

অষ্টম দিনের মত চলছে সিলেট বইমেলা। শনিবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নগরীর চৌহাট্টাস্থ সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বইমেলা প্রাঙ্গণ বিশেষ করে সন্ধার পর মুখর হচ্ছে বইপ্রেমীদের পদচারণায়।

নগরীর বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্ধা মোবাশি^র আহমদ বলেন, মেলা শুরু হয়েছে ১ তারিখ থেকে কিন্তু ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণে আসতে পারিনি। আজ তাই ভাই ভাবিদের সাথে নিয়ে মেলায় এসেছি। বই কিনেছি, ছবি তুলেছি। অনেক ভাল লাগছে।

পঞ্চমবারের মত সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বইমেলা আয়োজন করেছে সিলেট বন্ধুসভা। বইমেলা সুন্দর করতে ও পাঠকদের বিনোদন দিতে সিলেট বন্ধুসভার রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সাহিত্য আড্ডা, আলোচনা সভা, শিশুদের আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, ফটোগ্রাফি ও সেল্ফি প্রতিযোগিতা ও নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন।

এদিকে পাঠক ও ক্রেতাদের আগমেন খুশি মেলায় আগত প্রকাশনা ও বই বিপনন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরতরাও। গত ৬ দিনের চেয়ে আজ বেশি বই বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তারা।

জসিম বুক হাউসের প্রোপাইটর জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা এই ছুটির দিনের অপেক্ষায় ছিলাম। কারণ ছুটির দিনে মেলায় দর্শনার্থীর পাশাপশি ক্রেতার সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়। গত ছয় দিনের চেয়ে আজই বেশি বিক্রি হয়েছে।

আজ মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে বিকাল সাড়ে চারটা থেকে। সিলেট বন্ধুসভার সভাপতি তামান্না ইসলামের সঞ্চালনায় । এছাড়া বইমেরায় প্রতিদিন সেলফি প্রতিযোগিতা রয়েছে। সেলফি বিজয়ীরা প্রতিদিন পুরস্কার পেয়ে বেশ উৎফুল্লবোধ করেন। গতকাল কবি ও লেখক এনামুল মুনিরের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম। আজ শনিবার সেলফিতে বাজিমাত করেছেন সাংবাদিক মবরুর আহমদ সাজু।

উল্লেখ্য, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা তিনটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত চৌহাট্টাস্থ সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মেলা চলবে। এই মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত। বইমেলায় এবারও সিলটিভি প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে নতুন বইয়ের খবর নিয়ে লাইভ দিবে। এছাড়াও প্রতিদিন মেলায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সাহিত্য আড্ডা, আলোচনা সভা, শিশুদের আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, ফটোগ্রাফি ও সেল্ফি প্রতিযোগিতা ও নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন।

মেলায় ঢাকা ও সিলেটের ২৪টি প্রকাশনা ও বই বিপনন প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা সংস্থা এবং বইয়ের বিপণনপ্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- প্রথমা, কথা প্রকাশ, উৎস প্রকাশন, অন্বেষা প্রকাশন, অ্যাডর্ন পাবলিকেশন,আদর্শ, বাবুই, চৈতন্য, নাগরী, বাসিয়া প্রকাশনী, শ্রীহট্ট প্রকাশ, ঘাস প্রকাশন, পা-লিপি প্রকাশন, পাপড়ি, এক রঙা এক ঘুড়ি, স্বরে ‘অ’, আহরার পাবলিশার্স, জসিম বুক হাউস, সাহিত্য রস প্রকাশনা, গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স, শাকিল বুক সেন্টার, সিলেট বুক সেন্টার, মারুফ লাইব্রেরি ও নাজমা বুক ডিপো। মুজিববর্ষ উপলক্ষে এবছর সিলেট বইমেলা উৎসর্গ করা হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে। মেলা আয়োজনে সহযোগিতা করছে সিলেট সিটি করপোরেশন।


 

সম্পর্কিত খবর

পুরানো খবর দেখার জন্য